ইয়েটসের তিনটি কবিতা


উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস, পুরোনো ইংরেজি ছন্দেই
যিনি পেয়েছেন সুখ, আশ্চর্য শোভাময় কবিতা
লিখেছেন। তাঁর কবিতা অনুবাদে প্রথম পড়েছি, তাতেই
ছিলো এক বিস্ময়। আধুনিক কবিতার জগতের এক মহান
প্রতিভা তিনি; আধুনিক কবিতার মহান এক কারখানা
থেকে বঞ্চিত হ’তে হয় তাঁর কবিতার ভাণ্ডারে না
গেলে। কী আছে তাঁর কবিতায়? সে-কথা পরেই একদিন
বলবো গুপ্ত গুহা থেকে। গুপ্ত গুহা হচ্ছে আমার ঘরটি।
যাই হোক, এই কবির প্রভাব কিন্তু দিগন্তস্পর্শী। বাঙলা
ভাষার মহান কবি জীবনানন্দ দাশ,-স্বপ্নময় যাঁর কবিতা,
অর্থবাদীরা যাঁর কবিতায় অর্থ খোঁজেন ফ্রয়েড এবং
আধুনিক মনস্তাত্বিকদের বিভিন্ন স্বপ্নতত্ব -ও মনস্তত্ব-
ব্যবহার ক’রে,-তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এই মহান
কবির তিনটি কবিতার অনেকটা আক্ষরিক ও সামান্য
ভাবানুবাদী অনুবাদ আমি করেছি এবং তা প্রকাশ
করছি এই ব্লগে:

স্বর্গীয় বস্ত্রের জন্যে তার কামনা

নকশা করা স্বর্গীয় বস্ত্র যদি থাকতো আমার,
যার রয়েছে স্বর্ণরঙা রৌপ্যরঙা আলোর কাজের
আচ্ছাদন,
রাত্রির এবং দীপ্র আলোর এবং আলোছায়ার
নীল আর ধূসর আর ঘন কালো কাপড় যেসব,
তাহলে তোমার পায়ের তলে দিতাম মেলে সে-কাপড়,
কিন্তু দরিদ্র আমি, আছে শুধুই স্বপ্ন আমার,
আমার সেই স্বপ্নই আমি ছড়িয়ে দিয়েছি তোমার
পদতলে,
ধীরে হেঁটে চলো তুমি কেননা পাড়িয়ে যাচ্ছো আমার
স্বপ্নগুলো।

কুলের আরণ্যিক রাজহংসীরা

তাদের শরৎকালীন সাজের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরা,
বনভূমির পথ শুকনো,
অক্টোবরের সন্ধ্যালোকের তলার জলরাশি
আয়না হয় একটি নীরব আকাশের,
ওই কুল ছাপানো জলের পাথরের উপরে উনষাট রাজহাঁস।

এ-পর্যন্ত এসেছে ঊনিশটি শরৎকাল
আমি গুনতে শেখার পর।
সম্পূর্ণ গোনার আগেই দেখতে পাই আমি
রাজহাঁসেরা সবাই হঠাৎ আবেগে ডাক ছেড়ে ঝাপটিয়ে
ডানা
ছড়িয়ে পড়ে চক্রাকারে ঘুরে ঘুরে বানানো
একটি ভাঙা বিশাল গোলকের মাঝে।

আমি দেখেছি ওই উজ্জ্বল প্রাণীগুলোকে,
এবং হৃদয় ব্যাথাতুর এখন।
সেই থেকে সব বদলে গেছে যখন শুনেছিলাম
সন্ধ্যালোকে সমুদ্রের এই উপকূলে
ধীরে হেঁটে যেতে যেতে আমার মাথার উপরে
তাদের ডানার ঘণ্টাধ্বনি।ঘণ্টাধ্বনি।

অক্লান্ত নীরব তারা মিথুনে মিথুনে,
তাদের বৈঠা যায় বন্ধুত্বসুলভ
শীতল জলের ভেতরে অথবা ওঠে বাতাসে;
বুড়ো হয়নি তাদের হৃদয় এখনো, আবেগ অথবা জয়
ঘোরে তারা রয়েছে যেখানে, যোগ দেয় তাদের
নীরবতায়।

কিন্তু এখন তারা ঘোরে নীরব জলে, রহস্যময়, চারুময়।
অনেক স্রোতের মধ্যে কোনটিতে করবে নির্মাণকাজ
তাদের,
কোন্ ডোবা অথবা হাওরের কিনারে, জুড়োতে মানুষের
চোখগুলো? যখন কোনো একদিনে ঘুম থেকে জেগে
দেখবো আমি তারা সবে উড়ে গেছে চ’লে?

তৈল এবং রক্ত

স্বর্ণ এবং ল্যাপিস ল্যাজুলাইয়ে বানানো সমাধির
ভেতর
পবিত্র মানব-মানবীর দেহ থেকে হয় নিঃসৃত
অলৌকিক তৈল, ভায়োলেটের কোমলতা।
কিন্তু পদদলিত করা কাদার বোঝার তলে রক্তে ভরা
ভ্যাম্প্যায়ারদের দেহগুলো শায়িত;
তাদের কাফন রক্তময় আর ঠোঁটগুলো সিক্ত।

৫ thoughts on “ইয়েটসের তিনটি কবিতা

  1. ইয়েটসের কবিতার অনুবাদ অত্যন্ত
    ইয়েটসের কবিতার অনুবাদ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। আরো কষ্টসাধ্য,যদি অনুবাদক হন ইংরেজি ভাষায় অদক্ষ। আমি এজন্যেই ভাবানুবাদকে কাজে লাগিয়েছি। পরে ইয়েটসের আরো কবিতা অনুবাদ করার ইচ্ছে থাকলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *