প্রেমপত্র-৮৮

পাগলী,
তুমি জানো এখন রাত ২টা ৩টার আগে ঘুমানো হয় না। খুব ইচ্ছে যখন তুমি থাকবে,তোমার সাথে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শত শত রুপকথার গল্প করবো।আর আমাকে তাড়াতাড়ি ঘুমুতে পাঠানোর জন্য তুমিও সব কাজ ফেলে আমার সাথে গল্প করবে।আমি ঘুমিয়ে গেলে তুমি তখন তোমার বাকি কাজ শেষ করবে।মনে আছে, আমি অনেক অসুস্থ যদি হয়ে যাই তখন তুমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলবে যাতে আমার অসুখ
আল্লাহ তোমায় দিয়ে দেন!কি এমন পাগলি কি হবে তুমি?জানো, আমি পাগলের মতো হয়ে গেছি? ঠিক তানা বলতে পারো তোমার জন্যে পাগলি।
ক্ষুধা লাগেনা ঘুম আসেনা।রাত জেগে কাজ করি।মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে যাই। সকালবেলা কেউ ডেকে দেয় না।ইস্ তুমি যদি পাশে থাকতে?
আমি এমনই কারন কয়েক হাজার রাত নির্ঘুম কাটানোর জন্য তোমার ঐ শান্ত, ঘুমন্ত মুখখানিই যথেষ্ট !তুমি শুধু মাঝরাত্তিতে ঘুমন্ত তোমাকে অবাক বিস্ময়ে দেখে যাওয়ার অধিকারটুকু দিও !তবুও একজন “আমি ” বেঁচে থাকতে একজন ” তুমি ” লাগবেই.।আমার বেঁচে থাকার জন্যে তোমাকে লাগবেই।অনেক পথ হাটার পর যখন দেখব,আমার পেছনের রাস্তা আর দেখা যাচ্ছে না সামনে শুধুই তুমি,তখন বুঝব আমি পথ অতিক্রম করেছি।অনেক ভালবাসার পর যখন দেখব আমার জন্যে তোমার চোখ থেকে এক বিন্দু অশ্রু ঝরে পরছে,তখন বুঝব আমি তোমাকে ভালবাসতে পেরছি।যদি আমি তখন না থাকি তবে তাই সই।
ঈদ গেলো,গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ গেলো,আমার খুব বলতে ইচ্ছে করে পাগলী নীল শাড়িটা পড়ে আসবা, মুঠ ভর্ভি চুড়ি থাকবে হাতে, পারলে একটু আলতা দিও,আর একটু কাঁজল।
বুঝলে না পাগলী হৃদয়ে ক্ষত তা তোমার কারণেই তাই,তুমিই সেলাই করে দেবে বিনা মজুরিতে।কিছু নেই এমন যা দিতে পারি তোমাকে,ঠান্ডা মাথায় অনেক দেখেছি ভেবে!শুধু ভালবাসা নিও,আর কিছু তোমার দেয়া ক্ষত থাকুক এবুকে ও এক ভালো!তোমাকেই গেঁথে দেবো কবিতার শরীরে প্রতি রাতে বিনা মজুরিতে বিনা শর্তে!
তবে তুমি যাই বলো না পাগলী, এক হ্যাঁচকা টানে চুল ধরে কাছে টেনে আনবো, খবরদার যদি চোখ থেকে চোখ অন্যদিকে সরিয়েছতো।
একটা বউয়ের বড়ই অভাব,আমার তোমার বড্ড অভাব গো।
ইতি
অনিমেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *