বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদ

ধর্মীয় মৌলবাদের প্রকাশ্য রুপ হল সাম্প্রদায়িকতা। ধর্মীয় মৌলবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারিরা অন্য ধর্মের অনুসারিদের ক্ষেপিয়ে তুলে,তাদের নানাভাবে নির্যাতন করে।এদিক থেকে বলা যায় বাংলাদেশে কট্টর মৌলবাদ বিরাজ করছে।এ মৌলবাদের সূচনা অনুসন্ধান করলে আমাদের যেতে হতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে।যার সূচনা ঘটে একশ্রেণীর অভিজাত মুসলমানের দ্বারা।এরা বাংলাভাষাকে হিন্দুয়ানী ভাষা হিসেবে প্রচার করত।একদিকে মুসলমান সমাজের পশ্চাৎপদতা অপরদিকে হিন্দু সমাজের সুবিধাবাদী অবস্থান সাম্প্রদায়িকতাকে উৎসাহিত করে।যার ফলশ্রুতে ১৯২৫-২৬ এর হিন্দু মুসলীম দাঙ্গার মত ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।ব্রিটিশ সাংবাদিক লিনার্ড মোসলে ” ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ অধ্যায় ” গ্রন্থে লিকেছেন,” ১৯৪৬ সালের ১৬ আগষ্ট মহানগরী কলকাতার বুক জুড়ে শুরু হয় এক ভয়াবহ দাঙ্গা।একটানা তিন দিন ধরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।হিন্দু মুসলমানদের তাজা খুনে রন্জিত হয় মহানগরীর রাজপথ।গুলিবিদ্ধ,ছুড়িকাহত ও অর্ধদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরন করে ছ’হাজার মানব সন্তান।এছাড়া বহু নারী পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়।অনেককে বিকলাঙ্গ করে দেওয়া হয়।এদের সংখ্যাও বিশ হাজারের কম হবে না।” এ দাঙ্গায় মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।যার ফলশ্রুতিতে ২৯ সে আগষ্ট দাঙ্গা নয়াখালিতে শুরু হয়।এতে হিন্দুদের মুসলমানরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।এর প্রতিশোধে হিন্দুরা বিহারে মুসলীমদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।অবশেষে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত হয় পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি রাষ্ট্র।অবশেষে দুই রাষ্ট্রই সেকুলার গনতন্ত্র গ্রহণ করে।তবে সাম্প্রদায়িকতা কি থেমে গেছিলো?
(চলবে………)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *