যুদ্ধ “শাহানা’

যুদ্ধ “শাহানা’

আমি অনেক বিভৎস অনেক লাশ দেখছি। নিজ হাতে তাদের দাফনও করেছি বিভিন্ন সময়ে। শ্বসানে গিয়ে রাত্রি জেগে সৎকার করেছি।আল্লাহ সেই তৌফিক দিয়েছেন আমাকে। তাই বিভৎসতা দেখতে তেমন টা লাগছিলোনা যতটা অন্যদের লেগেছে। এই কয়দিন লাশগুলো দেখেও তেমনটা উৎকন্ঠা হয়নি যতটা অন্যদের হয়েছে।
তবে উৎকন্ঠাটা হয়েছিলো জীবিত প্রাণ গুলো নিয়ে। যখন ই মিডিয়া গুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে বলছিলো আরো জীবিত প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাদের কাছে অক্সিজেন পৌছানো হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তখনই মনে হচ্ছিল তারা বাচবে, বা সেফ জোনে চলে এসেছে। সাদিককে যখন ১০০ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে অক্ষত ভাবে। তখন ব্র্যাভো ব্র্যাভো করছিলাম উদ্ধার কর্মীদের। তারা ১ এর পর ১ জয় ছিনিয়ে আনছে। আশা যেন বাড়ছিলো। তেমনি শাহানাকে নিয়ে খুব স্নায়ুচাপে ছিলাম। উদ্ধার হবেই উদ্ধার হবেই!!!কারন উদ্ধারকর্মীদের জয় খুব কাছাকাছি। ৬ঘন্টা ধরে তার পাশে উদ্ধার কর্ম চালাচ্ছে।তাকে অক্সিজেন পানি দেওয়া হয়েছে। সে সেফ জোনে চলে এসেছে। হঠাৎ একটূ ভুলে খেলা পুরোই ঘুরে গেল। ৭ ঘন্টার যুদ্ধের শেষ মুহুর্তে নিভে গেল সেই পরমভাবে পাওয়া বাতির আগুনটি। যারা ফায়ারিং স্কোয়াডে সুট করতে একটুও আবেগতারিত হন না তাদের চোখেও অশ্রুজল। এই অশ্রুজল পরাজয়ের। নিজেকেও ধরে রাখতে পারিনি।হুম তবে তারা উদ্ধারকর্মীরা লড়েছেন বটে। মানবতার খাতিরে তারা ভুলেই গেছিলেন নিজের জীবনের কথা। ৭ ঘন্টায় শাহানাকে নিজের মায়ের পেটের বোন বানিয়ে নিয়েছেন। তাইতো সবাই এতটা আবেগতারিত। তাইত ডাক্তার সাহেব ভুলেই গেছিলেন আগুন লাগার সময় কখন সবাই পিছে থেকে বেড়িয়ে গেছে।কিন্তু উনি শাহানা কে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। শুধু উদ্ধার কর্মীরা নয়, পুরো জাতীর অন্যতম বোন হয়ে দাঁড়িয়েছে শাহানা। আজ যেন শাহানা তুষের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়ে গেল। শোক যেন ১০০ গুণ বেড়ে গেল।

মঝে মাঝে কেন যানি শাহানার উপর রাগ উঠছে। যাবি যখন আগে গেলিনা কেন!!!??
গেলি গেলি এ জাতীকে তুই ই আরেকবার কাদিয়ে গেলি। :'( :'( :'( :'( :কানতেছি: :কানতেছি:
যারা শাহানার উদ্ধার কার্যক্রম ক্রমে ক্রমে জানছিলেন তারা নিশ্চিত আফসোস করছেন বার বার।
আফসোস করছি আমিও।বার বার মাথার মধ্যে আসছে। শরীরের পশম গুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।আমার মাথায় কেমন যেন হচ্ছে। নাহ ঘুম আসছেনা।!!! মনে হচ্ছে সময়টাকে যদি আবার পেছনে নিয়ে যেতে পারতাম তবে শুধু শাহানা কে বাচানোর জন্য নিয়ে যেতাম। কিন্তু তা হবেনা জেনেও, চিন্তাটা ঘুরপাক খাচ্ছে।

শাহানা তুমি ঘুমাও চীর নিদ্রায়। তোমাকে আল্লাহ বেহেশত দান করুক।

পরাজয় বরণ করলেও মানবতার জয় হয়েছে “শাহানা’ যুদ্ধে। তার প্রমাণ উদ্ধার কর্মীদের চোখে মুখে। তাই এখনো তাদের ব্র্যাভো জানাই। মানবতার জয় আরেকবার করল বাঙ্গালী।

৭ thoughts on “যুদ্ধ “শাহানা’

    1. আমি তো রাগ করে tv ই বন্ধ করে
      আমি তো রাগ করে tv ই বন্ধ করে দিছি । আপনার জন্য tv open করলাম।
      কৈ এখনও নিশ্চিত না। 🙁 🙁 🙁 🙁 আপনি আবার আমাজে মিথ্যে আশ্বাস দিলেন। 🙁 🙁 🙁
      মেয়েটা শুধু তার বাচ্চাটার জন্যই বাচতে চাইছিলো !! 🙁 🙁 🙁 🙁

  1. বুকটা ফেটে যাচ্ছে, তবুও বুকে
    বুকটা ফেটে যাচ্ছে, তবুও বুকে পাথর চাপা দিয়ে এই দৃশ্য সহ্য করে করে সামনের দিনগুলো কেমন যাবে জানিনা

Leave a Reply to রাতের কোকিল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *