মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের ফতোয়া ও তার উত্তর

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের প্রকাশিত ফতোয়ার ১০টি প্রশ্ন ও কোরান, হাদিসের আলোকে তার উত্তরঃ

১. মহান শান্তির ধর্ম ইসলাম কি সন্ত্রাস ও আতঙ্কবাদী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে?

উত্তরঃ আচ্ছা মোহাম্মদ ও তার সাহাবীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে ও তাদের মালামাল লুট করেছে সেটাকে কী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলা যায় না? আসেন হাদীস দেখি, “সুতরাং যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গনিমতরূপে লাভ করেছো তা হালাল ও পবিত্ররূপে ভোগ করো, আর আল্লাহকে ভয় করো, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু”। —(সূরা আনফাল ৮ আয়াত ৬৯)

২. নবী ও রাসূল, বিশেষ করে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এই ধরনের হিংস্র ও বর্বর পথ অবলম্বন করে ইসলাম কায়েম করেছেন?

উত্তরঃ আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং পাথরের আড়ালে লুকানো ইয়াহুদী সম্পর্কে উক্ত পাথর একথা না বলা পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। হে মুসলিম! এই আমার আড়ালে ইয়াহুদী লুকিয়ে আছে, একে হত্যা কর। —(বুখারী. হাদীস নং ২৯২৬)
হে মুমিনগণ! ঐ কাফিরদের সাথে যুদ্ধ কর যারা তোমার আশে-পাশে অবস্থান করে, আর যেন তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা পায়; আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ পরহেযগারদের সাথে রয়েছেন। —(সূরা তাওবা৯, আয়াত ১২৩)

৩. ইসলামে জিহাদ ও সন্ত্রাস কি একই জিনিস?
উত্তরঃ আচ্ছা জঙ্গীরা কী সন্ত্রাসী? সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোন গুলোকে বলে? সাধারণত ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক লোভ থেকে কাউকে বা কোন দল বা গুষ্টিকে আঘাত করে ক্ষমতা বা অর্থ নেয়ার জন্যে যে কাজগুলো করা হয় তাই মূলত সন্ত্রাস। জঙ্গীরা কী কখনো ক্ষমতা বা অর্থের লোভে মানুষ হত্যা করেছে? তারা একটি ধর্মীয় মতবাদকে প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করে। তাহলে তারা সন্ত্রাসী হয় কী করে?

৪. সন্ত্রাস সৃষ্টির পথ কি বেহেশত লাভের পথ না জাহান্নামের পথ?

উত্তরঃ যদি সন্ত্রাসীদের বেহেশত আর জাহান্নামের কথা বলা হয় তবে কিছু বলার নাই। যখন ধর্মীয় মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এই কাজগুলো করছে তখন অবশ্যই তারা বেহেশতের লোভেই করছে। কারণ কোরান ও হাদীসে স্পষ্টই বেহেশতের লোভ দেখানো হয়েছে। যেমন, “মুমিনদের মধ্যে যারা কোন দুঃখ-পীড়া ব্যতীতই গৃহে বসে থাকে, আর যারা স্বীয় ধন ও প্রাণ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তারা সমান নয়; আল্লাহ ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদকারীগণকে উপবিষ্টগণের উপর পদ-মর্যাদায় গৌরবান্বিত করেছেন”। —(সূরা আন-নিসা ৪, আয়াত ৯৫)

৫. আত্মঘাতী সন্ত্রাসীর মৃত্যু কি শহিদী মৃত্যু বলে গণ্য হবে।

উত্তরঃ যদি শহিদী মর্যাদা না হবে তবে আল্লাহ এই ঘোষণা দিলেন কেন? “অতএব যারা ইহকালের বিনিময়ে পরকাল ক্রয় করেছে তারা যেন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে; এবং যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে তৎপর নিহত অথবা বিজয়ী হয় তবে আমি তাকে মহান প্রতিদান প্রধান করবো”। — (সূর্য আন-নিসা ৪, আয়াত ৭৪)

৬. ইসলামের দৃষ্টিতে গণহত্যা কি বৈধ?

উত্তরঃ বদর যুদ্ধ, উহুদ যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধে যে অসংখ্য নরনারীকে হত্যা করা হয়েছিলো? তা কী ইসলাম সম্মত ছিলো? ঐ যুদ্ধগুলো কী বৈধ ছিলো? যদি বৈধ হয় তবে আনসারুল্লাহ, আই এস, তালেবান, জে এম বি যা করছে তা অবৈধ বলেন কী করে? তারাতো নবীর দেখিয়ে যাওয়া রাস্তায়’ই চলছে।

৭. শিশু, নারী, বৃদ্ধ নির্বিশেষে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ইসলাম কি সমর্থন করে?

উত্তরঃ আসেন আয়াত পড়ি। “অতপর, যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যায় তখন ঐ মুশরিকদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর, তাদেরকে গ্রেপ্তার কর, তাদেরকে অবরোধ করে রাখো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিস্থলে তাদের সন্ধানে অবস্থান কর, অতপর যদি তারা তওবা করে নেয়, নামাজ আদায় করে এবং যাকাত দেয়, তবে তাহাদের পথ ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুনাময়”। —(সূরা তাওবা৯, আয়াত ৫)

৮. ইবাদতরত মানুষকে হত্যা করা কি ধরনের অপরাধ ?
উত্তরঃইবাদতরত মানুষদের তো তারা হত্যা করছে না। তারা হত্যা করছে বিপরীত মত ও চিন্তার মানুষদের। যেমন, নাস্তিক, অন্য ধর্মের মানুষ, পীর, শিয়া, আহমদীয়া।

৯. অমুসলিমদের উপসানালয় যথা গির্জা, মন্দির, প্যাগোডা ইত্যাদিতে হামলা করা কি বৈধ?

উত্তরঃ আচ্ছা নবী ও তার সাহাবীরা কাবা ঘর থেকে যে ৩৬০ টি মুর্তি ভেঙ্গেছিল তা কী ইসলাম বিরুধী ছিলো? যদি না হয় তবে জঙ্গীরা যা করছে তাকে অবৈধ বলেন কোন যুক্তিতে?

১০. সন্ত্রাসী ও আতঙ্কবাদীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে সকলের কর্তব্য কি না?

উত্তরঃযারা ইসলামের জন্যে যুদ্ধ করে, অন্য ধর্মের মানুষদের হত্যা করে, বিপরীত মতের মানুষদের হত্যা করে তারা সন্ত্রাসী না। সন্ত্রাসী হচ্ছে চাঁদাবাজ, ক্ষমতা লোভীরা। তারা ইসলাম প্রচার করে। কোরান, হাদিসের দেখিয়ে দেওয়া নিয়মগুলোকে পালন করে। ওরা জিহাদী। যা করতে ইসলামে বারবার বলা হয়েছে।

এসব যদি না মানেন, তবে আপনি ইসলাম ধর্মকে’ই অবিশ্বাস করলেন। ইসলামের নিয়ম ও বিধানকেই অমান্য করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *