জঙ্গী হামলা: মুম্বাই টু ঢাকা..

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইতে লস্কর-ই-তৈয়বা যে হামলা চালায় এবং বিদেশী’দের জিম্মি করে তার সাথে অনেকটাই মিল আছে ঢাকায় হওয়া ১/৭-এর এই হামলার। লস্কর-ই-তৈয়বা’র সেই হামলার প্রডিউসার বলা হয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসঅাই-কে।একজন অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সরাসরি তত্বাবধানে কিছু গরীব, বয়সে তরুন ছেলেদের মগজ ধোলাই করে পাঠানো হয় মুম্বাই। এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং মূল পরিকল্পনা করেছিলেন একজন পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক। সেই পকিস্তানি আমেরিকান’র নাম হলো ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ সায়েদ জিলানী। মাত্র দশজন্ সন্ত্রাসী ব্যাগ ভর্তি একে-৪৭ রাইফেল’এর গুলি,মাত্র দুইটা করে স্পেয়ার ম্যাগজিন,হ্যান্ড গ্রেনেড আর কিছু শুকনা খাবার এ নিয়ে তিনদিন ধরে গোটা শহরকে জিম্মি করে রেখেছিলো।হত্যা করেছিলো ১৬৪ জন নিরপরাধ মানুষকে। বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল হতে কিছু মোবাইলের সীম কেনা হয়েছিলো এই হামলা ব্যবহার করার জন্য।ঘটনার সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা নতুন চালু হওয়া মোবাইল সীম ট্র্যাক করতে গিয়ে ধরতে পারে স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে এবং ইন্টারন্যাশনাল কলিংকার্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের সব নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে পাকিস্তান থেকে। আর সন্ত্রাসীদের ঠিকঠাক নির্দেশনা দিতে সাহায্য করছে খোদ ভারতীয় মিডিয়া। কারন লস্কর-ই-তৈয়বার সেই আধ্যাত্বিক গুরু টিভি সেটের সামনে বসেই ভারতীয় পুলিশ এবং কমান্ডো অভিযানের লাইভ টেলিকাস্ট দেখছিলো।এটা টের পাবার সাথে সাথে্ই লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এইচবিও এবং সিএনএন’র একটা চমতকার ডকুমেন্টারী আছে এই সন্ত্রাসী ঘটনা নিয়ে যেখানে এসব বিষয় উঠে এসেছে।গোযেন্দারা সন্ত্রাসীদের মাঝে কনর্ভাসেসনও ট্রাক করেন।সেই কনর্ভাসেসনের এক পর্যায়ে গুরু তার পায়ে গুলি লাগা শিষ্যকে বলেন- তুমি হয়তো একটু পর শহীদ হয়ে যাবে,কিন্তু চিন্তা করো না তোমার জন্য অপেক্ষা করছে বেহেশতি হুর্।
২.
একটা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে গেলে তার পোস্ট অ্যানালাইসিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ।যেটা বাংলাদেশে হয় না।গতকালের সন্ত্রাসীী আক্রমন যারা করেছে তাদের যে বিশেষভাবে সামরিক কায়দায় প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে তা বলতে বোদ্ধা হবার দরকার পরে না। সকাল বেলা অ্যান্টি-টেরোরজিম স্পেশাল ফোর্সের প্রধানের সাক্ষাতকার ছাপানো হয়েছিলো,তিনি সেখানে কথার ক্ষই ফুটিয়ে ছিলেন।তার জবাব উনার প্রতিপক্ষ গুলি-বোমা ফাটিয়ে দিলো।অামেরিকা থেকে প্রশিক্ষন দিয়ে আনা হয়েছে সোয়াট,অাছে কমান্ডো, আছে নিধিরিাম সর্দার সেনাবাহিনী।কিন্তু কারোরই এই বিপদ মোকাবেলা করার কোন পরিকল্পনা বা প্রস্ততি নেই। সেনাবহিনী’কে দেশের মানুষ পালে দুই কারনে এক. দেশের মানুষের সম্পত্তি লুট-পাটের জন্য, দুই.বিদেশিরা কবে দেশে আক্রমন করবে তার অপেক্ষা করার জন্য।
বাংলাদেশে একটা সামান্য এমার্জেন্সি হলে সবকিছু ভেংগে পরে।কোথাও কিছু কাজ করে না।সরকারী মুখপাত্র হয়ে যান ওসি’র ড্রাইভার। সরকার এক মিনিটের নির্দেশে টিভি চ্যানেলের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করতে পারে না অথচ এক সেকেন্ডই ফেসবুক,হোয়াটসআপ,ব্লগ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশে কোথাও কোন অঘটন ঘটলে একগাদা শুকনো গোবরে ভর্তি মাথা নিয়ে সবার আগে সেখানে পৌছায় মিডিয়ার ভ্যান।
৩.
যারা ইসলামিক জঙ্গীদের হাতে ব্লগার-নাস্তিক-প্রকাশক-সমকামী অধিকারকর্মী-পুরোহিত হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলোকে শাহবাগ কেন্দ্রিক ঝামেলা মনে করতেন।মনে করতেন গরীব পাড়ার ব্যাপার স্যাপার। মনে করতেন সবই বিদেশে অ্যাসাইলাম কেস। তাদের জন্য ১জুলাই ২০১৬ হতে পারে হুশ ফেরত পাবার দিন।আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এমন একটা জিম্মি সন্ত্রাসের ঘটনা ঘুব সহজেই ঘটানো যাবে গণভবনে।হত্যা করে ফেলা যাবে প্রধানমন্ত্রী’কে।কিন্তু মার্কিন দূতাবাসের প্রথম দেয়ালটাও জঙ্গীরা টপকাতে পারবে না । কেন পারবে না? তা নিজ দায়িত্বে জেনে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *