কোন দিকে যাচ্ছে ধর্ম এবং নাস্তিক্যবাদ আর আমাদের সংবাদ

সংবাদখেকো জনগণ আর তথ্যবাবুর্চি সাংবাদিক স্রষ্টার এক অপার সৃষ্টি এ দুটো। ভুল তথ্যে বানানো গল্পের কাব্যিক উপস্থাপনা সংবাদের নামে জনশিহরণ জাগাতে পারে, তবে আর যাই হোক এই ধারাকে সাংবাদিকতা বলা যাবে না। এই ধরণের মিথ্যা,বানোয়াট তথ্যে তাড়িত বিভ্রান্তিকর সাংবাদিকতা আর কিছু না করুক মানুষের অপরাধ প্রবণতাকে উস্কে দেয়। আসলে যা ঘটেই নি, তাও যখন মিডিয়াতে স্থান পায়। যে মানুষগুলো কোনো কিছু না করেও মিডিয়ার চোখে অপরাধী হয় তারা ভাবতেই পারে আচ্ছা একটু অপরাধ করে দেখি কি হয়?

আমার ধারণা জঙ্গীবাদ থেকে শুরু করে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে লাম্পট্য কিংবা দুর্নীতি পৌণঃপুণিকভাবে বাড়িয়ে তোলার পেছনে এগুলোর রোমহর্ষক গল্প ফাঁদা ধর্ষকামী গণমাধ্যমই দায়ী। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না, একটা টিভি চ্যানেলের একঘণ্টার টিআরপি একটা দেশে গণমানুষের এক বছরের কান্নার খোরাক জোগাতে পারে। কিংবা পত্রিকার পাতায় একটা খবরের কাটতি বাড়ানোর অপচেষ্টা কোনো দেশের অনাগত একযুগকে অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিতে যথেষ্ঠ।

সংবাদখেকো জনগণ থেকে শুরু করে এটা সবারই প্রায় জানা। তবুও কেউ কেউ সাংঘাতিকভাবে সাংবাদিক, তারা খবর জানেনা, খবর শুনে না স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে খবর তৈরি করে। এই তৈরি করা সংবাদে ঝাল-মশলা-লবণ মাখিয়ে উপযুক্ত সালাদসহ যখন পরিবেশন করা হয় পাবলিক সেগুলো খেতে বাধ্য। আর এসব গুরুপাক সংবাদ যখন সবার কান হয়ে মাথায় যায়, তাদের হয় বুদ্ধিবৃত্তিক বদহযম এবং মস্তিষ্কের আমাশয়। আমরা সবাই-ই এখন কম বেশি ঐ গুরুতর রোগে আক্রান্ত।

ফুটনোটঃ
পাকিস্তানের Poonam Pandey বলা যেতে পারে এক নারী মডেলকে যার নাম Qandeel Baloch । ইমরান খানপন্থী এক কথিত হুজুরের সঙ্গে তার সেলফি প্রকাশ বিশ্রিভাবে গণমাধ্যমে ঠাঁই পায়। আজ মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার ভাইই গুলি করে মেরেছে তাকে। অবাক কাণ্ড ঐদিন হুজুরের সঙ্গে সেলফি তোলা নিয়ে তার কিউট, ড্যাশিং, বোল্ড এবং সেক্সি ছবি পত্রিকার পাতা ভরার সুযোগ করেছিলো তথ্যমজুরদের। আজও হয়ত তার মৃত্যুতে কিছু আসবে যাবে না। পত্রিকার পাতা জুড়ে একটু গ্লামার বাড়াবে অপেক্ষাকৃত খোলাভাবে দেহের স্পর্শকাতর অঙ্গ প্রদর্শন করা বেশ সুন্দর মুখশ্রীর এই মেয়েটার কিছু ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *