আয়ের সোর্স আউটসোর্সিং এ নতুন সম্ভাবনা

খণ্ডকালীন চাকরির ক্ষেত্রে বেতন ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার এবং পূর্ণকালীন চাকরির ক্ষেত্রে বেতন ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় হতে যাচ্ছে বিপিও সম্মেলন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কলসেন্টারে প্রায় ৩০০ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং’। বর্তমানে বাংলাদেশে বিপিও খাতে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের অর্ধেকই শিক্ষার্থী। তাঁরা কোনো না কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকেন। বাংলাদেশে কলসেন্টারসহ বিভিন্ন আউটসোর্সিং কম্পানিতে কাজ করছে প্রায় ৩০ হাজার তরুণ। আউটসোর্সিং বলতে শুধু কলসেন্টার আউটসোর্সিং নয়। টেলিকমিউনিকেশন, ব্যাংক, ইনস্যুরেন্স, হাসপাতাল, হোটেলের ব্যাক অফিসের কাজ, এইচআর, আইটি, অ্যাকাউন্টিং সব কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করার বিষয়টি সাধারণভাবে ‘বিপিও’ বলে পরিচিত। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কারণে দেশে কলসেন্টারের সংখ্যা বাড়ছে। তেমনি প্রতিনিয়তই বাড়ছে এই খাতে তরুণদের আগ্রহ। প্রতি মাসেই দেশের বিভিন্ন কল সেন্টারে কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সুবিধামতো সময়ে কাজের সুযোগ থাকায় এতে ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহটাও বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি হচ্ছে বিপিও খাত। সরকার আইসিটি সেক্টর থেকে ২০২১ সাল নাগাদ পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, আশা করা যায় তার সিংহ ভাগ অংশই আসবে বিপিও থেকে। বাংলাদেশে ‘বিপিও’ একটি নতুন সম্ভাবনার নাম। কারণ দেশে বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে ১০০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপিওর বাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ দখল করতে পেরেছে মাত্র ১৮০ মিলিয়ন ডলার! সুতরাং বিষয়টি স্পষ্ট যে বিপিও খাতে একটা বিশাল বাজার পড়ে আছে। পোশাকশিল্পের পরই বিপিও হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। আর একই সঙ্গে বেকার ও কর্মজীবীদের কাজের বিশাল ক্ষেত্র হতে পারে এটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *