মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই জামাত নিষিদ্ধ করা সম্ভব

বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন, শীঘ্রই জামাত নিষিদ্ধের বিল উত্থাপন করবেন। কিন্তু সেই সময় আর আসেনা। জনাব আনিসুল হক সাহেব জামাত নিষিদ্ধের বিলের নামে জনগনের সামনে মূলো ঝুলিয়ে রেখেছেন। কারণ জামাত নিষিদ্ধ করতে নতুন করে বিল আনার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান আইনের মাধ্যমেই সরকার চাইলে জামাতসহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন নিষিদ্ধ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতাদের সাথে সাথে দল হিসেবে জামাতের অপরাধ শাস্তি যোগ্য বলে রায়ের পর্যবেক্ষনে উল্লেখ্য করেছেন। দেশের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। তবু সরকার জামাতকে নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছেনা! সরকার জামাত নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে আদালতের গাড়ে বন্দুক রেখে চলছে। কারণ জামাত নিষিদ্ধকরা সংক্রান্ত মামলা চুড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে বিচারাধীন। অথচ এটাও একটা খোড়া অযুহাত। কেননা, আদালতে বিচারাধীন অনেক বিষয়েই সরকার ইতিপূর্বে হস্তক্ষেপ করেছে। তাহলে জামাত নিষিদ্ধে এতো টালবাহানা কেন?

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে দেশ নাকি ’৭২ – এর মূল সংবিধানে ফিরে গেছে! ’৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী তো জামাত এবং অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দল আগে থেকেই নিষিদ্ধ! কিন্তু কথা হচ্ছে আদালতের রায়ের পরেও সরকার পুরোপুরিভাবে ’৭২ এর সংবিধানে ফিরে যায়নি। কেবল চারমূলনীতিতে ফিরে গেছে। এক্ষেত্রে জামাত নিষিদ্ধের জন্য নতুন করে আইন বা বিল পাস না করে ’৭২ এর সংবিধানের ৩৮ নং অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করলেই হয়। কারণ ’৭২ এর সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দল কিংবা সভা অথবা সমিতি গঠন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের জন্য সংসদের সময় লেগেছিলো কয়েক মিনিট মাত্র! এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হয়েছিলো। সেই সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ একটি সংশোধনী পাস করতে যেখানে কয়েক মিনিট সময় লেগেছে, সেখানে জামাত নিষিদ্ধ করতে ’৭২ সালের মূল সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করতে সরকারের ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগার কথা নয়! তার মানে জামাত সহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে সরকারের। অথচ আমাদের আইনমন্ত্রী আমাদের হাইকোর্ট আর নতুন বিল দেখাচ্ছেন!

এছাড়া সরকার বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জামাতকে আরও দুই বছর আগেই নিষিদ্ধ করতে পারতো। সাঈদীর মামলার রায়ের পর কিংবা তাকে চাঁদে দেখা গেছে গুজব ছড়িয়ে দেশে যে তান্ডব চালানো হয়েছিলো সেটা জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এছাড়া সরকার উৎখাতের জন্য টানা ৯৩ দিন জামাত যে গুপ্ত পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে, সেটার সাথে জঙ্গী হামলার কোন পার্থক্য নেই। তাহলে যে কারণে জেএমবি, হুজি নিষিদ্ধ সেই একই কারণে জামাত নিষিদ্ধ করতে বাধা কোথায়।

জনগনে চাপে সরকার হয়তো জামাত নিষিদ্ধ করবে। কিন্তু জামাত নিষিদ্ধে সরকার যতো বেশি সময় নিবে, জামাতিরা ততোবেশি সংগঠিত হবে। ইতিমধ্যে শোনা যাচ্ছে, জামাত নতুন নামে রাজনীতিতে আসছে। তাদের এই সুযোগ করে দিচ্ছে স্বয়ং সরকার! সরকার হয়তো জামাতকে নিষিদ্ধ না করে তাদের রাজনীতিতে নতুন নামে পুনঃর্বাসিত করতে চায়। এই কারণে সরকার জামাত নিষিদ্ধকরনে অহেতুক কালক্ষেপন করছে।
জামাতসহ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করতে এবং তাদের পুনঃর্বাসন রোধ করতে ’৭২ এর মূল সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সংবিধানে পুনঃস্থাপনের বিকল্প নেই। জামাত – হেফাজতের রাজনীতি বন্ধে দ্রুত সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ’৭২ এর সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হোক।।

২ thoughts on “মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই জামাত নিষিদ্ধ করা সম্ভব

  1. জামাত নিষিদ্ধে আরও খেলা খেলবে
    জামাত নিষিদ্ধে আরও খেলা খেলবে সরকার। ভোট বলে কথা । জামাত হইলো মোল্লাদের ভোটের লাইসেন্স

    1. এই খেলা আখেরে আওয়ামীলীগকে কোন
      এই খেলা আখেরে আওয়ামীলীগকে কোন ফল দিবে না। সাপকে যতোই পোষ মানানো হোক, সাপ সময় মতো ঠিকই ছোবল মারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *