রক্ষণশীল মেয়েরাও আজ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে

বোরকা পরা কয়েকজন নারী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাচ্ছেন – এই ছবিটি নিয়ে গতকাল থেকে ফেইসবুকে খুব আলোড়ন লক্ষ্য করলাম। বিরাট একটি সংখ্যা তাদের নিয়ে উপহাস করছেন, যেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই।

রক্ষণশীল মেয়েরাও যদি আজ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সেটা কি আশার কথা নয়? নাকি তারা জঙ্গিদের বৌ হলে আপনাদের ভালো লাগতো? তাদেরকে আউটকাস্ট না করে উৎসাহ দিয়ে এ লড়াইয়ে তাদেরকে অঙ্গীভূত করাই মুক্তচিন্তার প্রকাশ নাকি ধর্মব্যবসায়ীরা যেমন ইসলামকে কুক্ষিগত করে রাখে সেভাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী সংগ্রামকে কথিত সুশীলদের কুক্ষিগত করে রাখার চিন্তা কি মুক্তমনের প্রকাশ?

জঙ্গিবাদের ক্ষতির শিকার হবে গোটা জাতি। তাই এ ইস্যুতে গোটা জাতির ঐক্য সবাই কামনা করছেন। জাতির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছেলে মেয়ে যেমন আছেন তেমনি মাদ্রাসায় পড়া ছেলে মেয়েও আছেন। জাতীয় সংকট বিবেচনা করে সবাই যার যার মতো করে এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন। বাঙালি নীচ, তাদের নরকে পাহারাদার লাগে না – এমন কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। দাসত্বের যুগে সৃষ্টি করা হীনম্মন্যতার ইতিবৃত্ত পড়ে জেনেছি কীভাবে আমরা এত নীচু হলাম?

যখন বন্যা হয় তখন শিয়াল আর কুকুর, সাপ আর বেজি শত্রুতা স্থগিত রেখে আপৎকালীন বান্ধবে পরিণত হয়। আমাদের এই তথাকথিত শিক্ষিত উন্নত রুচিশীল বাঙালিরা জাতিকে ত্রাণ করার গুরুভার ‘কেবল এবং কেবলমাত্র’ নিজেদের কাঁধেই রাখতে চান, যেন অন্য কেউ ভবিষ্যতে এসে জাতিরক্ষার কৃতিত্ব (যদি রক্ষা হয়) দাবি না করতে পারে।

ডাস্টবিনে বিরিয়ানির প্যাকেট পড়ে থাকে আর কুকুরগুলো পাশেই কামড়া-কামড়ি করতে থাকে। ভাবখানা হচ্ছে – খাওয়া পরে, আগে শরিকদের তাড়িয়ে নেই। এভাবে দিন চলে যায়। আমাদের দিনও কি এভাবেই যাবে? এমন দিন কি আসবে না যেদিন জাতীয় সংকট মোকাবেলায় বোরকা পরা, শাড়ি পরা, সালোয়ার কামিজ পরা, জিন্স-টি শার্ট পরা সব মেয়ে একসাথে কাজ করতে পারবে, সনি, জি-বাংলার চরিত্রের মতো হিংসায় মুখ বিকৃত করে রাখবে না। কারণ ওটা সেক্যুলারিজমের শিক্ষা নয়।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *