ধর্মের নামে সন্ত্রাসকারী, জঙ্গী, গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম

ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ও আত্মঘাতী হামলাকে ‘হারাম, জঘন্য অপরাধ ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করে ফতোয়া জারি করেছেন দেশের লক্ষাধিক মুফতি, ওলামা ও আইম্মা। শনিবার (১৮ জুন ২০১৬) রাজধানীতে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই ফতোয়া প্রকাশ করে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ঘোষণা দিয়েছেন- ধর্মের নামে সন্ত্রাসকারী, জঙ্গী, গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম। ইসলাম এদের কখনই শহীদের মর্যাদা দেয় না। বরং যারা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মারা যাবেন তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন। অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের বিশিষ্ট মুফতি, আলেম ও ইমামরা এই বলে ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইসলামের নাম ব্যবহার করে কতিপয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে মহাগ্রন্থ কোরান ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এরা ইসলামের কেউ নয়। এরা ইসলামের শত্রু। মানুষের চোখে ইসলামকে এরা একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। জিহাদ ও সন্ত্রাস একই জিনিস নয়। জঙ্গীদের অনেকেই ‘জিহাদী’ বললেও তারা আসলে সন্ত্রাসী। ইসলাম সন্ত্রাস সমর্থন করে না। আর যারা বেহেশত পাওয়ার আশায় আত্মঘাতী হামলা করছে, বলছে মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী, তারা কোরান ও হাদিসের আলোকে বেহেশত পাবে না। তাদের স্থান নিশ্চিত দোজখে। ‘মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমকে যদি কেউ হত্যা করে, সে বেহেশতের গন্ধও পাবে না। অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত প্রায় দুই বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক, বিদেশী, হিন্দু পুরোহিত, খ্রীস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে একই কায়দায় হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো এ ধরনের শক্ত মতামত এলো।

ফতোয়া প্রকাশ, পরিকল্পনা, কর্মসূচী ॥ সংবাদ সম্মেলনে ফতোয়া প্রকাশ করেন এক লাখ আলিম, মুফতি ও ইমামগণের ফতোয়া ও দস্তখত সংগ্রহ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল ওলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তিবাদী, উদার, সহিষ্ণু এবং অসাম্প্রদায়িক এক ভারসাম্যপূর্ণ সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। মহান রাব্বুল আলামীন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন সারা আলমের প্রতিটি বস্তুর জন্য রহমত এবং করুণার আধার হিসেবে। তাঁর এবং তাঁর সঙ্গী সাহাবীগণের জীবনে মানুষের প্রতি কল্যাণকামিতার ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় আজ কতিপয় দুষ্কৃতকারী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে মহাগ্রন্থ কোরান ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের নামে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষের চোখে ইসলামকে একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। এতে সরলমনা কেউ কেউ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে।

এই উগ্রজঙ্গীবাদীরা মূলত ইসলাম ও মুসলিমদেরই শত্রু নয়, মানবতারও শত্রু। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আফ্রিকার দেশসমূহ কিভাবে ছারখার হয়ে যাচ্ছে, তা আজ কারও অজানা নেই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ হুমকির সম্মুখীন। তাই বিষয়টি স্পষ্ট যে, এদের হৃদয় বৈকল্য বিদূরিত করা না গেলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এদের দমন করা সম্ভব নয়। কারণ এই সন্ত্রাসীরা তো ধর্মের নামে আত্মদানে প্রস্তুত। তাদের চৈতন্যের বিভ্রম দূর করা দরকার সবার আগে। ইসলামের সঠিক ও বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা তুলে ধরে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষে তা করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, আল্লাহপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণের বিপুল আগ্রহে মুফতিগণ, আলিম ওলামা ও আইম্মা কেরাম বিপুল ক্লেশ স্বীকার করে দুরূহ কাজটি সম্পন্ন করেন। কাজটি সহজ ছিল না। দস্তখতের জন্য আলিম, মুফতি ও ইমামগণের দ্বারে দ্বারে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব ও প্রভাব তুলে ধরতে হয়েছে। পরে দস্তখত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। আমরা তাদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করব তো দূরের কথা রাহা খরচটাও যথাযথ দিতে পারিনি। অনেক স্থানে তারা বিরূপ সমালোচনারও সম্মুখীন হয়েছেন। আল্লাহকে খুশি করতে, ইসলামের খাতিরে মানবতার খাতিরে অম্লান বদনে তারা সব সয়েছেন। এই সন্ত্রাসবিরোধী ফতোয়ার প্রধান দুটো বৈশিষ্ট্য হলো, জঙ্গীবাদীরা যে চেতনা থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সেগুলো অপনোদনের চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাখ্যাসহ সবিস্তার দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলা আলিম ও মুফতিগণেরও সমর্থন নেয়া হয়েছে। এটি আজ পর্যন্ত কোন ফতোয়ায় করা হয়েছে কিনা জানা নেই।

৩০ খণ্ডে ফতোয়া ও দস্তখতসমূহ গ্রন্থবদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মুফতি আলেম ইমামরা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো একটি কপি জাতিসংঘকে, একটি ওআইসিকে আরেকটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং আরেকটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তে অর্পণ করব। ইতোমধ্যেই এই ফতোয়ার একটা ইংরেজী, আরেকটা আরবি ভার্সনও প্রস্তুত করা হয়েছে। মুফতি, আলিম ও ইমামগণসহ নাগরিক সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরে আমরা বিপুল সমর্থন ও আগ্রহ দেখেছি। সকল পর্যবেক্ষক আমাদের উৎসাহিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের এই ব্যাখ্যা অবশ্যই বিরাট অবদান রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের মর্যাদা শীর্ষমার্গে নিয়ে যাবে। এ ধরনের বিরাট কাজ আজ পর্যন্ত পৃথিবীর আর কোথাও কখনও হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। গিনেস বুকের রেকর্ডস বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।

ইসলামী ব্যক্তিরা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফতোয়ার মূল অংশটি যদি পুস্তিকাকারে কোটিখানিক ছেপে সর্বত্র পৌঁছে দেয়া হয় তবে দেশ ও সমাজের অনেক বেশি লাভ হবে। অনেক বড় পুণ্যের কাজ হবে। এদিকে আহলে খায়ের ও সম্পদশালীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও কর্মসূচী নেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। এক মাস পর ফতোয়াটি প্রকাশের পর সমাজে এর কী প্রতিক্রিয়া হলো তা যাচাই করতে উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলায় জেলায় সম্মেলন করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। ট্রেনযাত্রা ও পথযাত্রারও চিন্তা আছে। গণমাধ্যমসমূহকে অনুরোধ করব প্রতিদিন এর কোন একটি উদ্ধৃতি প্রচার করতে।

আর বারবার প্রচার করতে, যা গণসচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। ফেসবুক, টুইটারসহ সবধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও কাজে লাগাতে হবে। এসব বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আশা করি।

বাধা জামায়াত-শিবির ॥ আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বিশাল এ কাজ করতে গিয়ে কিছু কিছু সমস্যার সম্মুখীন যে হতে হয়নি তা নয়। তিন শ্রেণী থেকে আমাদের বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছে। জামায়াত, শিবির ও জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী আমরা জেহাদের বিরুদ্ধে কাজ করছি এই অপবাদ তুলে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমসমূহে এরা নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। আরেক দল এমন যারা বিষয়টি সমর্থন করেছে কিন্তু জঙ্গীবাদের হামলার শিকার হওয়ার আতঙ্কে দস্তখত করতে চাননি।

আর এই আতঙ্ক তারা প্রচার করেছেন। আরেক শ্রেণী হলো হিংসুকদের। আল্লাহ পাক মেহেরবানী করে সব বাধা কাটিয়ে কাজটি অগ্রসর করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে ফতোয়ায় কি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ঠেকানো যাবে? আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই লক্ষ অস্ত্রের চেয়েও ফতোয়ার শক্তি অনেক ধারালো। মনো চেতনা মানব কর্মের মূল উৎস। সঠিক ফতোয়া সেই মনো চেতনাকে শুদ্ধ করে, আলোড়িত করে, মানবতাবাদী বানায়। মুসলিম সমাজে ফতোয়ার ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনস্বীকার্য। ধর্মের নামে সন্ত্রাস যারা করছে তারা বেহেশতলাভের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা করছে। এটা যে বেহেশতের নয় জাহান্নামের পথ তা যখন বুঝতে পারবে নিশ্চয় তারা এ পথে পা বাড়াবে না। সুতরাং মানবকল্যাণ ও শান্তির ফতোয়ার এই বারতা সন্ত্রাস পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও এতে যে তা বহুলাংশে হ্রাস পাবে তাতে সন্দেহ নেই। সন্ত্রাসের মদদদাতারা এতে হতোদ্যম হবে দ্বিধাহীনভাবে তা বলা যায়।

১০ প্রশ্ন, কি আছে ফতোয়ায় ॥ ফতোয়ায় স্বাক্ষরের জন্য ১০টি প্রশ্নের জবাবে ওলামায়ে কেরাম তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। একমত পোষণ করে ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেন। সন্ত্রাস ঠেকাতে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বক্তব্যের আলোকেই ফতোয়াগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রশ্ন ছিল- শান্তির ধর্ম ইসলাম কি সন্ত্রাস ও আতঙ্কবাদের কর্মকা-কে সমর্থন করে? নবী ও রাসূল বিশেষ করে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলাম কায়েম করার পথ কি হিংস্রতা ও বর্বর নির্মমতার অবস্থান ছিল? ইসলামে জিহাদ ও সন্ত্রাস কি একই বিষয়? জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের পথ কি বেহেশতের পথ না জাহান্নামের পথ? আত্মঘাতী মৃত্যু কি শহীদী মৃত্যু বলে গণ্য হবে? আত্মহত্যা ও আত্মঘাতের বিষয়ে ইসলামের মত কী? গণহত্যা কি ইসলামে বৈধ? শিশু, নারী, বৃদ্ধ নির্বিচারে হত্যা কি ইসলাম সমর্থন করে? ইবাদতরত মানুষ হত্যা করা কি ধরনের অপরাধ। এ ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে কর্তব্য কি না? সবশেষে আছে- গির্জা, মন্দির, প্যাগোডা ইত্যাদি অমুসলিম উপাসনালয়ে হামলা যায়েজ কি না?

লক্ষাধিক আলেম-ওলামার স্বাক্ষরিত ফতোয়ার মধ্যে সূচি, সহযোগী আলেমদের নামসহ ফতোয়া যুক্ত করা হয়েছে। ‘ইস্তিফতা ও এর উত্তর’ শীর্ষক অধ্যায় দিয়ে ফতোয়াটি দেয়া হয়েছে। সুরা তওবার কয়েকটি আয়াত এবং বুখারি ও মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি হাদিসকে প্রেক্ষিত ধরে ফতোয়ায় ১০টি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। ওই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই ইসলামের ব্যাখ্যা সংবলিত মূল ফতোয়াটি বর্ণিত হয়েছে। এরপর কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফের দলিলের ভিত্তিতে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। যেমন ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘জিহাদ ও সন্ত্রাস একই জিনিস নয়। জিহাদ হলো ইসলামের অন্যতম একটা নির্দেশ, পক্ষান্তরে সন্ত্রাস হলো হারাম ও অবৈধ।’ ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘আত্মহত্যা ও আত্মঘাত ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।’ ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘ইসলামে নিরাপরাধ মানুষদের গণহারে হত্যা বৈধ নয়। এমনকি সন্দেহের বশবর্তী হয়েও কাউকে হত্যা করা নিষেধ।’

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে বলা আছে, ‘মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমকে যদি কেউ হত্যা করে সে বেহেশতের গন্ধও পাবে না। অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও অবৈধ। এটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ ধারাবাহিকভাবেই এভাবে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে কোরআন শরিফের আয়াত ও হাদিস দিয়ে।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই লাখো অস্ত্রের চেয়েও ফতোয়া অনেক শক্তিশালী, অনেক ধারালো। সঠিক ফতোয়া মনোজাগতিক চেতনাকে শুদ্ধ করে, আলোড়িত করে এবং মানবতাবাদী বানায়।

৩২ পৃষ্ঠার ফতোয়াটির ‘প্রসঙ্গকথায়’ ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ লিখেছেন, ‘মানবকল্যাণ ও শান্তির ফতোয়ার এই বারতা সন্ত্রাস পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও এতে যে বহুলাংশে হ্রাস পাবে তাতে সন্দেহ নেই। সন্ত্রাসের মদদদাতারা এতে হতোদ্যম হবে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়।’ শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম বলছিলেন, ‘যারা ধর্মের নামে হত্যা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাস করছেন তারা সঠিক কাজ করছেন না। ইসলাম ধর্মে হত্যাকে কোনভাবে সমর্থন করে না।

আছেন নারী আলেমা ও মুফতি ॥ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত লাখো আলেমের ফতোয়ায় অংশ নিয়েছেন নারী আলেমরাও। দেশের ৯ হাজার ৩২০ জন নারী আলেমা স্বাক্ষর করেছেন জঙ্গীবাদবিরোধী ফতোয়ায়। ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশে মহিলাগণের মাঝেও বিপুলসংখ্যক আলিম ও মুফতির আবির্ভাব ঘটেছে। এই ফতোয়ায় মহিলা আলিম ও মুফতিগণেরও দস্তখত নেয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বেশ সাড়াও পাওয়া গেছে। বর্তমান বিশ্বে এটা একটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নয়া সংযোজন।

৮ thoughts on “ধর্মের নামে সন্ত্রাসকারী, জঙ্গী, গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম

  1. আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
    আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ঘোষণা দিয়েছেন- ধর্মের নামে সন্ত্রাসকারী, জঙ্গী, গুপ্তহত্যাকারীদের জানাজা পড়াও হারাম। ইসলাম এদের কখনই শহীদের মর্যাদা দেয় না। বরং যারা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মারা যাবেন তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন। অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের বিশিষ্ট মুফতি, আলেম ও ইমামরা এই বলে ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইসলামের নাম ব্যবহার করে কতিপয় সন্ত্রাসীগোষ্ঠী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে মহাগ্রন্থ কোরান ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এরা ইসলামের কেউ নয়। এরা ইসলামের শত্রু। মানুষের চোখে ইসলামকে এরা একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। জিহাদ ও সন্ত্রাস একই জিনিস নয়। জঙ্গীদের অনেকেই ‘জিহাদী’ বললেও তারা আসলে সন্ত্রাসী। ইসলাম সন্ত্রাস সমর্থন করে না। আর যারা বেহেশত পাওয়ার আশায় আত্মঘাতী হামলা করছে, বলছে মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী, তারা কোরান ও হাদিসের আলোকে বেহেশত পাবে না। তাদের স্থান নিশ্চিত দোজখে। ‘মুসলিম সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমকে যদি কেউ হত্যা করে, সে বেহেশতের গন্ধও পাবে না। অমুসলিমদের গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ইত্যাদি উপাসনালয়ে হামলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত প্রায় দুই বছরে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক, বিদেশী, হিন্দু পুরোহিত, খ্রীস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে একই কায়দায় হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো এ ধরনের শক্ত মতামত এলো।

  2. ৩০ খণ্ডে ফতোয়া ও দস্তখতসমূহ
    ৩০ খণ্ডে ফতোয়া ও দস্তখতসমূহ গ্রন্থবদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মুফতি আলেম ইমামরা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো একটি কপি জাতিসংঘকে, একটি ওআইসিকে আরেকটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং আরেকটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তে অর্পণ করব। ইতোমধ্যেই এই ফতোয়ার একটা ইংরেজী, আরেকটা আরবি ভার্সনও প্রস্তুত করা হয়েছে।

  3. ঠিক একই ভাবে ভ্যাটিক্যানের
    ঠিক একই ভাবে ভ্যাটিক্যানের পোপদের উচিত হবে সম্রাজ্যবাদের নামে খৃষ্টান আর ইহুদী দেশগুলোর অস্ত্র ব্যাবসা, দেশ দখল, তেল চুরী, লাখ লাখ নারী-শিশু হত্যা ইত্যাদি যে খৃষ্টান আর ইহুদী ধর্ম সমর্থন করে না সেটা ফতওয়া দেয়া। পশ্চিমা দেশগুলো সারা পৃথিবীতে যেভাবে অস্ত্রব্যাবসা আর হত্যা- লুন্ঠন অব্যাহত রেখেছে তাতে পৃথিবীর মানূষের যে ভোগান্তি সেটা ইসলামী সন্ত্রাসের চাইতে লাখো গুনে বেশী।

  4. ফরিদ উদ্দিন মাসউড কি নতুন
    ফরিদ উদ্দিন মাসউড কি নতুন ধরনের কোন ইসলাম আবিস্কার করল ? ইসলাম ও সন্ত্রাস একই জিনিস। ইসলাম থেকে সন্ত্রাস বাদ দিলে আর ইসলাম থাকে না। কোরান ও হাদিস সেটাই বলে। যেমন –
    —————————————————————————————-
    সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
    ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।
    ———————————————————————————-
    সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
    আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।
    ——————————————————————————–
    সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
    আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।
    ———————————————————————————-
    সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ২ :: হাদিস ২৪:
    আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (র) ………… ইব্‌ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্(সা) আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর ন্যস্ত।
    ———————————————————————————-
    এই দেশের জিহাদী জনতা একদিন ইসলাম বিরোধী কথা বলার জন্যে এই ফরিদ উদ্দিন মাসউদ – এর বিচার করবে। তখন তাকে গলায় রশি বেধে সর্বত্র ঘুরান হবে , আর তারপর এই জিহাদী জনতা তার কল্লা কাটবে।

    1. সরকার অনুমোদন দিলেই ফতওয়াটি
      সরকার অনুমোদন দিলেই ফতওয়াটি আইনগতভাবে সিদ্ধ হয়ে যাবে। এতে আল কোরআন, হাদিস এবং ইসলামের বিভিন্ন দলিলের আলোকে ফতওয়াটির যুক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। দয়া করে সংগ্রহ করে পড়ে নিবেন। খুব শীঘ্রই বিভিন্ন লাইব্রেরীতে পাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *