একটি বাংলাদেশ ও অনেক গুলো শকুন

প্রথমেই ব্যক্তিগত একটা কথা জানিয়ে দেই। ইস্যু ভিত্তিক লেখা আমার আসে না। মোটামুটি কিছুক্ষণ চিন্তা করে, সেটা যাচাই বাছাই করে এরওপরে সেটা বাতিল করে আবারো চিন্তা করেই হয়তো কোন একটা সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ততক্ষণে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রায় হাজারখানেক পোষ্টের লক্ষাধিক লাইক, আর নানা মুনির নানা মতে আমরা মানব নিতম্বের মতো দুইভাগ, কিংবা লটকনের কোষের মতো তিন চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যাই।

জন্মভূমি বাংলাদেশ আমার মা, আমাদের সকলের মা (যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের সমর্থক এই লিস্ট থেকে বাদ যাবে)। প্রতিটি দেশের কাছে তার নাগরিকদের কিছু চাওয়ার থাকে, সেইভাবে দেশের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্যও থাকে। আমাকে আমার দেশ কিছু দিলো না তার মানে এই দেশ আমার না ব্লা ব্লা ব্লা এইসব লেইম লজিক ছাড়া কিছুই নয়। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন “দেশের জন্য আপনি কতটুকু কি করেছেন?” উত্তর পেয়েছেন কি? না পেলে আবারো করুন। আর এরপরেও উত্তর না পেলে আপনার মস্তিষ্ক এখনো বিকশিত হয়নি। আপনি আরো ধৈর্য্য ধরুন, লাইনে থাকুন।

সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে একটু তাকাই। পহেলা জুলাই ২০১৬। গুলশান হলি আর্টিজেন বেকারীতে জঙ্গী হামলা। সেই ঘটনা আবার মিডিয়ায় লাইভ টেলিকাস্ট করা হলো। একদিকে প্রশাসন আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা র‍্যাব পুলিশ প্ল্যান বানিয়ে শেষ করতে পারে না তার আগেই মিডিয়ার বদৌলতে তা রাষ্ট্র হয়ে যায়। একেকজন ফারজানা রূপা জঙ্গীদের থেকেও বেশি ভয়ানক। এতো গেল আমাদের সাধারণ ইন্সটিঙ্কটের কথা। একটা হামলার ঘটনায় আপনি মানুষের প্রাণ রক্ষার চেষ্টা না করে নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের লাল নীল হলুদ বাত্তি জ্বালাচ্ছেন।

হামলার পরবর্তী ঘটনা আরো আশ্চর্যবোধক। বারো ঘন্টার হোস্টেজ সিচুয়েশন মাত্র ১৩ মিনিটের পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্টে শেষ করে আমাদের কমান্ডোদের কেই উলটো ভিলেন বানানো হচ্ছে।। কেন কমান্ডো অপারেশন আরো আগে হলো না, কেন এটা নাই, কেন ওটা নাই সহ আরো কত আকুতি…! মুম্বাই তাজ হোটেল হামলার কথা মনে আছে? ভারতের বিশ্বসেরা গুর্খা রেজিমেন্টের কমান্ডো থাকা সত্বেও মাত্র দশ জন সন্ত্রাসী প্রায় ৫৭ ঘন্টা আয়ত্ত রাখতে পেরেছিল। আর নিহতের সংখ্যাটা নাহয় বাদই দিলাম। সেখানে আমাদের কমান্ডো মাত্র বারো ঘন্টায় জঙ্গিদের নিরস্ত্র করতে সক্ষম সেইটাও আমরা প্রশংসার চোখে দেখি না। এসি রবিউল কিংবা ওসি সালাহউদ্দিনের মৃত্যুও আমাদের কাছে স্বাভাবিক।

কেন সম্ভ্রান্ত ঘরের সন্তানেরা ধর্মীয় উগ্রবাদে আকৃষ্ট হচ্ছেন সেটা নিয়েও অনেকে অনেক হাউকাউ করলো। সুশিক্ষার অভাব, বাবা মার উপর্যুক্ত সাহচর্য, ব্রেইনওয়াশ সহ আরো অনেক যুক্তিই পড়লাম। সবচেয়ে হাস্যকর যুক্তি ছিলো ভালোবাসার অভাব। একটি স্বনামধন্য ইউনিভার্সিটির ছাত্র যখন জঙ্গী হয় তখন আর যাই হোক ভালোবাসার অভাব হওয়ার কথা না। তারা কেউ ব্রোকেন ফ্যামিলির ছিলো না, বেশিরভাগই বিলাশবহুল জীবন যাপন করতো। আর বেহেশতের ৭২ হুরের কথা বলে ব্রেইনওয়াশের কথা বলছেন তারা আবার এনএসইউতে সুন্দরী ললনার আধিক্যের কথা অস্বীকার করবেন না যেন।

আর রইলো বাকি ভালোবাসা। যখন কেউ আপনার গলা কাটতে চাপাতি হাতে রওনা হবে তখন তাকে দেখতে পেলেই চিৎকার করে বলুন ভালোবাসি। যদি আগে বুঝতে না পারেন তাহলে কাছাকাছি আসলে হামলাকারীকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলুন ভালোবাসি, ভালোবাসি; সেই সুরে কাছে আসি। মনে রাখবেন অভিজিৎ দা কিংবা ওয়াশিকুর বাবু কেবল হামলাকারীদের ভালো না বাসার জন্যই মারা গেছে। তাই আজই ফ্রি তে জঙ্গীদের ভালোবাসুন।

যে জানোয়ার ২০ জনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করতে পারে তাকে অন্তত আর যাই হোক ভালোবাসা যায়না। পরিশেষে পহেলা জুলাইয়ের হামলায় নিহত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা। আর সকলের জন্য নিরাপত্তার প্রার্থনা, ভালোবাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *