২৫০০০ গাছ কেটে রেলপথ তৈরি! কি সাংঘাতিক কথা!!

১২৫০ হেক্টরের এক ঘন বনাঞ্চল লাউয়াছড়া । জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের নৈসর্গিক ও সমৃদ্ধতম বনগুলোর একটি।এ বন আয়তনে ছোট হলেও দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রানীর এক জীবন্ত বিচরণক্ষেত্র। বহুবিধ পাখী , কীটপতঙ্গের এক এক দুর্লভ ক্ষেত্র এ বনভূমি। ১৬০ এর উপরে নানান প্রজাতির উদ্ভিদ , ২০০ এর উপরে পাখিসহ নানা ধরনের প্রনীর এক অভয়রন্য। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো , এটি সরকার ঘোষিত জাতীয় উদ্যানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখন সেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৌলভীবাজারের বিখ্যাত লাউয়াছড়া উদ্যানের ২৫০০০ গাছ কেটে রেলপথ নির্মাণ করবে। স্বভাবতই অন্য সকল কাজের মতোই শাসকদের এহেন উন্নয়নভাবনা কতিপয় ব্যাক্তির বাহবা কুড়াচ্ছে। সরকারের মধ্যেও অপ্রতিরোধ্য গতিতে দেশ এগিয়ে চলার ভাবখানা বিরাজ করছে। কিন্তু লাউয়াছড়া উদ্যানকে কেটে সাবার করে বনভূমি ধ্বংস করার এই আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত রুখে দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রতিবাদ নাই! শাসকদল যে রামপাল থেকে শুরু করেছে সেটি লাউয়াছড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই সরকারের আমলে বনাঞ্চল ধ্বংসের মতো স্পর্শকাতর দুটি প্রকল্পের একটি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প আরেকটি এই লাউয়াছড়া বন কেটে রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত । এ ধরনের প্রকল্প যে পরিবেশের জন্য মারাত্নক বিপর্যয়কর তা সরল সোজা হলেও আমাদের শাসকরা তা কানেই তুলতে চান না। পরিবেশ, প্রকৃতি ঘিরে এমন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সাধারন জনগনের বুদ্ধিবৃতিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তির গাঢ়ত্ব না থাকায় সহজেই শাসকরা পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে , যেহেতু এটি তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্প সেহেতু একশ্রেনীর মানুষও এসব প্রকল্পের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করাতে সদাপ্রস্তুত। এই অপযুক্তি আর ফরমায়েসি বাহাস যেমন রামপাল বাস্তবায়নে দেখা যাচ্ছে , তেমনি লাউয়াছড়া ধ্বংসেও অচিরেই চোখে পড়বে।

কেন লাউয়াছড়ায় রেললাইন স্থাপনের বিরোধীতা-
# ২০০৮ সালে বহুজাতিক শেভরন লাউয়াছড়ায় গ্যাস অনুসন্ধানে নেমে পড়ে। সেসময় অনেক পত্রিকার রিপোর্টে জানা যায় যে, সেসময় অনুসন্ধান কাজ চালাতে গিয়ে ব্যাপকমাত্রায় শব্দ দূষণ ঘটেছিলো ।শব্দ দূষনেরব দরুন বনের জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব পড়েছিলো ব্যাপক । যেকোন ধরনের ধ্বংসাত্নক কর্মকাণ্ড একে হুমকির মুখে ফেলবে নিঃসন্দেহে। সেসময়ের অনুসন্ধানকাজে বিশেষত পাখিদের উপর প্রভাব পড়েছিলো।
# অক্সিডেন্টাল নামে আরেক বহুজাতিক লাউয়াছড়ার পাশেই মাগুরাছরায় গ্যাস কূপে আগুন লাগিয়েছিলো। সেই আগুনের ভয়াবহতা কি সেটি সবাই জানে। ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব পরে এই বনে।
# পূর্বের এমন ধংসাত্নক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আবারো যদি বনের বুক চিরে রেলপথ করা হয় তাহলে বাকিটা অনুমেয়। এই রেলপথ নির্মাণে প্রায় ২৫০০০ গাছ কেটে ফেললে বনে যে কি রূপ প্রভাব পড়বে তা ভাবলে আঁতকে উঠতে হয়।

এ কথাটা পরিষ্কার যে লাউয়াছড়ায় গাছ কেটে রেলপথ নির্মাণ পরিবেশের জন্য তো বটেই , সমগ্র বনের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। এখন যদি কেউ বলে উন্নয়ন তথা রেল যোগাযোগও তো প্রয়োজনীয় তাঁদের জন্য একটি কথাই বলি- জলবায়ু সংকট মীমাংসা না করে কিংবা পরিবেশ ঠিক না রেখে পৃথীবিতে মানুষের অস্তিত্ব টিকবে না। কাজেই রেলের লাইন ঘুরিয়ে অন্যত্র নেয়ার মাধ্যমে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষাই প্রথম কর্তব্য । বন বাচলে জীব বাঁচবে , জীব বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। আর পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।
২৫০০০ গাছ কেটে রেলপথ নির্মাণ! কি সাংঘাতিক কথা।
২৫০০০ গাছ কাটলে আর বন থাকলো কোথায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *