সকল মুসলিম ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে কেন ?

সকল মুসলিম ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে কেন ?

ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পন, তবুও সবাই বলে –ইসলাম অর্থ শান্তি । কিন্তু কেন বলে সেটা জানতে হলে প্রাক-ইসলামী যুগে ফিরে যেতে হবে। তাই আসুন সংক্ষেপে হলেও শুরু থেকেই জানি –

শুরু থেকেই ইসলাম পূর্ববর্তী প্যাগনরা হুবাল নামক এক দেবতার উপাসনা করতো। হুবালের তিন কন্যা ছিলো আল-লাত্, আল-মানাত্ ও আল-উজ্জা। তারা প্রত্যেকে ছিলো এক একজন দেবী। লোকেরা এ তিনজন দেবীরও আরাধনা করতো। সাথে আরো অন্যান্য দেব-দেবীর আরাধনা প্রচলিত ছিলো । মুহাম্মদ কর্তৃক কাবাঘরে ৩৬০ টি মূর্তি ভাঙার কথা যে প্রসিদ্ধ সেটার কারণ ছিলো তৎকালীন আরব গোত্রসমূহ স্ব স্ব গোত্রের নামে একটি করে দেবতা কাবাঘরে স্থাপন করতঃ আরাধনা করার পাশাপাশি প্রধান কয়েকটি দেব-দেবীরও উপাসনা করতো।এই হুবালই মোহাম্মদের আল্লাহ ।
প্রমান দেখুন – মোহাম্মদের পিতার নাম ছিল আব্দুল্লাহ , যার অর্থ আল্লাহর দাস । আব্দুল উজ্জা অর্থ উজ্জার দাস ।
কোরানে আলালহ নিজে কি বলছেন দেখুন —

“তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য? এমতাবস্থায় এটা তো হবে খুবই অসংগত বন্টন। (কোরান ১৭ঃ ১৯-২২) ।

এখানে সেই আল্লাহ শুধু মেয়ে নিয়ে সন্তুষ্ট নন , তিনিও মনে হয় ছেলে চান ।

এখানে এসে ইসলাম বিশারদগণ যে স্থূল যুক্তি দেন তা হলো- কেবল আব্দুল্লাহ, আব্দুল মুত্তালিব ও আমিনা ইসমায়েলী ইসলামের ঝাণ্ডা ধরে রেখেছিলেন। যদিও এর স্বপক্ষে কোনোরূপ তথ্যপ্রমাণ তারা দিতে পারেন না। নবীর পিতা-মাতা ও বাল্যকালে লালন-পালনকারী যথাক্রমে আব্দুল্লাহ-অামিনা ও আব্দুল মুত্তালিব মুসলিম ঐতিহাসিকদের সুনজর যে পেয়েছেন সেটা বলা বাহুল্য।

নবীর পিতা-মাতা বেহেশতে যাবে না দোজখে যাবে প্রশ্নে আলেমগণ তাদেরকে দোজখী বলে গণ্য করেন সহী হাদিস দেখিয়ে। সেক্ষেত্রে তাঁরা “হযরত আদম থেকে শুরু হওয়া যে ইসলামিক ধারা”র কথা বলেন তা অসত্য। যদি তাই হয় তাহলে ‘আব্দুল্লাহ’ নামই প্রমাণ করে দেয় নবী জন্মের আগে থেকেই তদানীন্তন লোক আল্লাহ নামক দেবতার আরাধনা করতো।

এবার কোরানে প্রমান দেখুন –

“যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছে, চন্দ্র ও সূর্যকে কর্মে নিয়োজিত করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তাহলে তারা কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে?” (কোরান – ২৯ঃ৬১)

অর্থাৎ তারা আল্লাহকে মানতো শুধু মোহাম্মদকে নবী মানতে ও কোরানকে আল্লাহর কিতাব হিসাবে মানতেই ছিলো যত আপত্তি ।

এবারে হাদিস দেখুন –

মদিনার এক নেতৃস্থানীয় লোক সা’দ বিন মুয়াজ যখন ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা গিয়েছিলেন, মক্কার দ্বার-প্রান্থে আবু জেহেল তাঁকে বাধা দিয়ে বললেন-‘
তুমি কি মনে করো তোমাকে শান্তিতে হজ্ব করতে দেয়া হবে, যখন তোমরা আমাদের দুশমনদেরকে (নবী মুহাম্মদ) পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছো এবং নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছো? তুমি যদি উমাইয়া বিন কাহাফের অতিথি না হতে আল্লাহর কসম এখান থেকে জীবিত ফিরে যেতে পারতে না।’
সা’দ বললেন-‘আবু জেহেল, আল্লাহর কসম, তুমি যদি হজ করতে আমাকে বাধা দাও তাহলে তোমাদেরকে এমন এক জায়গায় বাধা দেবো, যা হবে তোমাদের জীবনমরণ সমস্যা। আমরা মদিনার কাছে তোমাদের বাণিজ্য-পথ বন্ধ করে দেবো’। (‘তাফহিমুল কোরআন’ পৃষ্ঠা ১১৮-১২৭)

এখানে দেখুন প্যাগন ধর্মী আবু জেহেল ও ইসলাম ধর্মের সা’দ উভয়েই আল্লাহর নামে কসম করেছেন। এমনকি এখান থেকে ইসলামের চতুর্থ রুকন “হজ্জ” যে আগে থেকেই প্রচলিত ‘পৌত্তলিক প্রথা’ ছিলো সেটাও বোঝা যাচ্ছে।

নিচের হাদিসেও দেখা যায় খাদিজা ইসলাম গ্রহণের আগেই আল্লাহর কথা বলে মোহাম্মদকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ।

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্ন বুকায়র (র)…….. “আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর প্রতি সর্বপ্রথম যে ওহী আসে, তা ছিলো ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশ পেতো। তারপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি ‘হেরা’র গুহায় নির্জনে থাকতেন। আপন পরিবারের কাছে ফিরে আসা এবং কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া- এইভাবে সেখানে তিনি একাধারে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। তারপর খাদিজা (রা)-র কাছে ফিরে এসে আবার অনুরূপ সময়ের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যেতেন। এমনিভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে একদিন তাঁর কাছে ওহী এলো। তাঁর কাছে ফিরিশতা এসে বললেন, ‘পড়ুন’। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “আমি বললাম, আমি পড়ি না।” তিনি বলেনঃ তারপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পড়ুন’। আমি বললাম, আমি তো পড়ি না। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, আমার অত্যন্ত কষ্ট হলো। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ ‘পড়ুন’। আমি জবাব দিলাম, ‘আমি তো পড়ি না।’ তারপর তৃতীয়বার তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এরপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত।” (৯৬ঃ ১-৩) তারপর এ আয়াত নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফিরে এলেন। তাঁর অন্তর তখন কাঁপছিলো। তিনি খাদিজা বিনত্ খুওয়ায়লিদের কাছে এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও’, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’ তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর ভয় দূর হলো। তখন তিনি খাদিজা (রা)-র কাছে সকল ঘটনা জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজের উপর আশংকা বোধ করছি। খাদিজা (রা) বললেন, আল্লাহর কসম, কখ্খনো না। আল্লাহ আপনাকে কখ্খনো অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্নীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায় দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন, মেহমানের মেহমানদারী করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। এরপর তাঁকে নিয়ে খাদিজা (রা) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্ন নাওফিল ইব্ন আবদুল আসাদ ইব্ন আবদুল উযযার কাছে গেলেন, যিনি জাহিলী যুগে ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে জানতেন এবং আল্লাহর তওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল থেকে অনুবাদ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বয়োবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। (সহিহ্ বুখারিঃ খন্ড-১ঃ হাদিস নং-০৩)

অর্থাৎ আল্লাহকে সবাই মানতো শুধু ব্যতিক্রম হলো নবী মানা নিয়ে । কিন্তু কেন ? তবে কি নবী হয়ে কাবা দখল করে সকল ক্ষমতার শীর্ষে থাকাই এই নবুয়্যত প্রাপ্তির উদ্দেশ্য? তাই যদি না হবে তাইলে উপরের এই হাদিস-এ এত ফাঁক ফোঁকর কেন ? এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম হয়েছে । এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে যে, নবী মৃত্যুবরণ করার কয়েক বছরের মধ্যে আরো ৭০ জন আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের নবুয়্যতের দাবী করে। কিন্তু তাদের দাবী ধোপে টেকেনি কারণ মুহাম্মদ বুদ্ধি করে নিজেকে শেষ নবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিলো। তাছাড়া কোরানে বর্ণিত সকল নবী-রাসূলকে মোটামুটি একটি বিশেষ এলাকা (মধ্যপ্রাচ্য) জুড়েই দেখা যায়। এসবের একটাই অর্থ থাকতে পারে; আর তা হলো, এলাকার প্রধান হওয়ার দাবী করতে নবী হতে হতো।

যাহোক, খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্ন নাওফিল ইব্ন আবদুল আসাদ ইব্ন আবদুল উযযার এর মাধ্যমে মোহাম্মদ জানলো যে তার উপরে আল্লাহর ওহি নাজিল হয়েছে । এক্ষেত্রে অনুসন্ধিৎসু মনে জন্ম নেওয়া প্রশ্ন গুলি-

১) মোহাম্মদ একাধারে রাত দিন কার ও কীভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন ? কোন দিক মুখ করে ইবাদত করতেন ? ইবাদতে কী কী বলতেন ?
২) আল্লাহ বা তার দূত কি জানতো না যে মোহাম্মদ লেখা পড়া জানতো না ? কাউকে পড়তে বলা মানে কি কারো সামনে লিখিত কোনো কিছু উপস্থাপন করে, তা দেখে পড়তে বলা বুঝায় না ? তাইলে সেই লিখিত ডকুমেন্ট কোথায় , সেটার কোন হদিস নাই কেন ?
৩) “ পড়ো তোমার প্রভুর নামে “ এখানে কার প্রভু ও তার নামটা কি সেটাও কিন্তু বলা হয় নাই । যদি ধরেও নেই সেটা মোহাম্মদের প্রভু তাহলে মোহাম্মদের প্রভুর নাম আর প্যাগনদের প্রভুর নাম একই ?
৪) মোহাম্মদ যখন প্রথম অসুস্থ হয়ে বাড়িতে এলো তখন খাদিজা তাকে কবিরাজের কাছে না নিয়ে গিয়ে তার কাফের ভাই যিনি একজন ধর্মের বই এর অনুবাদক তার কাছে নিয়ে গেলেন কেন ? অথচ দেখুন তিনিও কিন্তু তার জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহন করেন নাই । তাইলে তার কথার সত্যতা কতটুকু ?
৫) আপনাদের সামনে কেউ এমন আচরন করলে আপনারা কি এমনটা করবেন ?

স্রেফ ফাঁকি ঝুকির কারণেই এত এত প্রশ্নের জন্ম । এই ফাঁক-ফোকরগুলোকে মনগড়া কাহিনি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করাকে কি প্রতারণা বলা যায় না ?

বলতে গেলে ইসলামের শুরুই হলো প্রতারণার মাধ্যমে । অনেকেই হয়তো নাক কুঁচকাবেন , বলবেন ধর্ম কোন দিনই প্রতারণা করে না , প্রতারণার শিক্ষাও দেয় না । প্রতারণা মানে কি ? সময় অসময়ে নীতির পরিবর্তন করাই কি প্রতারণা নয় ? আসুন কিছু প্রতারণার প্রমান দেখে আপনারাই বিচার করুন এসব প্রতারণা কী না ।

কোরান থেকে —

তোমার ধর্ম তোমার জন্য এবং আমার ধর্ম আমার জন্য (সূরা কাফিরুন:৫)।
ধর্মের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই । (সূরা বাকারা:২৫৬)।

এর বিপরীত দেখুন –

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। (৯:৭৩ )
হে ঈমানদার সৈনিকগণ, তোমরা যখনই নাস্তিকদের মোকাবেলা করবে তখন কোনক্রমেই তোমার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না। যদি কেও পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে তবে তার পাপের ঠিকানা হবে দোজখের জ্বলন্ত আগুনে (৮:১৬)।

বৈপরিত্য দেখলেন তো! এমন প্রায় শ’পাঁচেক উদাহরণ আছে ।

এবার আসুন জান্নাত পাওয়ার ক্ষেত্রে আলালহর কেমন নীতি ছিল সেগুলা দেখি –

তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর (সুরা আল বাকারাহ ২ : ২১৬)।

আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। [সুরা আহযাব: ৩৬]

এর বিপরীত দেখুন –

“তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।“ (সূরা কাফিরুন : ৬) “আর যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে বল, আমার জন্য আমার কর্ম, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদের দায়-দায়িত্ব নেই আমার কর্মের উপর এবং আমারও দায়-দায়িত্ব নেই তোমরা যা কর সেজন্য”। [সুরা ইউনুস: ৪১]

দেখলেন তো আল্লাহ কেমন নীতিবান ? কেউ চাইলে একই কোরাণ থেকে দেখিয়ে আপনাকে লিবারাল মুসলমানও বানাতে পারবে আবার জঙ্গিও বানাতে পারবে!

চুক্তি ক্ষেত্রে বা শপথের ক্ষেত্রে নীতি দেখুন –

নবী (স) নাজরানের খ্রীস্টানদের সাথে চুক্তি করেন যে, খ্রীস্টানদের গীর্জা ধ্বংস ও পাদ্রীদের বের করে দেয়া হবেনা কিন্তু বিনিমেয়ে নবীকে ১০০০-জোড়া কাপড় সফর মাসে ও ১০০০-জোড়া রজব মাসে খ্রীস্টানরা পাঠাবে। তা ছাড়া ৩০টি বর্ম, ৩০টি ঘোড়া, ৩০টি উট এবং সব ধরণের যুদ্ধোপকরণ ধার হিসেবে মুসলমানদের দেয়া হবে কিন্তু খ্রীস্টানরা সুদ খাওয়া শুরু করলে তাদেরকে নাজরান থেকে বহিস্কার করা হয় (সুত্র : আবুদাউদ-৩০৩১)।

আল্লাহর ইচ্ছায়, যদি আমি কোন ব্যপারে শপথ করি আর পরে দেখি এর চেয়ে ভাল কিছু আছে তখন আমি যেটা ভাল মনে করি সেটাই করি আর তখন পূর্বেকার শপথ রক্ষার কোন দরকার মনে করি না। সহি বুখারী, বই – ৬৭, হাদিস-৪২৭।

অর্থাৎ কোন চুক্তি বা শপথ ভংগ করলে আপনি কোন ভাবেই গুনাহকারী নন । যার প্রমান তো সমাজে সবাই দেখছেনই । চারিদিকে ঈমানদার কিন্তু বিশ্বস্ত মানুষ বিলুপ্তপ্রায় ।

এবার কোরানের প্রমান দেখুন –

“যার ওপর যবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উন্মুক্ত করে দেয় তাদের ওপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব ও তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি”। (১৬:১০৬) ।

অর্থাৎ পরিস্থিতির কারণে কেউ মুখে মুখে আল্লাহকে ও তার নবীকে অস্বীকার করলেও তাতে কোন গুনাহ নাই । অর্থাৎ প্রতারণা!

প্রতারনার আরেকটা উদাহরন না দিলেই না । সবাই বলে একমাত্র ইসলামই দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ সন্মান । তার জন্য তারা মুসলিম নারীদের তার বাবা ও স্বামীর সম্পত্তির ভাগ ও বিয়েতে দেন মোহরের কথাই বার বার উদ্ধৃতি দেয়; সত্যিই কি তাই ? আসুন একটু ইসলাম পূর্ব ইতিহাস থেকেই জেনে আসি ।

মোহাম্মদ প্রথম বিয়ে হয়েছে ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছরের খাদিজা নামের এক ধনাঢ্য মহিলার সাথে কিন্তু খাদিজার জন্য ছিল সেটা ছিলো ৩য় বিয়ে । এদিকে মুহাম্মদ নিজেকে নবী হিসাবে দাবী করেছে ৪০ বছর বয়সে । এখানে প্রশ্ন এসে যায়, খাদিজা ধনাঢ্য হলেন কিভাবে ? আসুন আজ সেটাও জেনে নেই ।

মুহাম্মদ সা. এর সাথে বিয়ের পূর্বে খাদিজা রা.-এর দুই দুই বার বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী ছিলেন আতেক আল- মাখযোমি, যিনি বিয়ের কয়েক বছর পর মারা গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবু হালা আল-তামিমি। যখন দ্বিতীয় স্বামী মারা যান তখন খাদিজা রা.-এর বয়স ৩৭ ছিল। (ইতিহাসে প্রথম স্বামী কোন্ জন ছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত পাওয়া যায়)।

প্রথম স্বামী মারা যাবার পর উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল সম্পত্তি লাভ করেছিলেন তিনি। এই সম্পত্তি লাভের বিষয় নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। আমরা ধরে নিচ্ছি যে, যেহেতু খাদিজা রা.-এর বাবা ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন তাই বাবার উত্তরাধিকার সূত্র থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা যাবে না। পরবর্তীতে স্বামীদের কাছ থেকেও সম্পত্তি লাভ করে থাকবেন। বিয়ের চিরন্তন ও শাশ্বত রীতি অনুযায়ী মুহাম্মদ সা. তাঁর চাচা আবু তালিবকে সব জানান। এই বিয়ে খাদিজা রা.-এর সম্মতি জানতে পেরে আবু তালিব যথানিয়মে খাদিজা রা.-এর চাচা আমর বিন আসের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন। সকলের সম্মতিক্রমে বিয়ের দিন তারিখ এবং মোহর ঠিক হয়। পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা মোহর ধার্য করা হয়। খাদিজা রা. নিজেই উভয় পক্ষের যাবতীয় খরচ বহন করেন। তিনি দুই উকিয়া সোনা ও রুপো মুহাম্মদ সা. এর নিকট পাঠান এবং তা দিয়ে উভয়ের পোশাক ও ওয়ালিমার বন্দোবস্ত করেন। (মোস্তফা চরিত ২৮৫-২৮৬) ।

এতে কী বোঝা গেলো? সব মিলিয়ে ইসলামের আগেই প্যাগনদের মধ্যে বাবা ও স্বামীর সম্পত্তির অংশ মেয়েরা পেতো এমনটাই কি প্রতীয়মান হচ্ছে না ? অথচ এটা কোনো মুসলমান স্বীকারই করতে চাইবে না। বস্তুত, ইসলাম পূর্বেই আরব সমাজে প্রচলিত প্রথা থেকে চুরি করেই দেন মোহর ও উত্তরাধিকার আইন বানিয়েছে । উপরন্তু, খাদিজার সম্পত্তির পরিমান দেখলে মনে এই ধারনাই হয় যে , ইসলাম তাদেরকে উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি পাওয়ার পরিমান কমিয়েছে ?

তাহলে কী বোঝা যাচ্ছে কেমন গল্প এতদিন ধরে গেলানো হচ্ছে ? অর্থাৎ মুহাম্মদের অধঃস্তন মোল্লাদের করা প্রতারণা আবহমান কাল ধরে চলে আসা প্রতারণার ধারাবাহিকতা মাত্র ।

সোজা ভাষায় বলতে গেলে, আল্লাহ ও নবীর চরিত্র এক। শুধু বিভিন্ন প্রয়োজনে একেক সময় একেকজন সেজেছে । যা উচ্চ মার্গীয় প্রতারণা । সামান্য একটু প্রমান দেখুন – নবীর উপস্থিতিতে আবু জাহেল একবার বলেছিল-

“হে আল্লাহ, এ (মুহম্মদের ধর্ম) যদি সত্য হয় ও তোমার তরফ থেকে হয়, তবে আমাদের উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করো অথবা কঠিন শাস্তি দাও” (বুখারী-৪২৮৮)।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আল্লাহ তা দেন নাই; একারণে অবশ্য অনেকে আল্লাহকে পরম দয়ালু বলে কেঁদে কেটে বুক ভাসাতেই পারেন!

বর্তমানে আমাদের দেশে জংগী বাদ (জিহাদ ) নিয়ে বিভিন্ন মওলানারা সুরা মায়েদার ৩২ নং আয়াতের প্রথম বাক্যটা বাদ দিয়ে লাখো আলেমের সহি করে সারা দেশে বিলি করল । তাতে কিন্তু কোরান অবমাননা হয় নাই । গত জুম্মাবারে প্রতিটা মসজিদে মসজিদে খুতবা পড়ছেন সরকার বাহাদুরের নির্দেশনা মেনে । যা তারা জীবনেও কোন দিন করেন তো নাই কোন দিন করতে হবে তেমনটাও ভাবেন নাই, হয়তো তাদের কেউ একসময় সরকারী তথা কথিত শান্তি মার্কা খুদবার বিরোধিতা করেই বলবে – “ ইসলাম শান্তির ধর্ম “ । অর্থাৎ সেই প্রতারনা । কারন এমনটাই যদি প্রথম থেকেই খুতবাতে বলতেন তাইলে কি আমাদের দেশের কেউ জংগী বা জিহাদে যোগ দিতো ? এত কিছু হত্যা কান্ডের পরেও সবাই বলছেন ইসলাম শান্তির ধর্ম । জিহাদীদের বিষয়ে কিছু বললেই সবাই এক সাথে বলে উঠেন সে সহি মুসলমান নয় । যদি বলা হয় সহি মুসলমান কারা তাইলেই সবাই চুপ । অর্থাৎ প্রতারনাই যে ইসলামের মূল ভিত্তি এই বিষয়ে কি আর কোন সন্দেহ আছে ?

সব কিছুতেই যদি প্রতারনা থাকে তাইলে নামটা বা নামের অর্থটাকে প্রতারনা করে ভুল না বানালে মানুষ আকৃষ্ট হবে কি ? হবে না , অতএব “ ইসলাম শান্তির ধর্ম “ । যা বলাও ঈমান সংগত ও ইসলাম সংগতই । ইসলামে ইহাকেই “তাকিয়া” নামে অভিহিত করা হয়েছে । তাই নাম দিয়ে নয়, কর্ম দিয়ে বিচার করাই উত্তম । ছেলের নাম চরিত্রবান রাখলেই সে যেমন চরিত্রবান হয় না , কারও নাম আল আমিন রাখলেও যেমন সে বিশ্বাসী হয় না ঠিক একই ভাবে শান্তির ধর্ম বললেই কি সেটা শান্তির ধর্ম হবে এমনটা ভাবেন কেন ? নামের অর্থ যদি কর্মের সাথে মিল থাকতো তাইলে কি কেউ এখনও ইসলাম শান্তির ধর্ম বলার মত নির্লজ্জ হতো ? এ সকল নির্লজ্জতার একমাত্র কারন ঈমান ও তাকিয়া যা ইসলামের প্রধান স্তম্ভ । তাইলে ধর্মের নামটা ইসলাম না রেখে সরাসরি শান্তিই রাখতো তাই না ? মনে মনে ভাবছি নবুয়্যতের দাবী করবো কীনা!

জনগনের চেয়ে দেশ বড়, দেশের চেয়ে ক্ষমতা বড়, ধর্মই সকল ক্ষমতার উৎস । অতএব ক্ষমতার স্বার্থে সবাই বলুন – “ইসলাম ধর্ম, শান্তির ধর্ম” ।

সহযোগীতায় — ঔপপত্তিক ঐকপত্য ।

৮ thoughts on “সকল মুসলিম ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে কেন ?

    1. আপনাদের ভাল লাগা ও তাতে
      আপনাদের ভাল লাগা ও তাতে সাধারনের কিছু পাওয়াই লেখার স্বার্থকতা । কষ্ট করে পড়া ও মতামতের জন্য ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *