তনু’র পরিবারের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তি এবং কিছু প্রশ্ন

তনু’র বাবাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা চেষ্টা এবং তার পরিবারকে নজরদারিতে রাখার বিষয়ে পরিবারে করা অভিযোগের বিষয়ে গতকাল আন্তঃবাহিনী জনংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর দাবি করেছে তনু’র পরিবারে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাদের অভিযোগ সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে।

এখন কথা হচ্ছে, সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনলে যদি সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়, তবে সেনানিবাসের ভিতরে একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা কি সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে না?
আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘সেনানিবাস নিরাপত্তার স্বার্থে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে গমনাগমনের জন্য সবাইকে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই সামরিক রীতি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা বা কারো ব্যক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য নয়।’ এর মানে হচ্ছে সেনানিবাসে যারাই প্রবেশ করে তাদের তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে অবশ্যই থাকে। অর্থাৎ তনুকে যারা খুন করেছে, তারা যদি বাহিরের কেউ হয় তবে তাদের বিষয়েও সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য আছে! আর যদি বাহিরের কেউ ভিতরে প্রবেশ না করে, তবে এই খুন কিংবা ধর্ষণ সেনানিবাসের ভিতরের কেউই করেছে!

এই কথা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশের সেনাবাহিনী হচ্ছে ধর্ষক খুনী পাকিসেনাদেরই উত্তরসূরি। আমাদের সেনারা তো গণমানুষের বাহিনী কখনো হতে পারেনি। পাকিস্তানী সেনারা বাঙালি নারীদের সাথে যা করেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তো আদিবাসী নারীদের সাথে ঠিক তেমনই আচরণ করছে। এতে করে কি সেনাবাহিনীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়না?

তনু হত্যার তদন্তে সেনাবাহিনীর অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে দিচ্ছে এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ বিচার পাওয়া কঠিন হবে! দুই দুইবার ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর কারণ অজানা! বিষয়টা এমন, যেন কেউ তনুকে হত্যাই করেনি! দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত বলছে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা পরিষ্কার নয়! তবে কি তনু স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে?

দেশব্যাপী এতো প্রতিবাদ হলেও রাষ্ট্র নির্বিকার। তনুদের খুনের বিচার করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেনো কোন দায় নেই। হাইকোর্টও এখন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তদন্ত কমিটি অগ্রগতি সম্পর্কে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের বিষয়ে মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। তবে কি তনুরা ন্যায় বিচার পাবে না? তনুদের চেয়ে কি ধর্ষকরা রাষ্ট্রের কাছে প্রিয়?

যে রাষ্ট্র তনুদের ন্যায় বিচার প্রদান করেনা, ধর্ষকদের মদদ দেয় সেই রাষ্ট্রকে ধিক্কার জানায়। যে সেনানিবাস ধর্ষকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল, যেই সেনাবাহিনী ধর্ষক – খুনীদের রক্ষা করতে মরিয়া, যারা ধর্ষকদের ধরতে নয়, ধর্ষিতার পরিবারকে হেনস্তা করতে বদ্ধপরিকর, তাদের প্রতি ঘৃণা।

তনু, ক্ষমা করিস বোন। আমরা তোর প্রতিবন্ধী, অক্ষম, অচল, মেরুদন্ডহীন ভাই। তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না!

১ thought on “তনু’র পরিবারের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইএসপিআর’র বিজ্ঞপ্তি এবং কিছু প্রশ্ন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *