প্রধান এজেন্ডা সমূলে জঙ্গী নির্মূল

এ দেশে উগ্র-সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের বিষয়টিকে আর ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। এটি এখন ব্যক্তি নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা জাতীয় সমস্যায় পরিনত হয়েছে। দেশে জঙ্গীপনায় জড়িতদের সমূলে নির্মূল করাই বর্তমান সরকারের প্রধান এজেন্ডা। এ দাবি এখন দেশের সচেতন ও সাধারণ মানুষের মাঝে জোরালো হচ্ছে। একটি চক্র ইসলাম ধর্মের ব্যানারের ছোট ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে দেশে জঙ্গীপনার জন্ম ও বিস্তৃতি লাভ করেছে। সে জঙ্গীপনা এখন ফুলে ফেঁপে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে টার্গেট করছে। বিদেশী এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতা, সেবায়েত, ভিক্ষুর পাশাপাশি ব্লগার ও প্রগতিমনা লেখক ও বুদ্ধিজীবীরাই এদের মূল টার্গেট। এদের হাত থেকে বিচারকও রেহাই পাননি। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এদের অবস্থানের জানান দিয়েছে। দেশজুড়ে একসঙ্গে একই সময়ে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর মাধ্যমে প্রথম জানান দিয়েছিল জঙ্গীপনার অপতৎপরতা। এরপর বহু সময় গড়িয়ে গেছে। এদের শেকড় বিস্তৃতি লাভ করেছে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর এদের অপতৎপরতায় বজ্রাঘাত ঘটে। একে একে ধরা পড়ছে জঙ্গী গ্রুপ ও তাদের আস্তানা এবং অস্ত্রশস্ত্র। কিন্তু এখনও এদের নির্মূল করা যায়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক কিছু ঘটনা ঘটিয়ে এরা এদের অস্তিত্বের কথা জানান দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামে একটি স্প্যানিশ রেস্তরাঁয় সশস্ত্র একটি গ্রুপের হামলা ও রেস্তরাঁয় আগতদের জিম্মি করে শেষ পর্যন্ত বর্বরোচিত কায়দায় হত্যার মতো ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডো গ্রুপের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, সোয়াতসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে সফল অভিযানে দ্রুততম সময়ে এ ঘটনার অবসান ঘটাতে পারায় সরকার সফলতা শীর্ষে পৌছে গেছে। আমরা আর একবার এই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি চাইনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *