আল্লা, হুবালের আরেক রুপ

আল্লা কে?প্রশ্নটা করতেই সবাই এক বাক্যে মুসলিম জাতির এক মাত্র সৃষ্টা হিসাবে বলে দেবে।মুসলিমদের বিশ্বাস মহাবিশ্বের সৃষ্টি তিনি করেছেন।আর মানব সৃষ্টি করেছেন তার উপাশনার জন্য।আর তার প্রেরিত পুরুষ মোহাম্মাদ যে আল্লার এক মাত্র এবং শেষ মেসেঞ্জার।মোহাম্মাদের জন্ম কুরাইশ বংশে।আর এই মোহাম্মাদ কে ঘিরে নানা রকম আলৌকিকতা আর আল্লার নামের সৃষ্টি কর্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মুসলিম জাতি।
সহজ প্রশ্নের সহজ উত্তর।আল্লা মুসলমানের এক ইশ্বর।যে কথা মেঘের আড়ালে থাকে তা মুসলিম জাতির কাছে দুর্বোধ্য অবিশ্বাস্য বটে।চৌদ্দ’শ বছর আগে মোহাম্মাদ নামের ৪০ বছরের এক লোকের হাত ধরে যে আল্লার আবির্ভাব সে কে?কোথায়ই ছিল তার আগে?প্রশ্নের উত্তর বিশ্বাসে মাঝে সহজ ভাবেই আছে।আলৌকিকতায় তার মৃত্যু নেই জন্ম নেই।আলৌকিকতা নিঙরে যে বাস্তব চিত্র উঠে আসে তাতে আল্লা কে?আর মোহাম্মাদই বা কে?

ইবনে আল ক্বলবি কর্তিক বর্নিত আছে যে মোহাম্মাদের পিতা আবদুল মুত্তালিব তার দশ সন্তানের এক সন্তান কে দেবতার উদ্দেশ্যে বলি দান করার প্রতীজ্ঞা করেন।হুবাল দেবতার সামনে সংরক্ষিত তীরের সাহায্যে বলি দেয়া সন্তান নির্ধারনে সাহায্য চান আর তাতে মোহাম্মাদের পিতা আব্দুল্লার নাম আসে।পরবর্তিতে হুবাল দেবতার সামনেই তীরের মাধ্যমে আব্দুল্লার বলি পরিবর্তে ১০০ উট বলি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।বলে রাখা ভাল মোহাম্মাদের বংশ অর্থাৎ কুরাইশ বংশ সে সময় কাবা শরিফের রক্ষার দ্বায়ীত্বে ছিল।আর সেই বংশের পুত্র মোহাম্মাদ যে কিনা আল্লা নামের ইশ্বরের আবির্ভাব করে।
কুরাইশ বংশ ছিল হুবাল দেবতার পূজারি।আর সে সময় কাবা ঘরেও ছিল ৩৬০ টি মুর্তি।তার মাঝে হুবাল ছিল প্রধান।কে এই হুবাল?

“আল আজরাকির বর্ণনানুসারে, হুবালের মূর্তিটি মেসোপটেমিয়ার হিট অঞ্চল থেকে মক্কা নগরীতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে হিট অঞ্চলটি ইরাকে অবস্থিত। ফিলিপ কে হিট্টি হুবাল শব্দের সংগে আরামীয় শব্দের মিল খূঁজে পান যার অর্থ শক্তি। সেটার উপর ভিত্তি করে তিনি দাবী করেন হুবালের ছবিটি উত্তর আরব সম্ভবত মোয়াব অথবা মেসোপটেমিয়া থেকে মক্কা নগরীতে আনা হয়। হুবাল শব্দটি সম্ভবত হু এবং বাল সহযোগে গঠিত হয়েছে। হু শব্দের অর্থ শক্তি বা দেবতা এবং বাল অর্থ প্রভু বা খোদা। বাল ছিলেন মোয়াবদের খোদা। দক্ষিণ আরবের বাইরে শুধু মাত্র নাবাতিয় পুঁথিতে হুবালের কথা দেবতা দুশারা এবং মানাওয়াতু (মানাত নামে সমধিক পরিচিত) এর সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক পুঁথিতে ব্যক্তি বিশেষের নাম হিসেবে হুবালের উল্লেখ আছে যেমন, হুবালের পুত্র”।(উইকি থেকে)

প্রাক ইসলামি যুগে এই ৩৬০ টি মুর্তির ধারক কাবা ঘরকেও পৌত্তলিকেরা আল্লার ঘর বলত।আর এর রক্ষনা বেক্ষন করতেন কুরাইশ বংশের লোক।আর এই বংশেই মোহাম্মাদের জন্ম।মোহাম্মাদের বাবার নাম আব্দুল্লাহ যার অর্থ আল্লার দাস।তাহলে কে এই আল্লা যে কিনা মোহামাদের আল্লার জন্মের আগেই।আল্লার দাস/আবুল্লাহ যে কিনা হুবাল দেবতার উপাশক ছিলেন।তাহলে এটা কিছুটা স্পষ্ট যে হুবালই আল্লা।যা কিনা পরে মোহাম্মাদের এক আল্লায় রুপ নেয়।

অনেকে বলে থাকে কুরাইশের এক দল এক ইশ্বরের আরাধনা করতেন যার নাম ছিল আল্লা।যার প্রবর্তক ছিল ইব্রাহীম।এরকম হলে কাবা ঘরের সাথে কুরাইশ বংশের কোন সম্পর্ক থাকত না।এমন কি কাবায় ৩৬০ টা মুর্তি থাকার প্রশ্নই আশে না।হুবাল দেবতাও থাকতা না।এর অর্থ এটা যে কুরাইশ বংশের লোক হুবাল দেবতা তথা আল্লার উপাশনা করত।আর এই হুবাল কে ঘিরে কিছু প্রথা প্রচলন ছিল।যেমন কাল পাথরে চুম্বন করা,কাবাকে ঘিরে সাত পার ঘোরা,সাফা ও মার ওয়া পাহারে সাত বার দৌড়াদৌড়ি করা।এমন কি বছরের একটা সময় হজ্ব পালন করা।এই সব বৈশিষ্ঠ যা মোহাম্মাদ পরে সংস্করন করে ইসলামে ঢুকিয়ে দেয়।মুলত হুবাল বা আল্লা যা পৌত্তলিকের ধর্ম যাআর সংস্করণ আজকের ইসলাম।

আল্লা কে?এখন বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে পৌত্তলিকের হুবালই মোহাম্মাদের আল্লা।আলৌকিকতা দিয়ে বর্নিত এক ইশ্বর আর কেউ নয়,হুবাল দেবতা যা পৌত্তলিকের দেবতা ছিল।

১ thought on “আল্লা, হুবালের আরেক রুপ

  1. হুবাল ছিল ৩৬০টা দেব দেবীর
    হুবাল ছিল ৩৬০টা দেব দেবীর প্রধান , তাকেই আরবরা আল্লাহ নামে ডাকত। এই আল্লাহকেই মুহাম্মদ তার আরাধ্য হিসাবে গ্রহন করেছিল। মুহাম্মদ দাবী করেছিল এই আল্লাহ হলো বাইবেলের ঈশ্বর। সেটা করতে গিয়ে মুহাম্মদ প্রচার শুরু করে ইব্রাহীম তার ছেলে ইসমাইলকে নিয়ে কাবা ঘর মেরামত করেছে যদিও ইব্রাহীম বাস করত বর্তমানের ইসরাইলে যা মক্কা থেকে ১৩০০ কিলোমিটার দুরত্বে। সুতরাং এটা যে একটা ডাহা মিথ্যা কথা তা বলাই বাহুল্য। ইব্রাহীম তার দাসী হাজেরা ও শিশুপুত্র ইসমাইলকে কোনভাবেই উষর মরুভুমি মক্কায় নির্বাসন দেয় নি। তা যদি দিত , তাহলে সেটা বাইবেলে লেখা থাকত। ইব্রাহীম যদি কাবা ঘর মেরামত করত , সেটাও বাইবেলে লেখা থাকত। আর তাহলে ইহুদি খৃষ্টান এরাও কাবা ঘরে এসে তাদের আরাধনা করত। কারন ইব্রাহীম তো তাদেরও আদি পিতা। কিন্তু মক্কা বা মদিনার কোন ইহুদি বা খৃষ্টান কখনই কাবা ঘরকে তাদের আরাধনার স্থান হিসাবে গন্য করত না। সিরাত , হাদিস ও কোরানের কোথাও লেখা নেই যে ইহুদি ও খৃষ্টানরা কখনও কাবা ঘরকে তাদের ঈশ্বরের ঘর বলে গণ্য করত। আর করবেই বা কেন । তাদের ঈশ্বরের ঘর তো ছিল সেই জেরুজালেমে। মুহাম্মদও ১২/১৩ বছর সেই জেরুজালেমের দিকে মুখ করে আরাধনা করত। হঠাৎ তার খেয়াল হলো , এটা করলে তো মুসলমানরা সেই ইহুদি বা খৃষ্টান হয়ে যাবে , তাই সে আবিস্কার করল , কাবা ঘরই আল্লাহর প্রথম ঘর যা ইব্রাহীম সংস্কার করে। এভাবে নিত্য নতুন কিচ্ছা আবিস্কার করলেও মুহাম্মদ আসলে কিছু কাচা কাজ করে গেছিল , তা হলো – কাল পাথরকে চুম্বা দেয়া, কাবা ঘরকে তাওয়াফ করা , সাফা মারওয়া এর মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করা ইত্যাদি ইসলামের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে প্রমান করে গেছিল যে তার ইসলাম আসলে বাইবেলের ঈশ্বরের ধর্ম না, আর তার ঈশ্বর বাইবেলের ঈশ্বরও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *