লিলিথ, সমাজের বেশ্যা!

উপকথা,ধর্ম,ইশ্বর এগুলো মানুষের সৃষ্টি হলেও মানুষের সমাজ ব্যাবস্থার চিত্র কিছুটা হলেও তুলে ধরে।আলৌকিকতা ছাড়া বাকি যা থাকে তা কিছুটা হলে ওই সময়ের কিছু চিত্র তুলে ধরে।যেমনটা আদম হাওয়া সৃষ্টির ধর্মিয় কাহিনী।ইশ্বরের তৈরি প্রথম মানব মানবী।গল্প পুরোটাই আলৌকিকতার মিশ্রন হলেও স্পষ্টই বলে দেয় ইশ্বর পুরুষতন্ত্রের সৃষ্টি যা নারীকে করেছে পুরুষের চেয়ে ছোট।যার বর্ননা কোরানের প্রতি পাতায় পাতায় পাওয়া যায়।

ইসলাম ধর্মের আদি রুপ ইহুদি ধর্ম।ইহুদি আর খ্রিস্টান ধর্মের সর্বশেষ সংস্করণ ইসলাম।ইসলামে আদম হাওয়ার সৃষ্টি কথা আছে।আদমের পাজরের হার থেকে হাওয়ার সৃষ্টি।খ্রিস্টান ধর্ম এ কথা স্বীকার করে।ধর্ম গ্রন্থই যে নারীকে নিচ করে রেখেছে।আলৌকিকতা বা ইশ্বর তত্ত্ব বাদ দিলে এই মানব সৃষ্টি কিংবা ধর্মগ্রন্থ মানুষেরই সৃষ্টি।সে হিসাবে বলা যায় এই নারী কে হীন করে রাখে ধর্ম যা মানুষের সৃষ্টি করেছে,আর মানুষ বলতে ধর্ম গ্রন্থ পুরুষ কেই বুঝায়।মানুষ নারীকে গল্প কাহিনীতে হিন নীচ দুর্বল করে রেখেছে।এ উপমহাদেশেও নারী ক্ষীণ দুর্বল হিসাবে চিত্রায়ীত হয়েছে।রাক্ষসের গুহায় ক্ষীণ দুর্বল রাজকন্যা বন্দি।যে কিনা নিজেকে উদ্ধার করতে পারে না।বলিষ্ঠ,সাহসি রাজকুমারের সাহায্য নিতে হয়।শুধু গল্প নয়,ধর্মও বলে নারী ক্ষীণ দুর্বল।সীতার অপহরণ।যাকে রক্ষা করতে পুরুষের প্রয়োজন।গল্পে ধর্মে এই ক্ষীণ দুর্বল চরিত্র যদি সবলের ভুমিকার অবতির্ন হয় তাহলে তাকে বেশ্যা খারাপ রুপে দেখি।

আদম হাওয়ার কাহিনী খ্রিস্টান ধর্মেও আছে তবে এড্যাম আর ইভ নামে।ইহুদিদের প্রাচীন এবং সর্বপ্রথম গ্রন্থ ‘দ্যা বুক অব জেনেসিস’ এ এড্যামের আরেক স্ত্রী ছিল।যাকে প্রথম মানবী বলা হয়।বিদ্রোহী নারী ছিল লিলিথ।লিলিথ শব্দের অর্থ রাত্রী।লিলিথের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক উপাখ্যান প্রচলিত আছে।প্রাচীন ইহুদি ধর্ম গ্রন্থে লিলিথ পিশাচ।ঐ আগেই বলেছি অবলা যখন সবল হয়ে উঠে তখন সে ইশ্বরের(পুরুষতন্ত্রের) চোখে বেশ্যা বা খারপ।

কল্পকাহিনীতে এই বিদ্রোহী নারী সৃষ্টি হয়েছিল এড্যামের স্ত্রী রুপে।এড্যামকে সৃষ্টি করেছিল যা দিয়ে ঠিক ওই পদার্থেই লিলিথের সৃষ্টি।সমঅধিকার দাবিতে লিলিথ এড্যামকে ত্যাগ করে।এড্যামের অনুরুপে সৃষ্টি লিলিথ যৌনক্রিয়ার সময় এড্যামের নিচে থাকতে না চাইলে তাদের মাঝে ঝগড়া হয় যার ফলে লিলিথ তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।তার পর থেকেই লিলিথ অশুভ আত্মার,পিশাচ।ইশ্বর নামের পুরুষ বিদ্রোহী নারী পছন্দ করে না তাই দ্বিতীয় বার ভুল না করে এড্যামের হাড় থেকে ইভ কে জন্ম দিলেন।দ্যা বুক অব জেনেসিস ২ তে ইভ তৈরির সময় এড্যামের অনুভূতির বর্ননাও পাওয়া যায়।


এবং এখন এই হাড় আমারই
এই মাংস আমারই
তাকে “নারী” বলা হবে,
কারন তাকে পুরুষ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

ধর্ম গ্রন্থ কিংবা কাল্পনিক গল্পকথা গুলোর আলৌকিকতা বাদ দিলে সে সময়ের চিত্র যা পাওয়া যায় তাতে ইশ্বর নামে পুরুষতন্ত্র নারীকে হীন নিচ করে রেখেছে।এড্যাম তার ইভকে পেয়ে ঠিক সে রকম উল্লাস করেই বলেছিল এই হাড় আমার এই মাংশ আমার।বস্তুত নারীকে হাড় মাংশ হিসাবেই সমাজ ধর্ম দেখে।লিলিথ নামের চরিত্র কে প্রেতচরিত্র পিশাচী চরিত্রে দেখতেই এই পুরুষ সমাজ ভালবাসে না।যার ফলে আজকের যুগেও আমাদেরই এই পুরুষচরিত্র নারীকে অন্তঃপুরে বন্দি রাখতে চায়।আর লিলিথের চরিত্র বেশ্যা কিংবা মাগি নামে পরিচিতি পায়।

লিলিথ ,এড্যাম,হাওয়া এই চরিত্র কাল্পনিক হলেও বাস্তবে অনেক লিলিথ এড্যাম হাওয়ার দেখা মিলবে।এই লিলিথ চরিত্র গুলো প্রতিবাদী সাহসী সমাজে এরা পিশাচ কিংবা বেশ্যা নামে পরিচিত।আর হাওয়ার মত হার মাংশের নারীও আছে যারা এড্যামের দাসী।আর স্বর্ন রৌপ্যে মুড়ে এড্যাম সম্প্রদায় বলতে পারে,
এই হাড় আমারই
এই মাংশ আমারই।

২ thoughts on “লিলিথ, সমাজের বেশ্যা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *