গ্রিক মিথলজিঃ একটি সাধারণ জটিলতা।

মিথলজিতে আগ্রহী যে কারোরই বেশ বড়-সড় একটি জটিলতার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। আমি এই জটিলতাটির নাম দিয়েছি “নানা মুনির নানা মত জটিলতা”। মুলতঃ নানা মুনির দেয়া নানান বর্ণনা থেকে এই জটিলতাটির উদ্ভব বলেই এই নামকরণ। ইতিহাসের প্রায় সব প্রাচীন বিশ্বাসেই এই জটিলতাটি একটু-আধটু বিদ্যমান থাকলেও গ্রিকদের মিথটির অস্থি-মজ্জা সহ প্রায় সব ঘটনা ও চরিত্রই এই দোষে দোষী। অবশ্য এর পিছনে কারনও আছে। গ্রিকদের আদি বিশ্বাসগুলোর সাথে আমরা ব্যাক্তিগতভাবে বিভিন্ন সাহিত্য, চলচ্চিত্র অথবা ইতিহাসের মাধ্যমে পরিচিত হলেও সাধারনতঃ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার মূল উৎস হল বিভিন্ন সময়কার সাহিত্যিকদের রচিত বিভিন্ন কালজয়ী মহাকাব্য ও অন্যান্য আরো কিছু গ্রন্থ। এদের মধ্যে হেসিওড রচিত “থিওগনি” ও “ওয়ার্কস এন্ড ডেস”, হোমার এর “ইলিয়াড” ও “অডিসি”, ভার্জিল এর “ঈনীড” ও “জর্জিক্স”, ওভিড এর “মেটামরফোসিস” ও পরবর্তী সময়ের কিছু সাহিত্যিকের একত্র প্রয়াস “হোমেরিক হাইম” নামগুলো উল্লেখযোগ্য। এসব মহাকাব্য ও গ্রন্থে মিথলজিটির একই ঘটনার বর্ণনা বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে করেছেন। অনেক ঘটনার কারন হিসেবে তারা একেকজন একেকরকম প্রেক্ষাপটের অবতারণা করেছেন। প্রত্যেকটি লেখকই প্রায় সমসাময়িক ও তাদের রচনাগুলোও বিশ্ব সাহিত্যে বাড়াবাড়ি রকম এবং প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তাদের ভিতরে কোন একজনকে বাতিল করে অন্য এক জনকে সঠিক নির্ধারণ করা সম্ভব হয় নি। ফলে সবাইকেই সঠিক মেনে নিয়ে পরবর্তী সময়ের কবি-সাহিত্যিকরা তাদের নিজস্ব কাজগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই যে যার মত যাকে খুশি অনুসরণ করেছেন। এছাড়াও গ্রিক আর রোমান বিশ্বাসের মিশ্রণের ফলে সুত্রপাত হয়েছে কিছু অজনপ্রিয় হেঁয়ালির। আর এমন হাজারো কারন থেকেই গ্রিক মিথলজি পুরোপুরি জানতে চাওয়া মানুষের মেজাজ খারাপ করা এই অভিন্ন জটিলতাটির সৃষ্টি হয়েছে এবং যে কোন একটি প্লট ধরে এগিয়ে পরিপূর্ণভাবে এ মিথটি সম্পর্কে জানার আকাঙ্ক্ষাও মিথে পরিণত হয়েছে।

তবে আপনি যদি মিথলজি অথবা প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসের ছাত্র/ছাত্রী না হন এবং শুধুমাত্র রস আস্বাদন করার জন্যে মিথলজিতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে সুসংবাদ গ্রহণ করুন। ঘাবরাবার কোন কারন নেই। বরং আনন্দিত হতে পারেন এই ভেবে যে এসব বিখ্যাত সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে গ্রিক মিথলজি যতই বিস্তৃত হয়েছে এটির স্বাদ ততই বেড়েছে এবং প্রায় প্রতিটি গল্প ও কাহিনীতে এই স্বাদ আপনি অবধারিতভাবেই পাবেন সে আপনি যার বর্ণনাই পড়েন না কেন। সবগুলি বর্ণনাই ঐতিহাসিক এবং সবক’টিরই রয়েছে ব্যাপ্তিময় প্রেক্ষাপট। কোন নির্দিষ্ট ধারণা হয়ত একটু বেশী জনপ্রিয় এবং বেশী মানুষের দ্বারা গৃহীত হয়েছে আবার কোনটা হয়ত সেভাবে আলোড়িত হয় নি। তবে আগ্রহ কারতে অক্ষম এমন নীরস ধারণার উদাহরণ এখানে নেই বললেই চলে। তাই যখন যেটা সামনে পড়বে, পূর্বসূত্র ঠিক রেখে গোগ্রাসে শুধু গিলতে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *