প্রথম আলো ভণ্ডামির অপর নাম

ভণ্ডামিতে কারো পক্ষে প্রথম আলোকে হারানো অসম্ভব। পরিস্থিতি অনুযায়ী মুখোশ পরিবর্তন করতে তাদের জুড়ি মেলা ভার। তত্ত্বাবধায়কের সময় দেখেছিলাম প্রথম আলোকে সামরিক শাসকের মুখপাত্রে পরিণত হতে, মাইনাস টু এর পক্ষে সাফাই গাইতে। মৌলবাদীদের নিকট মাথানত করাসহ পরবর্তীকালে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বি-চারিতার অনন্য নজির স্থাপন করতে দেখেছি প্রথম আলোকে। তাদের শ্লোগান হচ্ছে ‘বদলে যাও, বদলে দাও’, তারা প্রতিনিয়ত বদলে যায় বটে তবে সে বদল কোন শুভবোধের দিকে নয়, সুবিধাবাদের দিকে।

সর্বশেষ মেরিল- প্রথম আলো অনুষ্ঠান নিয়ে তারা ভণ্ডামির চূড়ান্ত করেছে। এরকম সময়ে এধরনের নাচাগানা অনুষ্ঠান আয়োজন কোন সুস্থ, বিবেকবান মানুষের পক্ষে সম্ভব না। অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে সমালোচনার মুখে পরলে তারা ভোল পাল্টে নাম দিয়েছে ‘কনসার্ট ফর সাভার’, এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টাকা তুলছে, হেন-তেন ইত্যাদি। এরকম বিভিন্ন ইভেন্টের ক্ষেত্রে টাকা তুলে সাহায্য করার বিষয়টিও তাদের ভণ্ডামির একটি অংশ। সাধারণ মানুষের কাছ হতে টাকা তুলে এসব ইভেন্ট আয়োজন করে এবং নিজেরা বাহবা কুড়ায়। অথচ এই পত্রিকাটির কমপক্ষে ৫০ শতাংশ প্রতিদিন বিজ্ঞাপনে পূর্ণ থাকে, তাদের নিজস্ব তহবিল হতে ফান্ড দিতে তো দেখি না। লায়ন- রোটারির অভিজ্ঞতা হতে জানি, এসব ক্ষেত্রে ৪০ ভাগও প্রকৃত দুর্গতদের হাতে পৌঁছায় না, ৬০ শতাংশের অধিক ব্যায় হয় ভুগি-চুগিতে।

প্রথম আলোর একটি প্রধান এজেন্ডা হল বিরাজনীতিকরণ ভাবধারার প্রচার, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ‘ডিজুস’ জেনারেশন তৈরির কারিগরও প্রথম আলো। তারা খুব সুক্ষভাবে রাজনীতিবিদদের চরিত্রহননের কাজটি করে থাকে। স্বীকার করছি, এদেশের রাজনীতি নষ্ট, কিন্তু এই নষ্ট রাজনীতির বিকল্প বিরাজনীতিকরণ কিংবা সামরিকতন্ত্র নয়। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিকাশে কাজ করাও একটি দায়িত্ববান গণমাধ্যমের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। যেনতেনভাবে কাটতি বাড়ানো কোন পত্রিকার উদ্দেশ্য হতে পারে না, এখানেই আলু-পটল ব্যবসায়ী আর পত্রিকা ব্যবসায়ী’র মধ্যে পার্থক্য।

আবারো সামরিক তত্ত্বাবধায়কের আমলে ফেরা যাক, দেশে তখন সকল রাজনৈতিকদলের কর্মকাণ্ড বন্ধ, প্রথম আলো সমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দলের বিশেধাগারে ব্যস্ত। কিন্তু এর মধ্যে ডঃ ইউনূস ‘নাগরিক শক্তি’ গঠন করলে প্রথম আলো সুশীলতার নামে নাগরিক শক্তির নামে প্রপাগন্ডা ঠিকই চালিয়ে যায়। আবার নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলে ভোল পাল্টাতে এক মুহূর্তও সময় অপচয় করে না প্রথম আলো।

প্রকৃতপক্ষে প্রথম আলো প্রগতিশীলতার নাম ভাঙিয়ে গনবিচ্ছিন্ন সুশীলদের একধরনের এলিট শাসন ব্যাবস্থা কায়েম করতে চায়। এরা ক্ষমতা চায় কিন্তু জনগণের কাছে গিয়ে তাদের মেন্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসার কষ্টকর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা, সততা কিংবা ক্ষমতা নায়। এই সুশীলদের অধিকাংশই এনজিও ব্যবসায়ী, কেউ কেউ আবার বুদ্ধি ব্যবসায়ী।

প্রথম আলোর এসব দ্বি-চারিতা এবং ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সাবধান হওয়ার সময় এসেছে।

২ thoughts on “প্রথম আলো ভণ্ডামির অপর নাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *