ইসলামকে দুরে রেখে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না, পর্ব-২

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সকল মিডিয়া তারস্বরে প্রচার করছে জঙ্গিবাদের পেছনে ইসলামের কোন হাত নেই , হাত আছে ইহুদি , মোসাদ , বিদেশী সংস্থা বা দেশী কিছু উগ্র সংগঠনের। তাদের মর্ম যাতনাটা বোঝা কষ্টসাধ্য নয়। বাপ দাদা চৌদ্দপুরুষের ধর্ম ইসলামকে তারা মেনে এসেছে , হঠাৎ করে সেই ধর্মকে তারা কিভাবেই বা জঙ্গি হিসাবে মেনে নেবে। সেটা সম্ভব না। কিন্তু যখন দেখা যায়, জঙ্গিবাদের পেছনে সব আজগুবি কথা বার্তা বলছে , এমন কি কোরান হাদিস থেকে ভুল উদ্ধৃতি দিচ্ছে , তখন তো আর সেটা মেনে নেয়া যায় না। এ ধরনের অনধিকার চর্চাকে তো মেনে নেয়া যায় না।
দুনিয়ার সকল মানুষ যদি ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে চিৎকার চেচামেচি করে , তাহলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হয়ে যাবে না। ইসলাম সেই ধর্মই হবে , যা কোরান হাদিস বলেছে। দেখা যাক কোরান হাদিস কি বলেছে।

সুরা নিসা -৪:৯৫:গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , যারা ঘরে বসে বসে রোজা নামাজ করে , আর আল্লাহ আল্লাহ বলে সারাক্ষন জাবর কাটে তাদের চাইতে যারা জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে তাদের মর্যাদা অনেক বেশী। এই জিহাদিদের পুরস্কার কি , সেটা বলা আছে হাদিসে —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৪৬
আবূল ইয়ামান (র)………..আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর পথের মুজাহিদ, অবশ্যই আল্লাহই অধিক জ্ঞাত কে তাঁর পথে জিহাদ করছে, সর্বদা সিয়াম পালনকারী ও সালাত আদায়কারীর ন্যায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথের মুজাহিদের জন্য এই দায়িত্ব নিয়েছেন, যদি তাকে মৃত্যু দেন তবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা পুরস্কার বা গানীমতসহ নিরাপদে ফিরিয়ে আনবেন।

অর্থাৎ যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়ে নিহত হয় তারা শহিদ আর এইসব শহিদরা সোজা বেহেস্তে চলে যাবে। যদি বিজয়ী হয় তাহলে তো গনিমতের মাল অর্থাৎ অর্থ সম্পদ ও যৌনফুর্তির জন্যে পাবে বন্দিনী নারী। অর্থাৎ জিহাদ করতে গেলে উভয় দিক দিয়েই লাভ। বাচলেও লাভ , মরলেও লাভ। এত লাভ যে কাজে , সেটা কি কেউ অবহেলা করতে পারে ? তাহলে যারা ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম হিসাবে জানে , তারা তো বেহেস্তে যাওয়ার আশায় সর্বদাই উন্মুখ থাকে, সুতরাং জিহাদী হয়ে শহিদ হলে যদি বেহেস্তে যাওয়ার টিকেট পাওয়া যায়, কেন আমাদের ইমানদার যুবকরা সেই সুযোগ গ্রহন করবে না ? এখন তাদেরকে যদি বলা হয় জঙ্গি , তাহলে বুঝতে হবে , এইসব লোকজন , যারা তাদেরকে জঙ্গি বলছে , তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে কিন্তু বুঝতে পারছে না , অথবা , তারা ইসলামের কিছু না জেনেই ইসলাম নিয়ে আজে বাজে কথা বলছে। এখন কেউ কেউ বলতে পারে , ইসলাম তো আত্মহত্যা করতে বলে না। জ্বী না , যারা জিহাদী হয়ে কাফির হত্যঅ করতে গিয়ে শহিদ হয়, তারা কেউ আত্মহত্যা করে না।

আত্মহত্যা কাকে বলে ? কেউ যদি শুধুমাত্র নিজের জীবন নির্বাপন করে অন্য কারও জীবনের ক্ষতি না করে , সেটাই আত্মহত্যা। এই ধরনের আত্মহত্যা ইসলাম সমর্থন নাও করতে পারে। কিন্তু যারা জিহাদী, তারা নিজেরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে , ইহুদি নাসারা কাফের মুসরেকদের মনে ভয় ধরানোর জন্যে তাদেরকে হত্যা করতে গিয়ে নিহত হচ্ছে , সুতরাং এটা আত্মহত্যা নয়। ইহুদি নাসারা কাফেরদের মনে ভয় ধরানোর জন্যে খোদ কোরানেই নির্দেশ আছে –

আল ইমরান -৩: ১৫১:খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।

সুরা আনফাল-৮:১২:যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

অর্থাৎ গর্দান ও হাত পায়ের জোড়ায় জোড়ায় কেটে অমুসলিমদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে হবে , যারা তারা ভীত হয়ে বাচার জন্যেই ইসলাম গ্রহন করে। এখনই অনেকে বলবে , এইসব আয়াত সেই মুহাম্মদের সময়কালের কোন না কোন প্রেক্ষিতে নাজিল করেছিল। জ্বী না , আপনার ধারনা ঠিক না। হতে পারে কোন না কোন প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছিল ,কিন্তু কোরানের বিধান চিরকালীন। অর্থাৎ প্রেক্ষাপট যাই হোক , যে বিধান কোরানে জারি আছে , সেটা সর্বকালীন।

সুতরাং এখন কি বোঝা যায়, কেন আমাদের দেশের ইমানদার তরুনেরা জঙ্গি হয়ে যাচ্ছে? এর জন্যে কি ইহুদি বা আমেরিকা দায়ী ? নাকি আমাদের ইসলামটাই দায়ী ?

ইসলামকে দুরে রেখে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না, পর্ব-১

২ thoughts on “ইসলামকে দুরে রেখে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না, পর্ব-২

  1. কোরান হাদিসের কথা গুলো বলা এই
    কোরান হাদিসের কথা গুলো বলা এই ভাবে-( এখানে প্রশ্রাব করিবেন না। করিলে ৫০ টাকা জরিমানা ।)
    আর নাস্তিক কুল প্রচার করে এই ভাবে- (এখানে প্রশ্রাব করিবেন । না করিলে ৫০ টাকা জরিমানা ।)

    1. নিবন্ধে কোরান হাদিস থেকে
      নিবন্ধে কোরান হাদিস থেকে সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে। তো এখন আপনি এসবের একটু অর্থ করে দিন তো। দেখুন তো ভিন্ন কোন অর্থ করা যায় কি না। নাকি যেন তেন একটা তুলনা দিয়েই কাজ শেষ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *