আই এস নিয়ে ইসলাম কি বলে, আমরা কি শুনি!!!

বিডিনিউজ২৪ আর্টিকেলের একটি লেখা হঠাৎ চোখে পড়লো, “আইএস নিয়েই সতর্ক করেছিলেন মহানবী” শীর্ষক লেখাটি পড়ে কিছুটা অবাক হলাম। নতুন করে চিন্তা করতে বসলাম, এই বিষয়ে আমি যা জানি তা কি তবে ভুল???
উক্ত লেখাটির মিথ্যাচারের পরিমাণ আমার কাছে অস্বাভাবিক রকমের বেশী মনে হল এবং পরিচিত অনেককেই লেখাটি শেয়ার করতে দেখলাম বলেই এই লেখাটির অবতারনা। উক্ত লেখায় লেখক কোন রেফারেন্স না দিলেও আমি আমার লেখায় যথাসাধ্য রেফারেন্স দেয়ার চেষ্টা করেছি।

লেখাটির লেখক বলেছেনঃ

“কোরআনের নিবিড় পাঠে এটা স্পষ্ট যে, আইএস-এর মতো দলগুলোর কর্মকাণ্ড ইসলামের বিধি-বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কোরআনে একটি হত্যাকাণ্ডকে ‘পুরো মানবজাতিকে নির্মূল করার’ সমতুল্য বলা হয়েছে (সুরা মায়েদাহ) এবং ফিৎনাকে (নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা) বিবেচনা করা হয়েছে হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ হিসেবে (সুরা বাকারা)।

সুরা মায়েদার ৩২ নাম্বার আয়াত বর্তমান মোডারেট মুসলমানদের খুব প্রিয় একটি আয়াত। যে আয়াত দিয়ে তারা প্রমান করার প্রয়াস নেন ইসলামে মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ!!!
অথচ আয়াতের প্রথম অংশ এবং পরবর্তী আয়াত এরা বেমালুম চেপে যায়। যারা আয়াতটি প্রচার করে তাদের উচিত আয়াতের প্রথম অংশ এবং পরবর্তী অংশ একসাথে সেয়ার করা, কারন একা ৩২ নাম্বার আয়াত নিঃসন্দেহে এর পরিপূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করে না। এই আয়াত নিয়ে একটি বিস্তারিত লেখা লিখবার ইচ্ছে আছে বলে এই নিয়ে মন্তব্য না করে মুল বক্তব্যে ফিরে যাই।

লেখক আরো দাবি করেছেন

“ইসলামে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিবেকের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মত্যাগ ও ধর্মনিন্দার (ব্লাসফেমি) জন্য ইহজাগতিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”

আশ্চর্য!!! তিনি এই ফতোয়া কই পেলেন??? তার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে কোরআন সুন্নাহর বিপরীত; একটা রেফারেন্স কেউ দিতে পারবে না এই কথার পক্ষে। কিন্তু বিপক্ষে রেফারেন্স দেয়ার প্রয়োজন দেখিনা, কারন কোরআন হাদিস সম্পর্কে যাদের বিন্দুমাত্র ধারনা আছে তারা নিজেরাই বুঝবেন লেখক মিথ্যাচার করেছেন।

এখন চলুন মুল বিষয়ে ফিরে আসি। চলুন দেখি আই এস সম্পর্কে হাদিসে নবি কি বলেছেন।

“পূর্বদিক (হেজাজ বা মক্কা মদিনার ‘পূর্ব দিক’ বলতে ইরাক থেকে খোরাসান বা আফগানিস্তানকে বুঝায়) থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে, যারা ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ করে দিবে”।(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৩, হাদিস নং ২৮৯৬; সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ৩, হাদিস নং ৪০৮৮)

“যখন তোমরা দেখবে, কালো পতাকাগুলো খোরাসানের দিক থেকে এসেছে (বর্তমান আফগানিস্থান), তখন তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যেও। কেননা, তাদেরই মাঝে আল্লাহর খলীফা মাহদি থাকবে”। (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৭; কানজুল উম্মাল, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৪৬; মিশকাত শরীফ, কেয়ামতের আলামত অধ্যায়)

“ঐ দিক থেকে একটি দল আসবে (হাত দিয়ে তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন)। তারা কালো পতাকাবাহী হবে। তারা সত্যের (পূর্ণ ইসলামী শাসনের) দাবী জানাবে, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হবে না। দুইবার বা তিনবার এভাবে দাবী জানাবে, কিন্তু তখনকার শাসকগণ তা গ্রহণ করবে না। শেষ পর্যন্ত তারা (ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব) আমার পরিবারস্থ একজন লোকের (ইমাম মাহদির) হাতে সোপর্দ করে দিবে। সে জমিনকে ন্যায় এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে ভরে দিবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে ভরে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঐ সময় জীবিত থাকো, তবে অবশ্যই তাদের দলে এসে শরীক হয়ে যেও – যদিও বরফের উপর কনুইয়ে ভর দিয়ে আসতে হয়”।
(আবু আ’মর আদ দাইনিঃ ৫৪৭, মুহাক্কিক আবু আবদুল্লাহ সাফেঈ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)

“শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক পূর্বদিক থেকে কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে পাঠাবেন। যারা ঐ কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে সাহায্য করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে সাহায্য করবেন। যে তাকে ছেড়ে দিল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে ছেড়ে দেবেন। তারপর ঐ কালো পতাকাবাহী দল এমন এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর কাছে আসবে – যার নাম আমার নামের মতো হবে। তারা ঐ ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর উপর শাসনব্যবস্থার দায়িত্ব সোপর্দ করবে। সুতরাং, আল্লাহ তায়ালাও তাদেরকে সহযোগিতা করবেন”।(আলফিতান, নুয়া’ইম ইবনে হাম্মাদঃ ৮৬০)

“যখন কালো পতাকাগুলো পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে বের হবে, তখন কোন বস্তু তাদেরকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। এমনকি এই পতাকাকে ইলিয়ায় (বাইতুল মুকাদ্দাসে) উত্তোলন করা হবে (খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে)”।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭৬০)

এই হাদিস গুলো দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল আই এস ইমাম মাহাদির জন্যই খেলাফত এবং ইসলাম কায়েম করছে। প্রতিটা মুসল্মান ইমাম মাহাদির অপেক্ষা করে অথচ আই এস কে জঙ্গি বলে; এটা সরাসরি ইসলাম বিরোধিতা। নবির সরাসরি নির্দেশ, আই এস কিংবা তালেবান যখন তাদের দিকে মুসলমানদের আহবান করবে তখন তাদের সাথে যোগ দিতে হবে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ।

অথচ আমাদের আধুনিক মোডারেট মুসলমানেরা আই এস তালেবান কে জঙ্গি বলে; তারা সঠিক ইসলামে নেই বলে দাবি করে। যেখানে হাদিস গুলো থেকে স্পষ্ট যে আই এস তালেবানদের আল্লাহই পাঠিয়েছেন; তারা সঠিক ইসলাম প্রতিষ্ঠা করছেন। আজ যে সকল মুসল্মান আই এস কে জঙ্গি বলছে; ইমাম মাহাদি এলেও তারা তাকে অস্বীকার করবে, জঙ্গি বলবে!!!

এত হাদিস দেয়ার পর প্রশ্ন আসবে; আই এস ই যে সেই পূর্বদিকের কালো পতাকাবাহী দল তার প্রমান কি???
এখানে আমি উক্ত লেখকের রেফারেন্স গ্রহন করব। যারা সেয়ার করেছে তারা কিন্তু আগেই মেনে নিয়েছিল যে আই এস ই সেই কালো পতাকাবাহী দল জার উপর কলেমা অঙ্কিত রয়েছে!!

কালো পতাকাবাহী বলতে যে আই এস কেই বুঝিয়েছে তা আলীর বয়ান করা হাদিসটি থেকেই স্পষ্টঃ

কিতাব আল ফিতানে মহানবীর চতুর্থ উত্তরসূরি খলিফা আলীর বর্ণিত আরেকটি হাদিসের কথা বলা যায়। সেখানে এদের বর্ণনা করা হয়েছে ‘কালো পতাকাধারী দীর্ঘ চুলের পুরুষ’ হিসেবে। বলা হয়েছে, তাদের ‘অন্তর হবে লোহার মতো শক্ত’ এবং তারা একটি রাজ্যের (আসাব উল দাউলা) প্রতিনিধিত্ব করবে। মজার বিষয় হল, আইএস নিজেদের ইসলামিক স্টেট বা দাউলা হিসেবেই পরিচয় দেয়।

“হাদিসে আরও বলা আছে, তারা তাদের করা চুক্তি লঙ্ঘন করবে, অসত্য বলবে এবং নিজেদের নামের সঙ্গে যুক্ত করবে শহরের নাম। এ প্রসঙ্গে আইএস-এর খলিফা আবু বকর আল বাগদাদীর নাম মনে আসে।”

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
আমার লেখাটির মুল উদ্দেশ্য কখনোই আই এস কে প্রমোট নয়; কিন্তু মিথ্যা মনগড়া কথা এবং মিথ্যা বানোয়াট রেফারেন্স দিয়ে আই এস কে জঙ্গি বলবেন, আই এস তালেবান আমেরিকা ইস্রাইলের সৃষ্টি তাদের দোসর বলে মিথ্যাচার রটাবেন, আই এস এর বিরোধিতা করবেন ওদিকে ইমাম মাহাদির অপেক্ষা করবেন, লেখাটির উদ্দেশ্য মূলত সেটার প্রতিবাদ।

বিডিনিউজ২৪ এর লেখাটির লিঙ্কঃ http://bangla.bdnews24.com/world/article992683.bdnews

১ thought on “আই এস নিয়ে ইসলাম কি বলে, আমরা কি শুনি!!!

  1. হা হা হা,সত্যি আপনার জ্ঞানের
    হা হা হা,সত্যি আপনার জ্ঞানের প্রশংসা করতে হয়,তবে আপনার জ্ঞানটা একটু ভিন্ন যাকে মুখাস্ত বিদ্যা বলা যার, আপনার মাথায় তো সৃজনশীলতা,যৌক্তিক,বিশ্লেষনের জ্ঞান নেয়।যাকে বলে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।

    মাথা মোটার মত কথা বলেন কেন??
    কোন হিন্দু যদি কালো পাতাকা গ্রহন করে বলে আমি মুসলমান তা হলে ও কি মুসলমান হয়ে যাবে?
    আর আপনি যে সব রেফারেন্স দিয়েছেন,এর আগে ও পিছনের অনেক অংশ বাদ দিয়েছেন,এমন কি এ হাদীসেরর ব্যখ্যা ও অনুমান করতে পারেন নি।
    নিজের ভূল সংশোধন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *