জঙ্গিরা জামিন পায় কোন বিবেচনায়?

জঙ্গিরা জামিনে মুক্ত হয়ে যায়, অার পেটের দায়ে ১০ টাকার রুটি চুরি করে ৯ মাস জেলে। পৃথিবী দ্বিধা হও, ঢুকে লজ্জা নিবারন করি। বিচার কাজে কার দোষ, পুলিশ, উকিল না বিচারকের? বর্তমানে burning issue জঙ্গিবাদ। সমাজ অস্থিতিশীল হচ্ছে, ক্ষুন্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। এ সময়ে ধরা পড়া জঙ্গি জামিন পেতে পারে? বিচার বিভাগের এই দারিদ্রতার বিচার কার কাছে চাইবো?

যে কোনো অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার অপরাধ প্রশমনে সাহায্য করে। মে জন্যই অাইন প্রণীত হয়। ধরা যাক সিঙ্গাপুরে চার বাংলাদেশী জঙ্গির কথা। এই চার জঙ্গির পিছনে সিঙ্গাপুর পুলিশ দীর্ঘ ৪ মাস নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করেছে। যখনই নিশ্চিত হয়েছে যে, এরা জঙ্গিদের অর্থায়ন করছে তাৎক্ষণিক তাদের গ্রেফতার করেছে। জামিনের তো প্রশ্নই উঠেনা, বরং ২মাসে, ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষে এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। সিঙ্গাপুরের অাইন অামাদের চেয়ে বেটার নয়, বেটার নাগরিকদের প্রতি commitment.

বিপরীতে বাংলাদেশের চিত্রটি দেখে অাপনি অবাক হবেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ হামজা ব্রিগেডের ২৯ জঙ্গি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিন অর্থদাতার নাম প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ঐ তিন অর্থদাতা আইনজীবিকে গ্রেফতারও করা হয়। কিন্তু সম্পুর্ন অজ্ঞাত কারনে এদের জামিন দেয়া হয়। অাপনার কি মনে হয় যে, ঐ তিন অাইনজীবি ফেরেশতা বনে গেছে? বরং তাদের অর্থ ও অস্ত্রেই ঘটেছে গুলশান ও শোলাকিয়া ট্র্যাজেডি।

কার দোষ দেবেন আপনি? সকলেই নিজেকে বাচাতে ১০১টা জবাব তৈরী রাখে। বিচারক বলেন অাসামীর অাইনজীবি যথেষ্ট পোক্ত যুক্তি দিয়েছেন ফলে জামিনের ground create হয়েছে। অামি জামিন না দিয়ে কি করি? অাইনজীবির তো মুখ দু’টো। ব্যারিস্টার রফিকুল হকের মতোই বলেন, অামি দরজি, সবার শার্টই বানাই। পুলিশের রিপোর্ট দুর্বল হলে অামি কি করবো? বুঝেন অবস্থা?

অর্থাৎ কারো কোনো দায় নেই, নীতি-আদর্শ নেই। টাকার মানদন্ডে ভালো-মন্দ নির্ধারন হয়। একজন শেখ হাসিনা কি পুরো দেশের চেহারা পাল্টাতে পারবেন? কোনো একটা সময়ে বঙ্গবন্ধু নিজেও তাঁর নেতা-কর্মীদের উপর ত্যত-বিরক্ত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও বুঝেন। তিনি তো সেই মহানায়কেরই কন্যা। তবে অামরা যারা অাম পাবলিক তাদের দায়িত্বও কম নয়। পুলিশ, অাইনজীবি, বিচারক -সবার চরিত্র পাল্টান, দেশটা অাপনার সন্তানেরও।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

২ thoughts on “জঙ্গিরা জামিন পায় কোন বিবেচনায়?

  1. গাফলা সব জায়গাতেই। শিবির নেতা
    গাফলা সব জায়গাতেই। শিবির নেতা গ্রেফতার হলে তাকে ছাড়ানোর জন্য লবিং করে আওয়ামীলীগের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *