কোন সত্যবাদীকেই তার সমসাময়িক কেউ ভালবাসেনাই কোনদিন

“সত্যবাদীকে সবাই ভালবাসে” — হাজার হাজার অযৌক্তিক প্রবাদের মতই পুরা ফালতু একটা কথা। কোন সত্যবাদীকেই তার সমসাময়িক কেউ ভালবাসেনি, কোনদিন বাসেনা। যুগে যুগে সমসাময়িক জনপ্রিয়তার ৯৮% ই ভণ্ড বা ভুয়া বা ফেইমসিকার।

গত ২৯ জুলাই ২০১৬, শুক্রবার ২৪১৫ বছর পর এথেন্সের আদালত সক্রেটিসকে সম্পুর্ণ নির্দোষ বলে রায় দিয়েছে।
প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে তরুণদের ভুলপথে চালিত করা ও ধর্মের অপব্যাখ্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সক্রেটিস এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছিলেন, যা দীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে পশ্চিমী সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করে আসছে। কিন্তু প্রাচীন গ্রিসের শাসকরা ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠী সক্রেটিসের তত্ত্বগুলি বুঝতে না পেরে তাকে হেমলক বিষপান করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়। মৃত্যুর আগে পালানোর সুযোগ পেলেও এথেন্স ছেড়ে বা নৈতিকতা ছেড়ে কোথাও যাননি তিনি; মাথা পেতে নিয়েছিলেন সেই শাস্তি।

তিনি সত্যিই দোষী ছিলেন কি না, সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য এথেন্সের ওনাসিস ফাউন্ডেশনের একটি আদালত ফের নতুন করে বিচারব্যবস্থার আয়োজন করেছিল যেখানে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। পৃথিবীর শুরু থেকেই চলে আসা এইসব কুবিচারের অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে প্রিথিবীময়, যাদেরকে পরে সম্পূর্ণ নির্দোষ তো বটেই বরং বৃহত্তর মানব ও পৃথিবীর কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে সারাটা জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এখানে এই মুহূর্তে মনে আসা কয়েকজনের নাম তুলে দেয়া হল
সক্রেটিসকে হেমলক খাইয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
এলান তুরিনকে প্রতিদিন একটু একটু করে বিষ খেতে বাধ্য করা হয়েছিল শাস্তি স্বরূপ।
টেসলাকে সমাজ ও নগর থেকে অনেক দূরে নির্বাসিত করা হয়েছিল।
গ্যালিলিওকে শাস্তিমুলকভাবে হাজতে পুরে রাখা হয়েছিল।
প্লেটো আর এরিস্টোটলকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
ইবনে খালদুন, আল মা আরীকে মৌলবাদীরা নির্যাতন করেছিল।
ব্রুনোকে খুন করা হয়েছিল আগুনে পুড়িয়ে।
একুইনাসকে রাজদণ্ড হিসেবে মেরে ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছিল।
পিথাগোরাসের কন্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
আরও কত দার্শনিক ও বিজ্ঞানীকে যে দেশান্তরিত করা হয়েছিল এবং এখনো করা হচ্ছে তার কয়টাই বা লিখা আছে ইতিহাসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *