কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর? পর্ব-৪(নবুয়ত্বের দাবী সঠিক?)

কোরান যে আল্লাহর বানী , সেটার স্বপক্ষে মুমিনেরা একটা যুক্তি দেখায় : “দুনিয়ায় লক্ষ লক্ষ হাফেজ আছে যাদের কোরান মুখস্থ। এটাই প্রমান করে কোরান সৃষ্টিকর্তার বানী।” কোন একটা কিতাব যদি কোটি কোটি মানুষের মুখস্থ থাকে , তাহলে সেটা কিভাবে সৃষ্টিকর্তার বানী হয় ? কিন্তু কোরান নিজেই আসলে প্রমান করে যে সে কোনভাবেই সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত কিতাব হতে পারে না। সেটা কিভাবে ? এবারে সেটাই বলা হবে।

কোরান স্বীকার করে , তার আগের কিতাব যেমন তৌরাত ও ইঞ্জিল দুইটাই আল্লাহর বানী। তার অর্থ মুহাম্মদের সময়ে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব বিদ্যমান ছিল, সেগুলোকেই কোরান আল্লাহর বানী হিসাবে স্বীকার করে নিচ্ছে। সেটা বলা আছে কোরানে , যেমন –

সুরা আল ইমরান- ৩: ৩: তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের(তৌরাত ও ইঞ্জিল)।

সুরা নিসা-৪: ১৩৬: হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর রসূলও তাঁর কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রসূলের উপর এবং সেসমস্ত কিতাবের উপর, যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতিপূর্বে। যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।

তার মানে কোরান বলছে আগের কিতাবগুলো আল্লাহর বানী। শুধু এটুকুতেই শেষ না, আরও বলছে ————–

সুরা আল আরাফ-৭:১৫৭: সেসমস্ত লোক, যারা আনুগত্য অবলম্বন করে এ রসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর সম্পর্কে তারা নিজেদের কাছে রক্ষিত তওরাত ও ইঞ্জিলে লেখা দেখতে পায়, তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে; তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষনা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তুসমূহ এবং তাদের উপর থেকে সে বোঝা নামিয়ে দেন এবং বন্দীত্ব অপসারণ করেন যা তাদের উপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যেসব লোক তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাঁর সাহচর্য অবলম্বন করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সে নূরের অনুসরণ করেছে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের উদ্দেশ্য সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।

উক্ত আয়াতে বলছে যে তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করা আছে। তার মানে মুহাম্মদের সময় যে তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাব ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে ছিল , তাতে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করা আছে। উল্লেখ্য, মুহাম্মদের সময়কালে ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছে যে তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব ছিল, হুবহু সেই কিতাবই আমরা এখন সারা দুনিয়াতে দেখতে পাই। আর যে কেউই সেটা পড়তেও পারে। এবার দেখা যাক , তৌরাত বা ইঞ্জিল কিতাবে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করা আছে কি না। বিভিন্ন ইসলামী পন্ডিতদের দাবী তৌরাতের নিচের বানীগুলোতে মুহাম্মদ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে, যেমন –

দ্বিতীয় বিবরনী- ১৮: ১৮: ১৮ আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব। এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে। সে য়ে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব। আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে।

মুসার কাছে ঈশ্বর বলছে , সে তাদের লোকদের মধ্য থেকেই একজন ভাববাদী বা নবী পাঠাবে, মুসলিম স্কলারদের দাবী, সেই নবী হলেন মুহাম্মদ। বিষয়টা এবার আলোচনা করা যাক। মুসা যখন সকল ইসরাইলিদেরকে মিশর থেকে নিয়ে দরিয়া পাড়ি দিয়ে সিনাই পর্বতের নিচে অবস্থান করছিল, ঠিক তখন ঈশ্বর মূসাকে এই নবী পাঠানোর কথা বলে। সেই নবী হবে , তাদের মধ্য থেকেই অর্থাৎ মুসার সাথে যারা ছিল সেই ইসরাইলিদের মধ্য থেকে। তাহলে এখন বুঝতে হবে , ইসরাইলি কারা ? সবাই এটা জানে ইব্রাহীমের দুই পুত্র ছিল – ইসমাইল ও ইসহাক। ইসমাইলকে শিশু বয়সেই তা মা হাজেরা সহ ইব্রাহীম নির্বাসন দেয়। মুসলমানরা বিশ্বাস করে তাদেরকে মক্কায় নির্বাসন দেয়া হয় , আর সেই ইসমাইল থেকে যে জনগোষ্ঠি তৈরী হয় তাদেরকে বলা হয় ইসমাইলি।

ইসহাকের ছিল এক পূত্র যার নাম ইয়াকুব, যার সাথে ঈশ্বর কুস্তি লড়ে, অত:পর তার নাম দেয় ইসরাইল। এই ইসরাইলের ছিল বারটা পুত্র , সেই বার পুত্র থেকে যে বংশধারা তৈরী হয় তাদেরকেই ইসরাইলি বলা হয়। সেই বার পুত্রের একজন ছিল বিখ্যাত ইউসুফ যাকে অন্যান্য ভাই মিলে কুপে ফেলে দেয়, পরে কিছু ব্যবসায়ী তাকে উদ্ধার করে মিশরে নিয়ে যায়, মিশরের রাজদরবারে তার ঠাই হয় , একজন রাজ কর্মচারি হিসাবে সে প্রতিষ্ঠা পায়। তার সময়ে বর্তমানের ইসরাইল অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ হয়, ইউসুফের অন্য এগার ভাই সেখানে বাস করত , তাদের পিতা ইয়াকুব সমেত। তারা দুর্ভিক্ষের তাড়নায় মিশরে গেলে , ইয়াকুব তাদেরকে আশ্রয় দেয় অত:পর তারা সবাই মিশরেই থেকে যায়। এরপর প্রায় এক হাজার বছর পার হয়ে যায়, তখন সেই বার ভাই থেকে যে বংশধারা তৈরী হয়, তারা তখন প্রায় ছয় লক্ষে পরিনত হয় , আর তারাই হলো সবাই ইসরাইলি। এদের মধ্যেই জন্ম নেয় মুসা , যে অত:পর সবাইকে মিশর থেকে সিনাই উপত্যকায় নিয়ে আসে। আর তখনই ঈশ্বর তাকে উক্ত নবী পাঠানোর কথা বলে। অর্থাৎ কথিত ভবিষ্যৎ নবি হবে অবশ্যই ইসরাইলি বংশ থেকে , ইসমাইলি বংশ থেকে নয়। কিন্তু মুহাম্মদ নিজেকে দাবী করছেন তিনি নাকি ইসমাইলি বংশের লোক , সেটা যদি সত্যও হয়, তাহলে মুহাম্মদ কিভাবে সেই কথিত নবী হন ? তিনি তো ইসরাইলি নন !

এছাড়াও সেই বানীতে বলছে -” আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব”- অর্থাৎ মুসার মতই একজন ভাববাদী পাঠাবে। মুহাম্মদ কি মুসার মত ছিল ? মোটেই না।

১। মুসা অলৌকিভাবে বেঁচে ছিল, তাকে জন্মের পর একটা বাক্সে করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়, তার মারা যাওয়ার কথা কিন্তু ফেরাউনের স্ত্রীর কল্যানে সে বেঁচে যায়। মুহাম্মদ অতি সাধারনভাবে জন্মগ্রহন করেন ও বেঁচে থাকেন।
২। মুসার সাথে ঈশ্বর সরাসরি কথা বলত , মুহাম্মদের সাথে তার আল্লাহ সরাসরি কথা বলত না।
৩। মুসা বহুবিধ অলৌকক ক্ষমতা দেখাতে পারত, মুহাম্মদের সেই ক্ষমতা ছিল না।
৪। মুসার কাছে ঈশ্বর নিজেই দশ আদেশ লিখে দিয়েছিল সিনাই পাহাড়ে , মুহাম্মদের তেমন কোন কিছুই ছিল না।
৫। মুসা তার জাতিকে ফেরাউনদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ইসরাইলে নিয়ে আসে , মুহাম্মদের সাথে কতিপয় মক্কাবাসী মদিনায় গমন করে পরে মদিনার লোকদের সহায়তায় মক্কা দখল করেন।
৬। মুসার ডজনের ওপর স্ত্রী ছিল না, তার কোন যৌন দাসীও ছিল না, মুহাম্মদের ডজনের ওপর স্ত্রী ছিল, এছাড়া ছিল যৌন দাসী।
৭। মুসার ওপর ঈশ্বরের নির্দেশ ছিল , মিশর থেকে তার জাতিকে উদ্ধার করে ইসরাইলে নিয়ে আসা , সেটা করতে তাকে যুদ্ধ করতে হয়, বহু মানুষ হত্যা করতে হয় , কিন্তু সেটা ছিল সাময়িক , অর্থাৎ ইসরাইলিদের জন্যে নির্দিষ্ট রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরই তার ওপর আর কোন যুদ্ধের বা হত্যার আদেশ ছিল না। পক্ষান্তরে মুহাম্মদের আল্লাহ তাকে চিরকালীন যুদ্ধ ও হত্যার আদেশ দেয় যা আসলে ইসলামকে করেছে দুনিয়ার সবচাইতে নিষ্ঠুর ও হিংস্র এক জঙ্গিবাদী আদর্শ।

সুতরাং মুহাম্মদ কোনভাবেই মুসার মত ছিলেন না। আর তাই তৌরাতের বানী মোতাবেক মুহাম্মদ কোনভাবেই সেই কথিত নবী ছিলেন না। যার অর্থ- মুহাম্মদের কোরান ভুল ভবিষ্যদ্বানী করেছে , কিন্তু কোরান যদি সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসত , তাহলে এ ধরনের কোন ভুল ভবিষ্যদ্বানী করত না। যা প্রমান করে , কোরান কোন সৃষ্টিকর্তার বানী না। বস্তুত: মুহাম্মদ ইহুদিদের কাছ থেকে তাদের তৌরাতে কথিত ভবিষ্যতের নবীর কথা শুনে থাকবেন , আর সেটারই সুযোগ নিয়ে মুহাম্মদ তার কোরানে এই কিচ্ছার অবতারনা করে নিজেকে সেই কথিত নবী হিসাবে দাবী করেছিলেন। ঠিক সেই কারনেই ইহুদিরা কখনই মুহাম্মদকে নবী স্বীকার করে নি।

এ জন্যেই ইহুদিদের ওপর মুহাম্মদের ছিল সীমাহীন ক্ষোভ ও রাগ। সেই ক্ষোভ ও রাগের কারনেই মুহাম্মদ যখন বিজয়ী বীর তখন মক্কা মদিনা থেকে সকল ইহুদিকেই তাদের চৌদ্দ পুরুষের ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করেন। এরপরেও ইহুদিদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করার জন্যে নির্দেশ জারি করে যান। যা প্রমান করে , মুহাম্মদ জোর জবরদস্তি করে নিজের নবুয়ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

বর্তমানের কোন মুমিনই তৌরাত কিতাব পাঠ করে না , পাঠ করাকে গুনাহ মনে করে , তাই তারা এসব কাহিনী জানে না। জানে না বলেই তারা যখনই ইসলাম ও মুহাম্মদ সম্পর্কে কোন সত্য তথ্য পায় , তখনই তাদের ভিতরে জিঘাংসার জন্ম হয়, তারা ধর্মান্ধ খুনিতে পরিনত হয়, হিংসায় তাদের কলিজা জ্বলে যায়, আর তখনই চাপাতি নিয়ে খুন করতে বের হয়ে যায় এই আশায় যে, এভাবে ইহুদি বা খৃষ্টান বা অমুসলিমদেরকে হত্যা করতে পারলেই সে চলে যাবে সোজা বেহেস্তে যেখানে তার জন্যে অপেক্ষা করছে ৭২ টা কুমারি নারী !

চলবে —————————————

কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর ?পর্ব-৩(মূহুর্তের মধ্যে আয়াত পরিবর্তন)

কোরান কার বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-২(চাঁদের দ্বিখন্ডন)

কোরান কারা বানী? মুহাম্মদের, নাকি আল্লাহর? পর্ব-১

৫ thoughts on “কোরান কার বানী ? মুহাম্মদের নাকি আল্লাহর? পর্ব-৪(নবুয়ত্বের দাবী সঠিক?)

  1. কষ্ট করে পড়ে তো আর সময় নষ্ট
    কষ্ট করে পড়ে তো আর সময় নষ্ট করে লাভ হলনা। আপনি কুরআন আর হাদীসের বিপক্ষ কিছু লিখার আগে ভাল ভাবে কুরআর নিয়ে গবেষণা করুন। কোন জিনিস পুরপুরি না জেনে বা না পড়ে সেটার সম্বন্ধে কোন কথা বলা বোকামি ব্যতিত আর কিছু না।
    এ সম্বন্ধে বলতে গেলে অনেক প্রমান দিতে পারব ,এমন কি আপনাদের ধর্ম গ্রন্হ থেকেও। কিন্তু আমি ছাচ্ছি আপনি সেটা নিজে জানুন । আমার মনে হয় সেটাই ভাল হবে।

    1. নিবন্ধে যে বিষয়টা বলা হয়েছে ,
      নিবন্ধে যে বিষয়টা বলা হয়েছে , তার বিরুদ্ধে কোন যুক্তি উপস্থাপন করতে না পেরে আবোল তাবোল বকাই হলো মুমিনের কাজ। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই , কারন ইসলাম সেটাই মুমিনদেরকে শিখায়। মুমিনরা ইচ্ছাকৃতভাবে মূর্খ ও উন্মাদ থাকতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

      কোরান ও হাদিস থেকে যথাযথ রেফারেন্স কেউ তুলে ধরলে , সেটা যদি মুমিনের পছন্দ না হয়, তাহলে বলতে হবে , সে কোরান ও হাদিসের কিছুই বোঝে না। সোজা যুক্তি। কারন কোরান তো বলেছেই , কোন প্রশ্ন না করতে। তাই মুমিন তো কিছু জানে না। সুতরাং সোজা উত্তর – তুমি কোরান ও হাদিসের কিছুই বোঝ না।

      1. এ কোরআন কি বর্বর অশিক্ষিত
        এ কোরআন কি বর্বর অশিক্ষিত জাতির নিরক্ষর নবী দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব ? আপনাদের মুক্তমনা বিবেক কি বলে ? যে ব্রক্তি কোন প্রাতিষ্ঠাকি শিক্ষা গ্রহণ করেননি তিনি কি ভাবে এত বড় একটা গ্রন্থ রচনা করবেন? এমন কথা কোন পাগলকে বললে পাগলও বিশ্বাস করবেনা।
        আর কোরআনে কি বলে দেখুন তা হলে
        بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
        শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
        وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ [٢:٢٣]
        فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ [٢:٢٤]
        “আমি আমার বন্দার প্রতি যাহা অবতীর্ন করেছি, তাহাতে তোমাদের বিন্দুমাত্র কোন সন্দেহ থাকলে, তোমরা ইহার অনুরুপ কোন সূরা আনয়ন কর। এবং তোমরা যদি সত্যবাদি হও তাহলে আল্লাহ ব্যাতিত তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে নিয়ে আস। যদি আনয়ন না কর তবে সেই আগুনকে ভয় কর কাফিরদের জন্য যাহা প্রস্তুত করিয়া রাখা হয়েছে। (সূরা বাকারা:২৩, ২৪)।
        এটা এমন এক বিষ্ময়কর কথা, যা মানব ইতিহাসে কোন গ্রন্থকারই নিজের বইয়ের পক্ষে দাবি করেন নি এবং জ্ঞানবুদ্ধি থাকা অবস্থায় কোন মানুষই এমন সাহস করতে পারবেন না যে, সে কোরআনের মত একটা বই লিখে ফেলেছে।
        কোরআনের এই চ্যালেঞ্জ চলে আসছে সেই কোরআন নাযিলের সময় থেকে। শত শত লোক, শত শত সংগঠন এই চ্যালেঞ্জ এর মোকাবেলা করতে এগিয়ে এসেছে। চরমভাবে ব্যার্থ হয়ে সম্পূর্ণ নিরাস হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের সাবাইকেই।
        দুটি ঘটনা :
        ১. লবিদ বিন রাবিয়া। তৎকালীন আরবের শেষ্ঠ কবি। তার শক্তিশালী ভাষা আর তেজোদিপ্ত ভাব তাকে সারা আরবে পরিচিত করে তুলেছিল। উনি যখন কোরআনের এই চ্যালেঞ্জের কথা জানলেন তখন জবাবে একটি কবিতা রচনা করে কাবা শরীফের চৌকাঠের উপর ঝুলিয়ে রাখলেন। পরে একজন মুসলমান কোরআনের একটি সূরা লিখে ঐ কিতাবের পাশে ঝুলিয়ে দেন।
        লবিদ পরের দিন কাবার দরজায় এলেন এবং ঐ সূরা পাঠ করলেন। অত:পর বললেন, “নি:সন্দেহে এটা মানুষের কথা নয় এবং আমি এর উপর ইমান আনলাম” অত:পর তিনি প্রকাশ্য কালেমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। তিনি কোরআনের ভাব আর ভাষায এতো বেশী প্রভাবান্নিত হন যে, পরবর্তীতে তিনি আর কোনদিন কোন কবিতাই রচনা করেন নি।
        ২. দ্বিতীয় ঘটনাটি হল ইবনে মুকাফ্ফা এর। যা ঘটে কোরআন নাযিলের প্রায ১০০ বছর পর। এই ঘটনা প্রথমটির চাইতেও চাঞ্চল্যকর। এই ঘটনা সম্বন্ধে প্রাচ্যবিদ Wollaston বলেন “That Muhammad is boast as to the literary excellence of Quran was not unfounded is further evidence by a circumstance which occurred about a century after the establishment of Islam”
        ঘটনাটি এরকম, ধর্মবিরোধীদের একটি সংগঠন সিদ্ধান্ত নিল ওরা কোরআনের অনুরুপ একটি বই লিখবে। এই লক্ষে ওরা ইবনে মুকাফ্ফার (মৃত্যু-৭২৭ খৃ:) কাছে এলো। যিনি ছিলেন ঐ সময়ের সবথেকে জ্ঞানী, প্রখ্যাতি সাহিত্যিক এবং বিষ্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। তিনি তার নিজের কাজের উপর এতো বেশী আস্থাবান ছিলেন যে উনি সাথে সাথে রাজি হয়ে যান। এবং বলেন এক বছরের মধ্যে তিনি কাজটি করে দিবেন। শর্ত ছিল এই এক বছরকাল সময়টা যাতে তিনি পুরোপুরি মনোযোগের সাথে সূরা রচনা চালিয়ে যেতে পারেন এ জন্য তার যাবতীয় সাংসারিক আর অর্থনৈতিক কাজের দায়িত্ব সংগঠনটিকে নিতে হবে।
        ছ’মাস পেরিয়ে গেলে সঙ্গিরা কি পরিমান কাজ হয়েছে জানার জন্য তার কাছে এলো। তারা দেখতে পেল বিখ্যাত ঐ ইরানী সাহিত্যিক অত্যন্ত ধ্যানমগ্ন অবস্থায় হাতে একটি কলম নিয়ে বসে আছেন; তার সামনে রয়েছে একটি সাদা কাগজ এবং কক্ষের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ছিড়েফারা কাগজের স্তুপ। অসীম প্রতিভাধর, যাদুকরী ভাষার অধিকারী ঐ ব্যাক্তি আপন সর্বশক্তি ব্যায় করে ছয়মাস চেষ্টা করে কোরআন তো দূরের পথ একটি আয়াতও রচনা করে উপস্থাপন করতে পারেন নি।
        যা হোক শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত লজ্জিত ও নৈরাশ্যমনে তিনি কাজে ইস্তফা দেন। এই ঘটনাটি ঘটেছিল কোরআন নাযিলের ১০০ বছর পর। কুরআনের ঐ চ্যালেঞ্জ কত শতাব্দি পেরিয়ে গেছে আজো বিদ্যমান। এই চ্যালেঞ্জ থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত।
        সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না পৃথিবীর তাবত তাগুতি শক্তি কিভাবে পরাজিত হয়ে আছে কোরআনের কাছে ..
        আরো প্রমান চাহিলে নিচের লিঙ্কে আমার ব্লগ দেখুন ….
        http://www.istishon.com/?q=node/21671#sthash.KVGIi9i5.dpbs

    2. // কোন জিনিস পুরপুরি না জেনে
      // কোন জিনিস পুরপুরি না জেনে বা না পড়ে সেটার সম্বন্ধে কোন কথা বলা বোকামি ব্যতিত আর কিছু না।//

      আপনি কতটুকু পড়েছেন বা জানেন সেটুকু আমাদের শেখান আমরা শিখি।

  2. In the first place, the
    In the first place, the middle books of the Pentateuch (Exodus, Leviticus, and Numbers: Genesis contains no mention of him) allude to Moses in the third person, as in “the Lord spake unto Moses.” It could be argued that he preferred to speak of himself in the third person, though this habit is now well associated with megalomania, but this would make laughable such citations as Numbers 12:3 in which we read, “Now the man Moses was very meek above all the men which were on the face of the earth.” Apart from the absurdity of claiming to be meek in such a way as to assert superiority in meekness over all others, we have to remember the commandingly authoritarian and bloody manner in which Moses is described, in almost every other chapter, as having behaved. This gives us a choice between raving solipsism and the falsest of modesty.
    —Christopher Hitchens, God Is Not Great: How Religion Poisons Everything

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *