ওষ্ঠ-যষ্ঠি সমাচার

ওষ্ঠিযষ্ঠি নারীদের মধ্যে একটি অতীব প্রসিদ্ধ এবং প্রচলিত প্রসাধনী সামগ্রী। বালিকা হইতে তরুণী, মধ্যবয়সী নারী, সবার মধ্যেই ইহার প্রচলন রইয়াছে। তাহারা সায়াহ্ণে, মধ্যাহ্ণে অথবা অপরাহ্নে অথবা রাত্রিরে, ঈষৎ হউক অথবা ব্যাপক, সাজগোজের প্রয়োজন পড়িলেই ইহা ওষ্ঠে লাগাইবেই।
তো যাহা বলিবার জন্য এই ভূমিকার প্রত্যাবর্তন করিলাম তাহাই বলি এবার।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বালক এবং যুবকদিগকে দেখা যায় তাহাদের প্রেমিকার ওষ্ঠের ওষ্ঠকাঠির স্বাদ লইয়া গবেষণা করিতে। কিন্তুক আমি অতীব ভাল, ভদ্র এবং সুশীল বালক হইবার কারণে অদ্যপি প্রেম করা হইয়া উঠে নাই। তাহার ফলে কোনো প্রেমিকাও নাই। যাহার দরুণ এই স্বাদ সম্বন্ধে আমার জ্ঞান অতীব সীমিত। কিন্তুক আমি বাল্যকাল হইতেই অতীব কৌতূহলী। তাহার কারণেই আমারো জানিতে ইচ্ছা জাগিলো, ইহার স্বাদ কেমন! কিন্তুক অনেক সন্ধান করিবার পরও তাহা জানিবার কোনো পথ পাইতেছিলাম না। তখন আমার মস্তিষ্কে এক ভাবনার উন্মেষ হইল। আমার কিছু সংখ্যক এই বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বান্ধব রইয়াছে। তো আমি তাহাদেরই নিকত সমর্পিত হইলাম। তাহাদের নিকট হইতে বিভিন্ন তথ্যাদি জানিবার পূর্বক আমি সেই ওষ্ঠের ওষ্ঠযষ্ঠির স্বাদ সম্বন্ধে যেই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলাম তাহা এক বাক্যে প্রকাশ করিতে গেলে যেরূপ হইবে :
“উহার স্বাদ ঈষৎ তিতকুটে, পণ্যভেদে ঈষৎ মিষ্ট এবং কতিপয় ঈষৎ আঠালো যাহা দন্তে লাগিয়া থাকে, তবুও প্রতিবারই তাহার স্বাদ মধুময়, অতীব মধুময়।’’

তো, তাহার পর হইতেই ইহার স্বাদ লইবার অদম্য ইচ্ছা জাগিতেছে, সেই হেতু ঠিক করিলাম বাটী হইতে নিকটে কোনো বিপণী বিতান হইতে একটি ওষ্ঠযষ্ঠি কিনিয়া আনিয়া তাহা চর্বণ করিয়া ভক্ষণ করিয়া তাহার স্বাদ গ্রহণ করিব। অনেকটা দুগ্ধের স্বাদ ঘোলে মিটাইবার প্রচেষ্টা হইবে ইহা, তাহাতে সন্দেহ নাই। তবুও কৌতূহলের কাছে সবকিছুই পরাজিত।
কিন্তুক মূল্য না জানিবার দরুন আমি বিভ্রান্ত। হে আপুসমাজ, দয়া করিয়া ইহার মূল্য জানাইয়া আমাকে বাধিত করিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *