মুক্তিসংগ্রামে ছাত্র ইউনিয়ন (প্রথম পর্ব)

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং তার
বিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,
মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ইত্যাদি প্রসঙ্গ
নিয়ে আজকাল বিভিন্ন ধরণের
আলোচনা শোনা যায়। মুক্তিযুদ্ধ
সম্পর্কিত এসব আলোচনার
অনেকক্ষেত্রেই ইতিহাসের বিকৃতি
যেমন ঘটছে, ইতিহাসের খন্ডিত ও
অতিসরলীকৃত বিশ্লেষণ, মুক্তিযুদ্ধ
নিয়ে একক কৃতিত্ব ও কর্তৃত্ব দাবী
করার অশুভ প্রবণতা, মুক্তিযুদ্ধের মূল
চেতনার বিভ্রান্তিকর ও খন্ডিত
উপস্থাপনও দেখা যাচ্ছে হরহামেশাই।
মুক্তিযুদ্ধের ৪০ বছর পর, মুক্তিযুদ্ধ
পরবর্তী যে প্রজন্ম প্রস্তুত
হচ্ছে সামনের দিনের বাংলাদেশকে
প্রগতির পথ ধরে এগিয়ে নেবার
অভিযাত্রায়, নেতৃত্ব দেবার জন্য,
তাদের কাছে গৌরবময় সেই ইতিহাসের
সঠিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হাজির করা
অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু
স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে নানা
পটপরিবর্তনে এদেশে
প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানপন্থীরা
ক্ষমতাকাঠামোর আশেপাশে
থেকে সেই গৌরবময় ইতিহাসকে
বিকৃত করেছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের
স্বপক্ষের শক্তি’ দাবিদারদের
অনেকে বিচ্যুত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের
মূল চেতনা থেকে। তারই প্রমাণ আমরা
পাই সংবিধানের পঞ্চদশ
সংশোধনীতে, যেখানে
মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা করে রেখে দেয়া
হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’,
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর
রাজনীতি করার সুযোগ এবং দরাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম’। এ সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারাই
পালাক্রমে আসছে, তারা তাদের শাসন-
শোষণ কাঠামো টিকিয়ে রাখতে,
শ্রেণিস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল
করতে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা
থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। আর তাই,
মুক্তিসংগ্রামের সঠিক, নির্মোহ,
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সংস্পর্শে না
আসতে পারায় এদেশের তরুণ প্রজন্ম
গৌরবময় সেই ইতিহাসের উত্তরাধিকার ও
দায় বহন করা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত
হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে
গেলে তার প্রেক্ষাপট, ঐতিহাসিক
বাস্তবতা সম্পর্কিত বিস্তারিত বিশ্লেষণ
জরুরী। অনুধাবন করা প্রয়োজন,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল নয়
মাসের যুদ্ধের ইতিহাস নয়।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি রচনা করতে,
মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত
করতে প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য নানামাত্রিক
সংগ্রামের প্রয়োজন হয়েছে।
শোষিত, বঞ্চিত এদেশের মানুষ
সংগ্রাম করেছে নিজেদের
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক মুক্তির
তাগিদে। মুক্তিযুদ্ধের ভ্রূণ সৃষ্টি
হয়েছিল ব্রিটিশ শাসন শোষণের
বিরুদ্ধে প্রতিরোধপর্বের সূচনাকাল
থেকে। শতাব্দীর অধিককাল
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এবং দুই যুগ ধরে
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগঠিত অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির
লড়াইয়ে সে ভ্রূণ বিকশিত হয়েছে,
নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে তা
পেয়েছে পুর্ণাঙ্গ আকার-আকৃতি এবং
ভূমিষ্ঠ হয়েছে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি।
মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক পটভূমি,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিক বিকাশ
সম্পর্কিত আলোচনায় অনিবার্যভাবেই
এদেশের ক্রমশ গড়ে ওঠা বাম-
প্রগতিশীল শক্তির গৌরবময় ভূমিকা,
আত্মত্যাগ এবং নিরন্তর সংগ্রামের
প্রসঙ্গ এসে পড়ে। এদেশের বাম
প্রগতিশীল শক্তির নেতৃত্বে কৃষক,
শ্রমিক, ছাত্র, মেহনতী মানুষ,
প্রগতিশীল মধ্যবিত্তের ধারাবাহিক
রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক
আন্দোলনের ইতিহাসকে বাদ দিয়ে
মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা
সম্ভব নয়। অথচ মুক্তিসংগ্রামের
ইতিহাসে বামপন্থীদের ভূমিকা নিয়ে
নানা বিতর্ক, ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে।
তাদের অবদানকে কোথাও কোথাও
খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে,
কোথাও একেবারেই ধামাচাপা দেবার
চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের
পটভূমি সৃষ্টিতে, মুক্তিযুদ্ধের
প্রস্তুতিপর্বে এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন
সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের প্রগতিশীল
অগ্রগামী ভূমিকাকেও নতুন
প্রজন্মের কাছ থেকে দৃষ্টির
আড়ালে রেখে দেওয়ার
প্রচেষ্টাও চলেছে। আর তাই,এ
সময়কালে মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়ন
সহ বামপন্থী, কমিউনিস্টদের ভূমিকা
সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা
প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের মূল
চেতনাকে উপলব্ধিতে এনে,
দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত
করতে গেলে মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র
ইউনিয়নসহ এদেশের বামপন্থী,
কমিউনিস্টদের অবদানের ইতিহাসকে
সামনে তুলে আনার কোন বিকল্প
নেই।
মুক্তিযুদ্ধের শেকড়সন্ধান ও ছাত্র
ইউনিয়নের জন্ম

ফকির বিদ্রোহ, সন্যাস বিদ্রোহ,
সাঁওতাল বিদ্রোহ, ১৮৫৭ সালের প্রথম
ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের
ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে
ভারতজুড়ে স্বরাজের জন্য নানামাত্রিক
আন্দোলন-সংগ্রাম, অনুশীলন,
যুগান্তরের মত সশস্ত্র গ্রুপসমূহের
বিপ্লবী প্রয়াস বাংলাকে পরিনত
করেছিল অগ্নিগর্ভে। শত বছরেরও
বেশি সময় ধরে ভারতবর্ষের
স্বাধীনতা সংগ্রাম যে মুক্তিচেতনার
উন্মেষ ঘটিয়েছিল, তার মাঝেই বিকশিত
হয়েছে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম। এ
প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, বিংশ
শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই
ভারতবর্ষে বামপন্থী ধারার বিকাশ
ঘটতে শুরু করে। ক্রমশই সুসংগঠিত
হতে থাকে কমিউনিস্টরা, ফলশ্রুতিতে
বেগবান হতে থাকে এদেশের
উপনিবেশবিরোধী ও অর্থনৈতিক
মুক্তির সংগ্রাম। বাংলাতেও সেই
প্রগতিশীল আন্দোলনের ঢেউ
এসে লাগে। ভারতবর্ষের জাতীয়
মুক্তিসংগ্রাম যখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে
এগিয়ে চলছে- বিপ্লবী সশস্ত্র
সংগ্রামে ক্ষুদিরাম, বাঘা যতীন, ভগত সিং,
রাজগুরু, আশফাকউল্লাহ, সূর্যসেন,
প্রীতিলতাদের মত অসংখ্য তরুণের
আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত যখন মানুষকে
উজ্জীবিত করছে স্বাধীনতার
মন্ত্রে, তখনই ব্রিটিশ সরকারের
প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উৎসাহে
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়া হয়
ভারতবর্ষজুড়ে। নানামুখী ষড়যন্ত্র
এবং উত্তাল সেই সময়ে ঘটে যাওয়া
কিছু ঘটনাবলীকে ঘিরে সৃষ্ট
গণবিভ্রান্তিকে কাজে লাগিয়ে সামনে
নিয়ে আসা হয় দ্বি-জাতি তত্ত্বকে।
ভারতবর্ষের জনগণের বিজয়কে
খন্ডিত করা এবং ইঙ্গ-মার্কিন
সাম্রাজ্যবাদের নয়া উপনিবেশিক
শোষণ নিশ্চিত করার ষড়যন্ত্রকে সফল
করে জন্ম নেয় সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান
রাষ্ট্র।
এদেশের মানুষ ধারণ করে
অসাম্প্রদায়িক, উদার, মানবতাবাদী
চরিত্রকে। সুফিবাদ, মরমীবাদ, বাউল
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রবীন্দ্রনাাথ,
লালন, বিবেকানন্দ, নজরুলের মত
মনিষীরা উদার মানবতাবাদী দর্শন
প্রোথিত করেছেন বাঙালির
মানসপটে। সেই চরিত্রকে ধারণ
করে ও হাজার বছরের নিজস্ব ভাষা-
সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-সংগ্রামকে লালন করে,
পাকিস্তান নামক সাম্প্রদায়িক
রাষ্ট্রকাঠামোর অংশ হওয়া বাঙালিদের
মধ্যে এক নতুন দ্ব›েদ্বর সৃষ্টি
করে। অধিকন্তু, পাঞ্জাবি একচেটিয়া
ধনিকদের নেতৃত্বে পরিচালিত
পাকিস্তানী রাষ্ট্রযন্ত্রের
শোষণের খড়গ নেমে আসে
পূর্ববঙ্গের মানুষের ওপর। অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক, প্রশাসনিকক্ষেত্রে নিদারুণ
বৈষম্য, ভাষা-সংস্কৃতির উপর আগ্রাসন,
রাষ্ট্রযন্ত্রের দমন-নিপীড়ন এ
অঞ্চলের মানুষকে ক্রমশ
মুক্তিসংগ্রামের দীক্ষায় দীক্ষিত
করে তোলে।
দেশ ভাগের অব্যবহিত পরেই
উপমহাদেশের কমিউনিস্টদের
কন্ঠে সর্বপ্রথম আওয়াজ ওঠে,
‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান
ভুখা হ্যায়’। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্টরাও এই
¯শ্লোগান নিয়ে মানুষের কাছে
যেতে থাকেন। সেসময় এই
আওয়াজ হঠকারী ছিল কীনা সে
প্রসঙ্গ এড়িয়েও এ কথা বলা যায় যে,
কমিউনিস্টরাই সর্বপ্রথম ১৯৪৭ সালের
সেই তথাকথিত স্বাধীনতাকে মিথ্যে
বলে চিহ্নিত করেন। সেই মিথ্যে
স্বাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করেই
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির মহান
লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয় মহান
মুক্তিযুদ্ধ। যদিও, মাত্র কয়েক বছরের
মাথায়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা
প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবিপ্লবীদের
দখলে চলে যাওয়ায় আমরা আজো
সেই মুক্তির প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন
করতে পারি নি, এখনো কোটি মানুষ
অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
কমিউনিস্টদের উপর পাকিস্তান জন্মের
পর থেকেই নেমে আসে ফ্যাসিস্ট
আক্রমণ, নির্যাতন, জুলুম। তার মাঝেই
নাচোলের রাণী কমরেড ইলা
মিত্রের নেতৃত্বে তেভাগা
আন্দোলন, কমরেড মণি সিংহের
নেতৃত্বে টঙ্ক আন্দোলন, অজয়
ভট্টাচার্য-বারীন দত্তের নেতৃত্বে
নানকার বিদ্রোহ গড়ে ওঠে।
শাসকশ্রেণির হিংস্রতায় ১৯৫০ সালে এ
দেশের প্রথম জেল হত্যাকান্ডে
রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে
শহীদ হন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা।
কমিউনিস্টদের সংগ্রামে অর্থনৈতিক
মুক্তির প্রশ্নের সাথে সাথে
গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ভাষার অধিকার
এবং বাঙালি জাতির অন্যান্য অধিকারের
প্রসঙ্গও ক্রমশ সামনে আসতে
থাকে। পূর্ব বাংলার নিপীড়িত মানুষও
সচেতন ও সংগঠিত হতে শুরু করে
তাদের শ্রেণিগত ও জাতিগত অধিকার
সম্পর্কে।
১৯৪৮ সাল থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা
করার দাবিতে মহান ভাষা আন্দোলনের
সূচনা হয়। সূচনালগ্ন থেকেই
প্রগতিশীল, বামপন্থী কমিউনিস্টরা এই
আন্দোলনকে সংগঠিত করতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জিন্নাহ যখন
কার্জন হলে এসে ঘোষণা করেন
উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র
রাষ্ট্রভাষা, তখন ছাত্ররা সমস্বরে ‘না, না’
বলে চিৎকার করে ওঠে। ছাত্ররাও
সংগঠিত হতে থাকে ভাষা
আন্দোলনে। আন্দোলনের মধ্য
দিয়ে বামপন্থী, কমিউনিস্টদের
সংস্পর্শে এসে ছাত্রদের মধ্যে
প্রগতিশীল চিন্তন-মননের ধারা বিকশিত
হতে শুরু করে। ১৯৫২ সালের মহান
২১শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের
আত্মদান এ আন্দোলনকে এনে
দেয় অপ্রতিরোধ্য গতি।
এ ঐতিহাসিক বাস্তবতায় এবং ’৫২-র ভাষা
আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদের
মাঝে যে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক,
গণতান্ত্রিক, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী
চেতনার উন্মেষ ঘটে, তার উপর
ভিত্তি করে ১৯৫২ সালের ২৬শে
এপ্রিল প্রতিষ্ঠা লাভ করে পূর্ব পাকিস্তান
ছাত্র ইউনিয়ন। ভাষা আন্দোলনের
জনপ্রিয় ও প্রধান নেতাদের
বেশিরভাগই যে ছাত্র ইউনিয়নের
প্রতিষ্ঠায় ও তার দ্রুত প্রসারের কাজে
সমবেত হল- সে প্রেক্ষিতে তা
একটি স্বাভাবিক একটি ঘটনা ছিল। সাম্প্রদায়িক
পাকিস্তানী রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে
সর্বপ্রথম অসাম্প্রদায়িক ছাত্র গণসংগঠন
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ছাত্র
ইউনিয়ন জানিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক
পাকিস্তানের ভিত্তিভ‚মিকে আঘাত করার
সময় ঘনিয়ে আসছে। ছাত্রদের
মাঝে অসাম্প্রদায়িক,
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী, প্রগতিবাদী
চেতনার মর্মমূলকে প্রোথিত করার
ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করার মধ্য দিয়ে
ছাত্র ইউনিয়ন যেন পাকিস্তানী
রাষ্ট্রকাঠামোকেই আঘাত করতে শুরু
করে।
ছাত্র আন্দোলনের বিকাশ ও
মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুতি

ভাষা আন্দোলনের বিজয় এবং তার
পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রগণসংগঠন
হিসেবে ছাত্র ইউনিয়নের অভ্যুদয়,
এদেশের ছাত্র আন্দোলনকে
প্রদান করে এক নতুন মাত্রা।
মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে
ছাত্রসমাজ দেশবাসীর সংগ্রামে
নেতৃত্ব দিতে থাকে। মধ্যবিত্ত
শ্রেণির এক অগ্রসর অংশ হিসেবে
ছাত্রসমাজকে চিহ্নিত করা হলেও,
সেসময় এর ভেতর দরিদ্র
কৃষকশ্রেণির সন্তানদের সংখ্যার
আনুপাতিক বৃদ্ধির কারনে ছাত্র
আন্দোলনকে ক্রমশ র্যাডিকাল চরিত্র
নিতে দেখা যায়। আমরা দেখি ছাত্র
আন্দোলনই সেসময়কালের
প্রগতিমুখী গণআন্দোলনে
অগ্রবর্তী ভূমিকা পালন করতে
থাকে। ছাত্রসমাজ এবং গণমানুষের
মধ্যে এক নিবিড়, অর্গানিক যোগাযোগ
এবং আন্ত:সম্পর্ক ছাত্রসমাজকে
জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার
উপযোগী করে তোলে। তাই
পাকিস্তানপর্বে আমরা দেখি,
এদেশের ছাত্রসমাজ যেমন সাংস্কৃতিক
আগ্রাসনের বিপরীতে দাঁড়িয়ে
এদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ
করে বাঙালি জাতিসত্ত্বার বিকাশে
রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, তার
পাশাপাশি সামরিক শাসন, অর্থনৈতিক শোষণ,
সাম্প্রদায়িকতা ও দ্বিজাতিতত্ত্বের
বিরুদ্ধেও করেছে নিরন্তর সংগ্রাম।
প্রতিষ্ঠার প্রথম দশকে ছাত্রদের
মাঝে ছাত্র ইউনিয়নকে অনেকটা
এককভাবেই সাম্প্রদায়িকতা এবং দ্বি-
জাতিতত্ত্বের প্রতিক্রিয়াশীল
দর্শনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
সেসময় অন্য কোন অসাম্প্রদায়িক
ছাত্রসংগঠন ছিল না। ‘মুসলিম ছাত্রলীগ’
নামের সংগঠনটির সাম্প্রদায়িক চরিত্র
তখনো বহাল ছিল। ছাত্র ইউনিয়নের
অসাম্প্রদায়িক প্রচারনার প্রভাবে সেই
সংগঠনটি ১৯৫৪ সালে তার নাম থেকে
মুসলিম শব্দটি উঠিয়ে নেয়।
দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তানী
উপনিবেশবাদের বিপরীতে,
পূর্ববাংলার স্বায়ত্ত্বশাসন ও
আত্মনিয়ন্ত্রনের পক্ষে ২১ দফার
ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জনতার গণরায়
প্রতিফলিত হয়- ৫৪’র নির্বাচনে
যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ বিজয়ে।
যুক্তফ্রন্টের ঐক্য প্রক্রিয়ায় ছাত্র
ইউনিয়ন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে। শাসকশ্রেণি ষড়যন্ত্রের জাল
বিছিয়ে যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে নস্যাৎ
করে। জারি করা হয় ৯২(ক) ধারা, চাপিয়ে
দেয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকারের
শাসন। নানা প্রলোভনের মুখে ‘৯৮
ভাগ স্বায়ত্তশাসন আদায় হয়ে গেছে’
বলে বাঙালির স্বাধীকারের ইস্যুতে
আওয়ামী লীগ পিছু হটে। বাঙালি
বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী শক্তির
প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ ‘জিরো প্লাস
জিরো ইকুয়াল টু জিরো’ তত্ত্ব হাজির
করে পাকিস্তান সরকারের
আমেরিকাঘেঁষা নীতিকে সমর্থন
দেয়। ছাত্রলীগও ধারণ করে একই
ভূমিকা ও চরিত্র । মাওলানা ভাসানীর
নেতৃত্বে গঠিত হয় প্রগতিশীল ও
র্যাডিকাল বামপন্থী দল ন্যাপ। নিষিদ্ধ
ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির পাশাপাশি নবগঠিত
ন্যাপের সাথে ছাত্র ইউনিয়নের
গভীর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সেসময় বামপন্থী প্রগতিশীলরাই
বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনকে
এগিয়ে নিয়ে যায়। ছাত্র ইউনিয়ন তার
সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও
সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনাকে ধারণ
করে স্বাধীকার ইস্যুতে
ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে থাকে।
শাসকদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা
করে একুশে উদযাপন, রবীন্দ্রনাথ
চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে
অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসারে
অগ্রণী ভূমিকা রাখে ছাত্র ইউনিয়ন।
পাকিস্তানের অগণতান্ত্রিক শাসন-শোষণ
এবং সাম্রাজ্যবাদের পদলেহনের
বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে
স্তিমিত করতে শাসকগোষ্ঠী
প্রয়োগ করে সামরিক
একনায়কতন্ত্রের ফর্মুলা। ক্ষমতায়
আসে আইয়ুব খান। নেমে আসে
অত্যাচার-নিপীড়ণ-জুলুম। বামপন্থী
প্রগতিশীলদের উপর আঘাত আসে
সবচেয়ে বেশি। ছাত্র ইউনিয়নের
নেতাকর্মীরা শিকার হয় গ্রেফতার,
নির্যাতন, রাস্ট্রিকেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
থেকে বহিস্কারের মত
নিপীড়নমূলক কর্মকান্ডের।
তারমাঝেও ছাত্র ইউনিয়ন নানা পন্থায় ও
কৌশলে তার কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে
থাকে। ছাত্র ইউনিয়ন এবং সংস্কৃতি সংসদ
২১শে ফেব্রুয়ারী, ১লা বৈশাখ পালন,
রবীন্দ্র-নজরুলের জন্মবার্ষিকী
পালন, সংকলন প্রকাশ, নাটক-কবিতা-গানের
মাধ্যমে বাঙালি চেতনার মর্মমূলকে
আবিষ্কার করে বাঙালিদের
স¦াধীকারের দাবিকে বিকশিত করে।
১৯৫৯ সাল থেকে সকল
ছাত্রসংগঠনকে সাথে নিয়ে একুশে
উদযাপন করার উদ্যোগ নেয় ছাত্র
ইউনিয়ন। শাসকশ্রেণির সাম্প্রদায়িক
রবীন্দ্রবিরোধী চরিত্রকে
অগ্রাহ্য করে ১৯৬১ সালে
রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী
উদযাপনে প্রধান উদ্যোগী ভূমিকা
পালন করে ছাত্র ইউনিয়ন। ঐ বছরই
ছায়ানটের জন্ম হয় এবং তার প্রতিষ্ঠার
পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে
ছাত্র ইউনিয়ন।
১৯৫৯ সালে প্রণীত আইয়ুবের
শরীফ কমিশনের অগণতান্ত্রিক,
সাম্প্রদায়িক, শিক্ষা সংকোচনের
শিক্ষানীতির প্রতিবাদে ছাত্রসমাজকে
সংগঠিত করতে থাকে ছাত্র ইউনিয়ন।
১৯৬১ সালের শেষ দিকে ছাত্র
ইউনিয়ন এবং ছাত্রলীগের এক যৌথ সভায়
ছাত্র ইউনিয়নের প্রস্তাবনা অনুযায়ী
আইয়ুবী শিক্ষানীতি বাতিল,
অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন, বাঙালির
স্বাধীকারের দাবিগুলো নিয়ে
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়। ’৬২ সালে শিক্ষানীতি বাতিল
এবং আইয়ুবের পতনের আন্দোলন
ব্যাপকতর মাত্রা লাভ করে। ১৯৬২
সালের ২রা ফেব্রুয়ারি সামরিক আইন
অগ্রাহ্য করে ছাত্র ইউনিয়ন ও
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রাজপথে
জঙ্গি মিছিল বের হয়, ৭ ফেব্রুয়ারি
আরেক জঙ্গি মিছিলে পোড়ানো হয়
আইয়ুবের ছবি। এই সাহসী এবং চমকে
দেয়া ছাত্রজাগরণ সংগঠিত করার
ক্ষেত্রে ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল
নেতৃত্বমূলক। ৬২’র দ্বিতীয়ার্ধে
শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র
ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের যৌথ
নেতৃত্বে ছাত্ররা ধর্মঘট,
ক্লাসবর্জনসহ লাগাতার কর্মসূচি পালন
করতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭
সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল
ডাকে ছাত্ররা। সেদিন পুলিশের
গুলিতে শহীদ হন মোস্তফা, বাবুল,
ওয়াজিউল্লাহ। টঙ্গিতে ছাত্র-শ্রমিকের
যৌথ মিছিলে সুন্দর আলী নামক একজন
শ্রমিক নিহত হয়। গ্রেফতার হয় ছাত্র
ইউনিয়নসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের
বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। আন্দোলন
তীব্রতর হয়ে ওঠে, প্রথমবারের
মত পিছু হটে আইয়ুব জান্তা, প্রত্যাহার
করে নেয় শরীফ কমিশনের
রিপোর্ট। সামরিকজান্তার বিরুদ্ধে এই
সফল আন্দোলন একদিকে ছাত্রদের
প্রস্তুত করে সামনের দিনের
কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের
নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, অন্যদিকে
ছাত্রদের এই সাহসী ভূমিকা গোটা
জাতিকে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করে।
এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা নিয়ে
’৬৪, ’৬৬, ’৬৯-এ গড়ে ওঠা
গণআন্দোলনে ছাত্রসমাজ পালন
করে ঐতিহাসিক ভূমিকা।
’৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়
যখন ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে
গণমানুষের আন্দোলন দানা বাঁধছিল,
তখন ১৯৬৪ সালে
উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
লাগিয়ে দেয়া হয়। সেই সাম্প্রদায়িক
দাঙ্গার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ছাত্র
আন্দোলনেও ছাত্র ইউনিয়ন পালন
করে অগ্রসর ভূমিকা। ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশনে
মোনায়েম খানের উপস্থিতির
বিরোধীতায় গড়ে ওঠে
আন্দোলনের দ্বিতীয় আরেকটি
পর্ব। এর মধ্য দিয়েই ছাত্র ইউনিয়ন সারা
দেশে হয়ে ওঠে বৃহত্তম ছাত্র
সংগঠন। দেশের অধিকাংশ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র
ইউনিয়ন জয়লাভ করতে থাকে। কিন্তু
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৬৫ সাল
থেকেই তথাকথিত ‘চীন-রাশিয়া’
মতাদর্শিক বিরোধের ঢেউ
এদেশের বামপন্থী মহলেও
এসে লাগে। জাতীয় মুক্তির সঙগ্রাম
না সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা অগ্রাধিকার পাবে
এ প্রশ্নে, ছাত্র ইউনিয়নও বিভক্ত
হয়ে যায় ১৯৬৫ সালে। রাশেদ খান
মেননের নেতৃত্বে গঠিত
‘পিকিংপন্থী’ গ্রুপ পরবর্তীকালে
ভেঙ্গে বেশ কয়েকটি খন্ডে
পরিনত নয়। মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে
গঠিত মস্কোপন্থী বলে পরিচিত
অপর অংশই পরবর্তীতে মূলধারার ছাত্র
ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত হয়, যারা
স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে ডাকসুসহ
বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়
এবং তার উত্তরাধিকারীরা এখনও লড়াই
সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এরপর কমিউনিস্ট পার্টি থেকে
চীনাপন্থীরা বের হয়ে যায়, বিভক্ত
হয় ন্যাপও। তৎকালীন সময়ে
চীনের ভারতবিরোধীতা এবং
পাকিস্তানপ্রীতির কারণে পিকিংপন্থীরা
গুরুতর বিভ্রান্তির শিকার হয় এবং
‘পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা’র নামে
‘ডোন্ট ডিস্টার্ব আইয়ুব’ নীতি গ্রহণ
করে। পরবর্তীতে অবশ্য খন্ড
খন্ড হয়ে পড়া চীনাপন্থীদের
অনেকেই সেই বিভ্রান্তি থেকে
বের হয়ে আসে এবং ৬৯-এর
গণঅভ্যুত্থানসহ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়
অংশগ্রহণ করে। যদিও
চীনাপন্থীদের কেউ কেউ
৭১’এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকেও ‘দুই
কুকুরের কামড়াকামড়ি’ বলে অভিহিত
করেছিল।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্ত্বশাসন ও
গণতন্ত্রের দাবি সম্বলিত ঐতিহাসিক ছয়
দফা পেশ করেন। এই ছয় দফার
পক্ষে গণজাগরন তৈরী করতে
বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার
চালান। চীনাপন্থীরা সেই ছয়
দফাকে ‘সিআইএ’র দলিল’ হিসেবে
আখ্যায়িত করে। ছাত্র ইউনিয়ন ছয়
দফাকে পূর্ণাঙ্গ ‘মুক্তি সনদ’ না মনে
করলেও ‘অসম্পূর্ণ কিন্তু ন্যায্য দাবী’
হিসেবে তাকে সমর্থন দেয়। ছয়
দফার এবং গণমানুষের অন্যান্য দাবিতে
৭ই জুন ঐতিহাসিক হরতাল পালিত হয়। ছাত্র
ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সে
হরতালে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের
শিকার হয়েছিলেন। ছয় দফার
আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি
জাতীয়তাবাদী বুর্জোয়াদের
রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং
শেখ মুজিব স্বাধীকারের
আন্দোলনের সামনের কাতারে
চলে আসে। পরবর্তীতে ১৯৬৮
সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান
আসামি হয়ে শেখ মুজিব জনপ্রিয়তার
শীর্ষে উঠে যান। যদিও
স্বাধীকারের আন্দোলনকে এতদিন
পর্যন্ত প্রধানত বামপন্থীরাই এগিয়ে
নিয়ে গেছেন, তবু সেসময়
আন্দোলনের নেতৃত্ব চলে যায়
আওয়ামী লীগের কাছে।
বামপন্থীদের চীনা শিবিরে গুরুতর
বিভ্রান্তি, চীনা-রাশিয়া বিভক্তির কারণে
দুর্বল হয়ে পড়া এবং
মস্কোপন্থীদের কিছু কিছু
ক্ষেত্রে ‘আওয়ামী নির্ভরতা’র
ঝোঁক-ইত্যাদি কারণে মুক্তিযুদ্ধের
নেতৃত্ব বামপন্থীদের হাতছাড়া
হয়ে যায়।
১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র
সংগীতের প্রচার নিষিদ্ধ করে।
ছাত্রসমাজকে পাশে নিয়ে ছাত্র
ইউনিয়ন এর বিরুদ্ধে তীব্র
আন্দোলন গড়ে তোলে। বিভিন্ন
সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে ‘রবীন্দ্র
স্বাধীকার প্রতিষ্ঠা পরিষদ’ গঠনেও
ছাত্র ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
রাখে। ১৯৬৮ সালের ২৫শে
সেপ্টেম্বর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল
হোটেলে আইয়ুব খান পাকিস্তানের
সংহতি রক্ষার্থে উর্দু ও বাংলার সংমিশ্রণে
এক সাধারণ ভাষা সৃষ্টির ঘোষণা দেয়।
ছাত্র ইউনিয়ন তার বিরুদ্ধেও গড়ে
তোলে দুর্বার প্রতিরোধ।
লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায়, আগরতলা
ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার, শেখ মুজিব
এবং মণি সিংহের মত রাজবন্দীদের
মুক্তির দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন,
ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দুর্বার
আন্দোলন গড়ে ওঠে। মাওলানা
ভাসানীও সেসময় তার আগের
অবস্থান থেকে সরে এসে
আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে
সমর্থন দেন। পিকিংপন্থী ছাত্র
ইউনিয়নও যোগ দেয়
আইয়ুববিরোধী গণসংগ্রামে। বিভিন্ন
ছাত্রসংগঠনকে একসাথে নিয়ে
ছাত্রদের ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
আন্দোলন বেগবান করার চেষ্টা
করে ছাত্র ইউনিয়ন। গণতান্ত্রিক-
প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনদের নিয়ে
গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ছয় দফার
অসম্পূর্ণতা দূর করতে ছাত্রসমাজ ১১
দফার কর্মসূচি ঘোষণা করে, ছাত্র
ইউনিয়নই সেই এগার দফা কর্মসূচির মূল
রূপকার । ছয় দফার সাথে
সাম্রাজ্যবাদবিরোধীতা, একচেটিয়া
পুঁজিবাদের বিলোপ, কৃষক-শ্রমিকের
বিভিন্ন দাবী, ছাত্রসমাজের শিক্ষা বিষয়ক
দাবী ইত্যাদি যুক্ত হয় এবং তা পরিণত হয়
বাংলার গণমানুষের মুক্তির সনদে।
মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা নিহিত আছে
ঐ এগার দফাতেই। ছাত্রদের
নেতৃত্বে এগার দফার আন্দোলনে
ছাত্র ইউনিয়ন পালন করে অগ্রণী
ভূমিকা। এগারো দফার আন্দোলনের
তীব্রতা বাড়তে থাকে। ১৯৬৯
সালের ২০ জানুয়ারী ছাত্র-জনতার
মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন
ছাত্র ইউনিয়ন (পিকিং) এর নেতা আসাদ।
আসাদের রক্তমাখা শার্ট হয়ে ওঠে
বাঙালির প্রাণের পতাকা। ২৪ জানুয়ারী
শহীদ হন মতিউর রহমান সহ
অনেকে। মিছিলে মিছিলে
অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় বাংলা। ঢাকাসহ সারা
দেশে সৃষ্টি হয় ঐতিহাসিক
গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানের মুখে
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের
মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানীরা,
ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় আইয়ুব খান। ৬৯’
এর সেই মহান গণঅভ্যুত্থানের
ভেতরেই নিহিত ছিল স্বাধীনতার
বীজ। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে,
ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও বিভিন্ন বামপন্থী
দলের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকার
কারণেই একটি সংকীর্ণ
জাতীয়তাবাদভিত্তিক ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’
আন্দোলন না হয়ে এদেশের
স্বাধীনতা সংগ্রামের উত্তরণ ঘটেছিল
জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের ধারায়।
সেকারণেই, দ্বিজাতি তত্ত্বের
ভিত্তিতে সুবিধাবঞ্চিত বাঙালি
মুসলমানদের শরিকী পাওনা আদায়ের
জন্য পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করে
‘লাহোর প্রস্তাব’-এর আদিরূপে
ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের বদলে
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী
আধিপত্য থেকে মুক্তিলাভ ও
শোষণমূলক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার
সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল।
আইয়ুব খান ক্ষমতা হস্তান্তর করেন
আরেক সেনাশাসক ইয়াহিয়া খানের
কাছে। ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসেই সাধারণ
নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭০
সালের ৭ই ডিসেম্বর সেই ঐতিহাসিক
সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৭০
সালের ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ছাত্র
ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত
হয়। সম্মেলনে জাতীয় অধিকার
প্রতিষ্ঠার লড়াই সফল করে তোলার
সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রকৃত জাতীয়
মুক্তির লক্ষ্য সামনে রেখে
জাতীয় স্বাধিকারের শত্রæ সাম্রাজ্যবাদ
ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সম্পর্কে
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় সম্মেলন
থেকে। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী, ১১ দফার সমর্থনকারী
প্রকৃত ও সাচ্চা দেশপ্রেমিক
জনদরদীদের নির্বাচিত করার জন্য
ছাত্র ইউনিয়ন জনগণের মধ্যে ব্যাপক
প্রচার কাজ চালিয়ে যায়।
বামপন্থীদের নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম
জনগণের রাজনৈতিক চেতনাকে
অগ্রসর করে, যার ইতিবাচক প্রভাব খানিকটা
আওয়ামী লীগের ওপরও পড়ে।
ন্যাপের অনেকগুলো প্রগতিশীল
দাবিও আওয়ামী লীগ তাদের
নির্বাচনী ইশতেহারে সংযুক্ত করে
নেয়। এসময় ছয় দফা কর্মসূচি এবং
স্বায়ত্ত্বশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির
প্রতি অনড় থাকার কারণে জনগণের
কাছে ভীষণভাবে জনপ্রিয় হয়ে
ওঠেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, হয়ে
ওঠেন বাংলার জনগণের ঐক্যের
প্রতীক। স্বাধীকারের প্রশ্নে
পূর্বের বিভিন্ন সময়ে দোদুল্যমানতা
প্রকাশ করা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর
নেতৃত্বে এ সময়ে জনগণের
আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। নির্বাচনে
বিপুল ভোটে জয়লাভ করে শেখ
মুজিবের আওয়ামী লীগ,
পাকিস্তানের পার্লামেন্টে লাভ করে
সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ‘ভোটের বাক্সে লাথি
মারো’ ¯শ্লোগান দিয়ে ন্যাপ
(ভাসানী) ও চীনাপন্থীদের
নির্বাচন বয়কটও আওয়ামী লীগকে
একক ম্যান্ডেট পেতে সহায়তা
করে। ন্যাপ (মোজাফফর) মাত্র ১টি
আসন পেলেও, তাদের এবং ছাত্র
ইউনিয়নের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী
প্রচারণা, শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের দাবি,
রুটি-রুজির প্রশ্ন, সমাজতন্ত্রের
শ্লোগান গণমানুষের
আন্দোলনকে র্যাডিকালাইজড করতে
ভূমিকা পালন করে। এসময়,
নিষিদ্ধঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টিও
লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে
পালন করে ঐতিহাসিক ভূমিকা। নির্বাচনের
পর, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী
আবারো গণতন্ত্রের বিপরীতে
দাঁড়িয়ে ক্ষমতা হস্তাস্তরে টালবাহানা শুরু
করে। এর ফলে অনিবার্য হয়ে ওঠে
সশস্ত্র সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার লড়াই।
ছাত্র ইউনিয়নও প্রস্তুত হতে থাকে
জনগণের পাশে থেকে সশস্ত্র
সংগ্রামের পথ ধরে স্বাধীনতা ছিনিয়ে
আনতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার
জন্য।
স্বাধীনতার দাবি ও সশস্ত্র সংগ্রামের
প্রস্তুতিতে ছাত্র ইউনিয়ন

একাত্তরের শুরুতেই ছাত্র ইউনিয়ন
বুঝতে পারে স্বাধীনতার জন্য
সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি নেবার সময়
ঘনিয়ে এসেছে। ঘোষণাপত্রে
স্বাধীনতার দাবি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য
’৭১-র ১৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র
ইউনিয়নের বিশেষ জরুরি কাউন্সিল
অধিবেশন আহ্বান করা হয়। জরুরী
কাউন্সিল শাসনতন্ত্র সম্পর্কে ১৪ দফা
দাবি প্রণয়ন করে। এতে বলা
হয়-‘পাকিস্তানের যে মূল পাঁচটি
ভাষাভাষী জাতির অবস্থান, উহাদের
সকলকে পাকিস্তান ফেডারেশন
থেকে বিচ্ছিন্ন হইয়া স্বতন্ত্র
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের
অধিকারসহ পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রাণাধিকার
দিতে হইবে।’ আমাদের
মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে অনেক
গোপন সংগঠন, কিংবা প্রকাশ্য সংগঠন
গোপনে স্বাধীনতার দাবি অনেক
আগে থেকেই তুলেছেন, কিন্তু
একটি প্রকাশ্য সংগঠনের অফিসিয়াল
দলিলে স্বাধীনতার দাবি সম্ভবত এটাই
প্রথম ঘটনা।
১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে
ব্রাতিশ্লাভা শহরে আন্তর্জাতিক ছাত্র
ইউনিয়নের (আইইউএস) দশম কংগ্রেস
অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের শতাধিক দেশের
ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই
কংগ্রেসে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ
থেকে বাংলাদেশের জনগণের
ন্যায্য দাবি ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরা
হয়। কংগ্রেসে বাংলাদেশের
জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও সংগ্রামের
সমর্থনে এক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন এই কংগ্রেসে আইইউএস-
এর কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়।
ফলে পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের
সময় সকল দেশের ছাত্র-যুব সমাজের
সমর্থন ও সাহায্য লাভ সহজ হয়।
সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়, ২২ ফেব্রুয়ারি
শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ছাত্র
ইউনিয়নের সমাবেশে ঘোষণা করা
হয়, ‘তেসরা মার্চ সংসদ না বসলে
বাংলাদেশ স্বাধীন হবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্যে
কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে এটাই
প্রথম ঘোষণা বলে বিবেচিত হয়। ২৬
ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়
ছাত্র ইউনিয়ন আয়োজিত এক
সমাবেশের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘পূর্ব
ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চ ঢাকায়
জাতীয় পরিষদের সভা অবশ্যই বসতে
হবে এবং গণতান্ত্রিক নিয়ম মতো
কোরাম হলেই তাকে আইনসিদ্ধ
বলে ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায়
সংকটজনক পরিস্থিতির জন্য
গণতন্ত্রবিরোধী পাকিস্তানের
শাসকগোষ্ঠীই দায়ী থাকবে।’
সমাবেশে আরো বলা হয়,
‘জনগণের ভোটের রায়
বাস্তবায়নের পথে কোনো প্রকার
ষড়যন্ত্রই এদেশের ছাত্রসমাজ
বরদাস্ত করবে না।’
১৯৭১ সালের ১ মার্চ সংসদের
অধিবেশন বাতিল করা হলে, দেশের
মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে
পড়ে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের
কাছে ছাত্র ইউনিয়নের একটি বিক্ষোভ
সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ
শেষে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা
শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
গুলিস্তান কামানের ওপর দাঁড়িয়ে এক
স্বতঃস্ফ‚র্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন
নেতারা বলেন, ‘বাঙালি গণতন্ত্র
চেয়েছিল কিন্তু পশ্চিমা
শাসকগোষ্ঠী তা দেয়নি, বাঙালিরা এবার
তাদের দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
করবে।’ ওই দিন হোটেল
পূর্বাণীতে ছাত্রলীগ
নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন
নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর
সমন্বয়ে গঠিত পূর্বের ছাত্র সংগ্রাম
পরিষদকে সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়
ছাত্র ইউনিয়ন। কিন্তু সংকীর্ণ
দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ছাত্রলীগ এ
প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
২ মার্চ ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র লীগ,
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি),
জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক সমিতি
প্রভৃতি সংগঠনের ডাকে কোন প্রচারণা
ছাড়াই সফল হরতাল পালিত হয়। দেশের
বিভিন্ন স্থানে ছাত্র ইউনিয়নের
উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
হয়। এছাড়া সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়ন
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন
করে। পল্টন ময়দানে ন্যাপ ও ছাত্র
ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল
জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অধ্যাপক
মোজাফফর আহমদ যুক্তফ্রণ্ট গঠন
করে পাড়া-মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি গঠনের
কথা বলেন। সাম্রাজ্যবাদ ও
শোষকগোষ্ঠী সম্পর্কেও
সচেতন থাকার ও তাদের বিরুদ্ধেও
সংগ্রাম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়ে
বলেন, ‘অন্যথায় শোষণ বন্ধ হবে
না। আবার ঠকিতে হইবে।’ ৪ তারিখে
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র
ইউনিয়নের সমাবেশ থেকে ইয়াহিয়া
প্রস্তাবিত নেতৃসম্মেলন প্রত্যাখ্যান
করে বলা হয়, এ ধরণের সম্মেলন
হতে দেয়া হবে না। এ সময়ে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ছাত্র
ইউনিয়নের কর্মকান্ড পরিচালিত হতে
থাকে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,
সাইন্স এ্যানেক্স ভবনের ক্যান্টিন ও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ পরিণত হয়
ছাত্র ইউনিয়নের কাজের কেন্দ্রে।
ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে
মুক্তিসংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করে
তুলতে থাকে ছাত্র ইউনিয়ন। মার্চের
প্রথম দিন থেকেই, প্রতিদিন
বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ
মিনারে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ
থেকে ছাত্র-গণ সমাবেশের
আয়োজন করে চলমান ঘটনাবলী ও
রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে
ব্রিফিং করা হতো।এছাড়া পল্টন ময়দানে বড় জনসভা করেও জনগনের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা তুলে দেওয়া হতে থাকে।
চলবে…….
তথ‍‍্যসৃত্র
ড.মোহাম্মদ হান্নান, ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *