গণগ্রেফতারে দেশের জঙ্গি দমন হবে নাকি জঙ্গি তৎপরতা ব‍্যাপক বৃদ্ধি পাবে?

দেশব‍্যাপি পুলিশের চলমান জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানে তৃতীয় দিন শেষে গ্রেফতার ছাড়িয়ে গেল সাড়ে আট হাজার। এই গ্রেফতার দিন শেষে পুলিশের আটক বাণিজ্য ব‍্যতিত কিছু নয় তা দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই গণগ্রেফতারে দেশের জঙ্গি দমন হবে নাকি জঙ্গি তৎপরতা ব‍্যাপক বৃদ্ধি পাবে? সাদা ছোখে দেখলে মনে হবে সরকার এত দিনে কাজের কাজ করেছে বাহ শেখের বেটির প্রশংসা না করে উপায় নাই।কিন্তু একটু বিশ্লেষণ করলেই উঠে আসবে তার পিছনের মূল রহস‍্য! হাজার হাজার গ্রেফতারের
মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজনের সাথে মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠনের
সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ায় এইক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতাও চোখে পরার মতো। আর
এতো ঘটা করে অভিযান শুরু হতে না হতেই আরেকজন পুরোহিতের হত্যাকান্ড এও
প্রমান করে যে খুনিরা ধরা ছোয়ার বাইরেই শুধু নাই, নির্ভয়ে আছে।
গণগ্রেফতার, নিরপরাধদের গ্রেফতার, নির্যাতন ইত্যাদি বাংলাদেশের বর্তমান জঙ্গী
সমস্যা তৈড়িতে ভুমিকা রেখেছে। জেলখানা কম রেডিকাল বা নন-রেডিকালদেরকে
আরো বেশি রেডিকাল করে তোলে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের
কর্মী অথবা কোন আইডিওলজির অনুসারি না এমন অপরাধীদের সাথে সন্ত্রাসবাদী
ইসলামপন্থীদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার জন্যেও জেলখানা একটি উৎকৃষ্ট জায়গা।
ইরাকে আইসিসের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জেলখানা যে কেন্দ্রীয় ভুমিকা পালন
করেছে তার প্রমান আছে।আর এই বিশেষ অভিযান কেন্দ্র করে অনলাইনে মৌলবাদী জঙ্গিদের তৎপরতা ছোখে পড়ার মত।তারা নানা দেশের ছবি এডিট করে এই পবিত্র রমজানে এ দেশের মুসলমানদের উপর ব‍্যাপক নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রচার করছে।আর কোন রকম তথ‍্যের উৎস সন্ধান না করেই মুমিনবান্দারা ব‍্যাপক প্রচারের নামার মধ‍্যে দিয়ে দেশের আগামী দিনের জঙ্গি তৈরির পথ প্রস্তুত করে দিতেছে।
জঙ্গীবাদের যে পলেটিকাল ইকোনমি বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে তাতে রমজান ও
ঈদের এই মৌসুমটি জঙ্গী ও পুলিশ, উভয়ের জন্যেই ভালো ব্যবসায়ের মৌসুম বটে।
বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্যে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর চাইতে বেশি কোন
মোসাদেরতো দরকার দেখছি না।
তথ‍্যসৃত্র–
প্রথমআলো
পারভেজ আলমের ব্লক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *