রক্তভেজা ১২ই জুলাইঃ ভুলে যাওয়া একটি জ্বলন্ত দিন

আজ সেই ভয়াল ১২ ই জুলাই .এইট মার্ডার দিবস।

আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০০০ সালের এইদিনে চট্টগ্রাম গভঃ কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলনে যাওয়ার পথে আচমকা নেতাকর্মী ভর্তি একটি মাইক্রোবাসেকে বহদ্দারহাট মোড়ে ঘিরে ফেলে ছাত্রশিবিরের কিলিং স্কোয়াড। চারদিক থেকে ঘিরে “নারায়ে তাকবীর ,আল্লাহ আকবর” শ্লোগান দিয়ে ak 47 আর m 16 রাইফেল থেকে শুরু করে ব্রাশফায়ার্। গাড়িতেই বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝড়া হয়ে লুটিয়ে পড়েন ছাত্রলীগের ৮ জন নেতাকর্মী। আমার বন্ধু হেলাল ও সেদিন শহীদ হন। হেলাল সে সময়ে কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট এর ভিপি ছিলো। বয়সে আমার বড় হলেও আমাদের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সেটা কখনোই বাধা ছিলো না।

স্মরণকালের নৃশংসতম এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আমি প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন। সেদিন আমরা সংবাদ পেয়ে বহদ্দারহাটে পৌঁছে এক হৃদয়বিদাড়ক দৃশ্যের মুখোমুখি হই। বুলেটে ঝাঁঝড়া মাইক্রোটার সামনে পড়ে আছে হেলালের লাশ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাজপথ। উচ্চ মাধ্যমিক পড়তাম তখন। সেই বয়সে এতটা নৃশংসতা সহ্য করার মতো মানসিকতা ছিলো না। রীতিমতো বাকশক্তি হারিয়ে ফেলছিলাম। সে যে কি ভয়ানক , বীভৎস দৃশ্য তা কল্পনা করতেও গা শিউড়ে ওঠে এখনো।

শিবির ক্যাডারদের হাতে সে দিন ছাত্রলীগের শহীদ ছাত্রনেতারা হচ্ছেন,চট্টগ্রাম সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট (পলিটেকনিক এলাকাস্থ) ছাত্র সংসদের ভিপি হাসিবুর রহমান হেলাল, এজিএস রফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইনস্টেটিউটের ছাত্র জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়েজিদ বোস্তামী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শেরশাহ কলেজ ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবুল কাশেম, জাহিদ হোসেন এরশাদ তাদের সাথে নিরীহ মাইক্রোবাস চালক মনু মিয়া এবং অটোরিকশা চালক কাশেম।
আমাদের সেদিনের কমরেডদের স্মৃতির প্রতি আবার জানাই সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আমরা তোমাদের ভুলবোনা বন্ধুরা…………………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *