‘চোর’ বলায় ইনু’র হজ্ব মাকরুহ হয়েছে!

মাসকাওয়াথ আহসান : রাজনীতিক হাসানুল হক ইনু জনপ্রতিনিধিদের “চোর” বলে অনেক বড় গুণাহের কাজ করেছেন। এতে উনার হজ্ব মাকরুহ হয়েছে। সততার পরাকাষ্ঠা এই দেশপ্রেম করা মানুষগুলোকে “চোর” বলা! এ ভীষণ অন্যায়। এ কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না!

উনি কী জানেন কত কষ্টসৃষ্টে জনপ্রতিনিধিদের সংসার চলে। প্রতিদিন তাদের সম্পদ কমে যাচ্ছে। কখনো তারা শুল্কমুক্ত গাড়ী নেন না; সিএনজিতে চেপে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে আসেন। টিফিন বাটিতে থাকে শুকনো দুটি রুটি আর এক চিলতে আলুভাজি। রাজনীতিক ইনু কী করে এই ফুলের মত পবিত্র মানুষদের চোর বলতে পারলেন!
এমপি হোস্টেল ছাড়া আর কোন থাকার জায়গা নেই তাদের। তবু তারা সরকারী প্লট নেন না; জনগণের সম্পদে ভাগ বসাতে চান না এই সততার বাতিঘরেরা।

এই যে এতো টি আর-কাবিখা-উন্নয়ন বাজেট; কেউ কী বলতে পারবেন এমপিরা কেউ একটি পয়সা স্পর্শ করেছেন। জনপ্রতিনিধি তারা; নিজেদের ধূপের মত পুড়াইয়া দেশপ্রেম করেন তারা। স্থানীয় স্কুল-কলেজে কাউকে চাকরী দেবার সময় উনারা শুধু মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেন; কাউকে টাকার বিনিময়ে চাকরী দেয়া; কক্ষণো নয়। সততার এই চলমান জাদুঘরদের “চোর” বলায় নিশ্চয়ই খোদার আরশ কেঁপে কেঁপে উঠেছে।
একি করলেন ইনু! উনি কী দেখেন নি সাংসদরা অসুস্থ হলে সোজা আলীপুর দাতব্য চিকিতসালয়ে চলে যান। সোজা সাপটা বলে দেন, মরতে হয় দেশের খাঁটি মাটিতে মরবো; তবু মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নয়। খুব কষ্ট হয় এমন অপার্থিব ত্যাগের মূল্যায়ন না হলে।

সাংসদরা কক্ষণো তদবিরে সচিবালয়ে ঘোরেন না। সবাইকে বলে দেন, চাকরী, টেন্ডার এসব তকদিরের বিষয়। কোন প্রকল্পে “টেন পার্সেন্ট” কোন মন্ত্রীও নেননা; আর সাংসদরা তো সেসব গুণাহের কথা স্বপ্নেও ভাবেন না।
সাংসদরা ভূমি দখল, জলমহাল দখল, বালুমহাল দখল, হাট-বাজার দখল এসব অন্যায় কক্ষণো করেন না। উনারা জনগণের হৃদয় দখল করেন সেবার মাধ্যমে।

জনপ্রতিনিধিরা কত কষ্টে ধার-কর্জ করে নির্বাচন করেন। ভোটারদের সামান্য-মুড়কির আপ্যায়নে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় তাদের। ভোট কেনা-বেচা; এসব মিডিয়ার সৃষ্টি। যারা ওলি হয়ে গেছেন; মানুষ ভক্তিভরে তাদের ভোট দেন। তাইতো এমপি অলিরা সংসদে বারবার ফিরে আসে।

জনপ্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকেন; তাইতো সংসদ অধিবেশন ছাড়া ঢাকায় আসেন না। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান-আদিবাসী-উপায়হীন মুসলমানদের বাড়ী-জমি দখলে তাদের কোন ইন্ধন থাকে না। তারা তো অবতার। তাদেরকে ‘চোর’ বলা একেবারেই মেনে নেয়া যায়না।

সাংসদদের সন্তান ও জামাইরা কখনো কোন অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হয়না; সবাই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ে, ও আমার দেশের মাটি; তোমার পরে ঠেকাই মাথা বলে। কেউ বিদেশে পড়তে যায়না; দেশের জন্য এই ত্যাগের কদর আমরা না করতে পারি; তাদের চোর বলা একদম ঠিক নয়। মন্ত্রী-সাংসদদের অন্য কোন দেশে সেকেন্ড হোম, থার্ড হোম, সামার হোম নেই। এগুলো দেশ-চেতনা-গণতন্ত্র বিরোধী অপপ্রচার। আর সুইস ব্যাংক, কেমেন আইল্যান্ডস বা অন্য বিদেশী ব্যাংকে টাকা পাঠানো অথবা চটের ব্যাগে করে নগদ লেনদেনের যেসব অভিযোগ ওঠে; সেগুলো ভিত্তিহীন। সেকারণেই দুর্নীতি দমন কমিশন বন্ধ করে দেয়া সময়ের দাবী। নেদারল্যান্ডস-সুইডেন অপরাধীর অভাবে জেলখানা বন্ধ করে দিতে পারলে, বাংলাদেশ কেন দুর্নীতিবাজের অভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন বন্ধ করে দিতে পারবে না।

যাই হোক ভালোয় ভালোয় রাজনীতিক ইনু জনপ্রতিনিধিদের “চোর” বলে পরে ক্ষমা চেয়েছেন। উনাকে বুঝতে হবে, হোয়াট ইজ সমালোচনা; অলওয়েজ প্রশংসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *