‘চরিত্র গঠন’ রচনাটি পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত হোক

ছেলেবেলায় ‘চরিত্র গঠন’ এই নামে একটি রচনা পড়েছি। শব্দগুলো খুবই কঠিন ছিল। প্রতিটি শব্দ, বাক্য শিক্ষকবৃন্দ যত্ন নিয়ে বুঝাতেন। সাথে এটিও বলতেন, উত্তম চরিত্রের মানুষকে সকলে ভালোবাসে, তেমনি দুঃশ্চরিত্রকে ঘৃণা করে। রচনাটি পাঠ্য সূচীতে অাছে কিনা, দেখতে হবে। নাই মনে হয়, থাকলে কি অার নর্থ-সাউথ’র শিক্ষক জঙ্গি তৈরির দায়ে পুলিশের মেহমান হোন?

মানবিক মূল্যবোধের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম নাকি কিছুটা অবশিষ্ট অাছে তা বুঝতে হিমশিম খাই। প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বলেন তখন অাশার অালো দেখি। কিন্তু রাষ্ট্রপরিচালনায় তো তিনি একা নন। মানলাম তিনি সরকার প্রধান, তিনি নির্দেশ দিতে পারেন, বাস্তবায়ন করার যে প্রশাসন ব্যবস্থা অাছে তারা কতটা অান্তরিক, সেটিও দেখবার বিষয়।

পরিবার হচ্ছে বাচ্চাদের জন্য উত্তম বিদ্যাপীঠ , কিন্তু এই কথাটি কি অাজকাল অার সত্য? স্কুল এবং গৃহশিক্ষক হচ্ছে মূল ভরসা। ফলে শিক্ষক ও প্রাইভেট টিউটরের কি দায় পড়েছে অামার-অাপনার সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দেবার? প্রাইভেট টিউটর এই সময়ে অন্য একটি বাচ্চাকে পড়ালে তার সংসারে সচ্ছলতা অাসবে। এভাবেই শুধুমাত্র স্কুল, হোমওয়ার্ক, এক্সাম, এ+, গোল্ডেন- এ+ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। ছেলে-মেয়েরা চারপাশের মানুষ, জনবসতি সব ভুলতে বসেছে।

শিশুর নিজস্ব জীবন নাই, কিশোরের খেলা-ধুলা নাই, ভার্সিটি স্টুডেন্টসের খেলার মাঠ নাই, ডিবেটিং ক্লাব নাই, সংস্কৃতি নাই। একটি দেশে অাট রকম শিক্ষা পদ্ধতি, কারো চেহারার সাথে কারো মিল নাই। কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা তোলে, জাতীয় সঙ্গীত গায়, আবার কেউ বা জানেই না এ দেশের জাতীয় পতাকার রঙ কি কিংবা জাতীয় সঙ্গীত কি?

তার মানে জাতি হিসাবে আমরা যাচ্ছি কোথায়? একটা মূলনীতির জায়গায় কি অাসার সময় এখনো হয়নি? অামাদের জাতির চরিত্র গঠন কি অন্য দেশ এসে করে দিয়ে যাবে? রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও আমাদের পরিবারের ব্যর্থতা কার ঘারে চাপাবো? রাষ্ট্রের দায়িত্ব অাইন প্রনয়ন করা, সমাজ ও পরিবার তা মেনে চলতে বাধ্য। নৈতিক মূল্যবোধের অভাবই সকল অপকর্মকে উৎসাহিত করে। এগুলো নিরসনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বিকল্প নেই।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *