প্রেমপত্র-৮৪

মাধবীলতা,
তোমার স্পর্শে রঙিন হবো বলেই এতটা দীর্ঘ পথ এসেছি। সময়ের বিপরীতে হেঁটেছি কতটা কাল।তোমার নামে এক মহাকাল বর্ষণেই
কেটে গেলো আমার। কতটা স্বিন্ন তুমি, কতটা স্নিগ্ধ তুমি,তোমাতেই মজেছি আজন্মকাল ;আলোর বিপরীতে যদি না থাকো,তবে আঁধার না হয় আমার নামেই তোলা থাক নিলাভ রাত্তিরে। অথচ তোমার কিন্তু জানা হয়নি আমার প্রতি রাত্তিরের ইতিহাস ! জানা হয়নি তোমার অযাচিত অবহেলাভরে কতটা নুয়ে আছি অনন্তকাল।কতটা ভালবাসি এটা ঘরের প্রতিটা সিলিং জানে,তিনপাখা ফ্যানটা জানে আর ঈশ্বর তো জানেনই।
আমার প্রতিটাক্ষন তোমার মধ্য মিশে থাকতে ইচ্ছে করে মনে মনে বলতে ইচ্ছে হয় আমাকে নিও,তোমার সকাল বিকাল চায়ের আড্ডায়,চিনি, দুধের পাশাপাশি আমাকেও গুলিয়ে দিও,আমি জেগে উঠব গরম কাপে ধোঁয়ায় ধোঁয়ায়,কাপ উপচে পড়া বাস্পে,আমাকে নিঃশ্বাসে নিও, ফুসফুসে যাবো না,তোমার নাকের ডগায় ঠাই করে নিব,এই আমাকে নাও, নিয়ে মিশিয়ে দাও।আমাকে পান করো,আটকাবো না, পাথর নই,ইচ্ছে হয় জিভতলে পড়ে থাকি,চুমুকে চুমুকে মিশে যায় তোমার ঠোঁটে,ছোবল মারি শরীরের প্রতিটি কোনায় কোনায় ভাঁজে ভাঁজে,এই আমাকে নাও, নিয়ে মিশিয়ে দাও।তুমি স্বাভাবিক থেকো,আমার অস্বাভাবিক এলোমেলো অশান্তির আড়ালে।এখনো অমাবস্যাগুলো তোমার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে,আলোর সুখেরই একাগ্র কাঙাল তুমি,চন্দ্র রাতের উত্তাল আলোয়,তৃষ্ণার্ত কবিচোখ তোমাকে দেখতে গিয়ে,নীরব ধূসর মেঘ এগিয়ে আসে,অশরীরী সর্পিল ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়ের চুড়ায়।কত যুগ পেরিয়ে গেল, অবিরত ক্ষয় হোল সময়েরপ্রতীক্ষার কামনা তীব্র হয়,পৃথিবীর দেয়ালে কার্নিশে যেটুকু উত্তাপ,
তাঁর, অবহেলায় অনাদরে ব্যথার জল ঝরে অসুখী মৃত্তিকায়।
এখনো ঘুম ভাঙে অসময়ে অন্ধ দু’চোখে,ভালবাসার আঁতুড়ঘরে ক্ষণিক থেমে থাকে জীবনের পরাজয়।প্রতিজ্ঞা আমার, আজীবন পরাজিত হবো,
আমায় সশ্রম কারাদণ্ড দাও,শুধু তোমার বিনাশ্রম ভালোবাসা চাই।
তোমাকে এতটা চাই যতটা একজন মা তার সন্তানের মঙ্গল কামনা করে। আমার একা নির্জনে আমি যতটা ভেবেছি একাকিত্ত্বে তোমার নামটাই এসেছে।আমি জেনেছি ভালবাসা বলতে আমি তোমাকেই বুঝি।
তোমাকে ঘীরে আপন আঁধারে যেখানে স্বর্গ ভাসে সেখানে আলোর সিড়ি হয়ে তোমাকে আকড়ে ধরি।তুমি মিশে আছো মোর স্বত্তার।তোমাকে ভালবেসেছি অন্তরালে সংগোপনে।যখনই জেনেছি ভালবাসা বলতে কি বুঝি মনে তখনই এসেছে,তুমি আমার।হৃদয়ে তোমারই নাম।
ইতি
অনিমেষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *