আর দেয়ালে পিঠ ঠেকাবো না, এবার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবো

সময় এক অসহ্য রূপ নিয়ে এসেছে। দুর্বিষহ ভয়াবহ নিদারুণ কঠোর পরীক্ষা নিচ্ছে সময়। ২০১৩ হয়তো সময়ের সবচেয়ে কঠিন রূপ প্রদর্শন করছে। প্রতিদিনের সূর্য উঠে নতুন নতুন বিভীষিকা নিয়ে। সাধের লাল সবুজ প্রতিদিন যেন মানুষের লাল রক্তে স্নানে রক্তিম হওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকে।

এক একটি নতুন দিন হয়তো অনেক স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়, প্রতিদিন হয়তো মানুষ নতুন কিছু আশা নিয়ে জেগে উঠে, নতুন কোন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে চায়, অথবা পুরাতন দুঃখকে জিইয়ে রেখে অভ্যস্ত জীবন ধারায় ভাবলেশহীন ভাবে বেঁচে থাকে। তবুও বেঁচে তো থাকে।

কিন্তু কিছু ঘটনা, কিছু দুর্ঘটনা, কিছু হত্যা মানুষের চিরাচরিত জীবনধারাকে আমূল পরিবর্তন করে দেয়। অভ্যাসবশত জীবনধারার প্রতিটি ক্ষণ তখন তুলনাহীন যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। বেঁচে থাকা, শুধুই বেঁচে থাকার করুণ আর্তনাদ বাতাসকে ভারী করে তোলে। পরিবেশকে ভয়ার্ত করে তোলে। অকল্পনীয় কিছু দৃশ্য নিঃশ্বাসকে বন্ধ করে দেয়। ক্ষুদ্রের নির্মম মৃত্যু বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিন্তু উত্তর কারো জানা নেই।

২৩৩+ জন মানুষ আজ শুধু লাশ হয়ে পড়ে আছে। তাদের স্বজনরা আজ জীবন্ত লাশে পরিণত হচ্ছে। হাহাকার আর আজীবন দুর্বিষহ যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা ছাড়া আজ তাদের কিছুই নেই।

সমবেদনা, শোক, তদন্ত এই শব্দগুলো আজ চূড়ান্ত রকমের অর্থহীন, এবং লজ্জাজনক। কেন সমবেদনা জানাবে, শোক দিবস ঘোষণা করা হবে, কেন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে? দিনের পর দিন আমরা এই অর্থহীন অপমানজনক সমবেদনা দেখেছি, শোক দিবস পালন করেছি, তদন্ত কমিটির অসমাপ্ত ছেলেখেলা দেখেছি। কোন অধিকারে আজ সেখানে প্রশাসনের কর্তারা যাচ্ছে? বাতাস আজ যেখানে নোনা জলে আর তারস্বরের আর্তনাদে ভারী হচ্ছে, লাশের সারি যেখানে ধরিত্রীকে লজ্জায় ফেলছে সেখানে কেন কোন অভিনেতারা যাবে তাদের অভিনয়ের সুনিপুণ কলাকৌশল দেখাতে?

অনেকবার তো গিয়েছে, অনেক অভিনয় দেখিয়েছে, অনেক হম্বিতম্বি করেছে, “আসল দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে” শুনতে শুনতে আজ এই বাক্যটির প্রতি চরম ঘৃণা জন্মেছে।
এদের অভিনয় যেমন আজ শুরু হয় নি তেমনি লাশের সারি আজ থেকেও শুরু হয় নি।

২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশন হাউসে ১৫০ জন লাশ। জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়ে পরিসমাপ্তি। তখনও তদন্ত কমিটি হয়েছিলো। প্রশাসনের অনেক ওয়াদা আমরা মঞ্চের অন্ধকার সারির দর্শকের মতো হজম করেছি।
চট্টগ্রামে বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ভেঙে ১৫জন লাশে পরিণত হয়। সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।

  • ১৯৯৭ সালে কলাবাগানে ভবন ধ্বসে মারা যায় ৭ জন। সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।
  • ২০০৪ সালে শাঁখারিবাজারে ভবন ধ্বসে প্রাণ যায় ১৭ জনের। সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।
  • ২০০৫ সালে সাভারে স্পেকট্রাম গার্মেন্টসে ৩৮ জন প্রাণ হারায় । সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।
  • ২০১০ সালে তেজগাঁওয়ে ভবন ধ্বসে লাশ হয় শিশুসহ ২৫ জন। সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।
  • ২০১০ সালে নীমতলীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে প্রাণ যায় ১২৪ জন মানুষের। সেখানেও ছিল তদন্ত কমিটি আর তার অসমাপ্ত ছেলেখেলা। ছিল প্রশাসনের অনেক আশার বাণী।

মানুষের জীবনই বাংলাদেশে সবচেয়ে সস্তা। এবং সে যদি হয় গরীব তবে তো মূল্যহীন। বিত্তশালীদের কাছে এইসব খেঁটে খাওয়া মানুষের জীবনের মূল্য তাদের বাসায় পালিত বিড়ালের চেয়েও খুবই নিম্নমানের। তাই একের পর এক হত্যা তারা ঘটিয়ে যায় আর টাকার দাপটে থেকে যায় আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার কারা এর পিছনে । কাদের অর্থ লোভের কারণে অকারণে নিরাপরাধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ নিমিষেই থেমে যায়। সেই অর্থ লোভী পিশাচ জানোয়ার বেজন্মাদের রক্ষার জন্য আমাদের প্রশাসন কুকুরের মতো লেজ নাড়িয়ে তাদের আগে পিছে ঘুরে। তাদের পা চাঁটার জন্য সদা ব্যগ্র এই বিবেকহীন নপুংসক পকেট ভারী করার জন্য নিরীহ মানুষের আর্তনাদকে উপেক্ষা করে আমাদের সামনে তুলে ধরে তদন্ত নামের ভুয়া নথিপত্র। যা ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলার যোগ্য।

প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় আমি অনেক দলবদ্ধ হাস্য উজ্জ্বল মেয়েদের দেখি। যারা হাতের নিপুণ গাঁথুনি দিয়ে সাজিয়ে তুলে এক একটি পোশাক । যা আমাদের এনে দেয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। আমাদের অর্থনীতির মূল ভীত এই তৈরি পোশাক শিল্প থেকে আসা বৈদেশিক অর্থ। অথচ যারা আমাদের অর্থনীতির ভীতকে ধরে রেখেছে তারাই পায় সবচেয়ে কম পারিশ্রমিক। নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়ে নিজের মা বাবা স্ত্রীকে খাইয়ে , ভাই বোন সন্তানদের পড়ালেখা শিখিয়ে স্বাধীন দেশে মানুষের মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারটুকুই তারা চায়।
কিন্তু চাইলেই তো ওদেরকে তা দেওয়া হচ্ছে না। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা তাদের কাছে সোনার হরিণ। জীবিত বাসা থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে হয়। হাস্য উজ্জ্বল মানুষটি নিথর হয়ে পড়ে থাকে কিছু নরপশুদের লালসার জন্য।

যদি হিসেব চাওয়া হয় আর কতো বড় লাশের স্তূপ দেখলে তোদের লালসা মিটবে, আর কতো কান্নার আহাজারি শুনলে তোদের মন ভরবে? এর উত্তর হবে অসংখ্য লাশ চাই, অসমাপ্ত কান্নার আহাজারি চাই। টাকার গন্ধ যে লাশের গন্ধের চেয়েও চমৎকার, আকর্ষণীয়। আর বিবেক ? সেতো কতো আগেই দু টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছি!

কিন্তু আমরা তো বিক্রি করি নি। আমরা যারা ধারণ করি বুকের মাঝে লাল সবুজকে , স্বাধীন দেশের স্বাধীনতাকে, সবচেয়ে অমূল্য বলে যাকে জানি সেই পরিশ্রমী মানুষের জীবনকে, তারা কেন চুপ করে বসে থাকবো। অসংখ্য অপরাধ বোধ দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। অসংখ্যবার ফেসবুকে লাইক আর স্ট্যাটাস দিয়ে শেষ করে দিয়েছে প্রতিবাদের ভাষা। কিন্তু আজ সেই ফেসবুক ব্লগই আমাদের আবার জাগিয়ে তুলেছে। আমরা বছরের পর বছর ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি। আজ জেগে উঠেছি। বিনোদনের একটি মাধ্যম বলে যাকে জানতাম এতদিন সেই ফেসবুক থেকেই কিন্তু আমরা শুরু করেছিলাম আমাদের গণজাগরণ মঞ্চ। অক্লান্ত ভাবে আজও আমরা লড়ে যাচ্ছি। তবে আজ আমার দেশের মেহনতি মানুষকে যখন আবর্জনা মনে করে আস্তাকুরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে কেন আমরা চুপ থাকবো? আমার দেশ চলবে এই আবর্জনা তুল্য মানুষ দিয়েই, নরপশু বেজন্মা অর্থলোভী পিচাশ দিয়ে নয়। একটি পোস্ট , একটি ইভেন্ট দিয়ে যদি লাখো মানুষের সমাগম হতে পারে যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির দাবীতে তবে এই লাখো মানুষই পারে এই অসংখ্য নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমরা সেটা প্রমাণ করেছি। আমরা ছুটে গিয়েছি। নিজের শরীরের অমূল্য রক্ত দিয়ে আমরা হাজার প্রাণ বাঁচানোর জন্য এক মুহূর্তও চিন্তা করি নি।

কিন্তু যাদের প্রাণ বাঁচিয়েছি, এবং যাদের বাঁচাতে পারি নি তাদের পাশে থাকাই এখন সব চেয়ে বড় দায়িত্ব। একটি মৃত্যু শুধু একটি মানুষকে নিঃস্ব করে নি, নিঃস্ব করেছে তার পরিবারকে। সরকার আর প্রশাসনের অপমানজনক ৩০০০ বা ১০০০০ বা ২০০০০ টাকার অনুদান তাদের স্বাভাবিক জীবনের ফিরিয়ে আনতে পারবে না। ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেট জুড়ে সারা বাংলাদেশে লাখো মানুষ যারা জড়ো হয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চে তারা যদি কমপক্ষে সর্বনিম্ম আর্থিক সহযোগিতা করেন তবে এই নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবার গুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। একবার এক প্যাকেট বেন্সেন না কিনে, মোবাইলে কিছু কম টাকা রিচার্জ করে, একটি জামা এই মাসে না কিনে, দামি রেস্তোরাঁয় এক বার না খেয়ে, প্রিয় মানুষটির জন্য এইবার উপহার না কিনে ওই নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে দিয়ে আসি। শরীরের রক্ত যদি দিতে পারি তবে পকেটের সামান্য কিছু টাকা দিয়ে আমরা রক্ষা করতে পারি হাজার পরিবারকে। গণজাগরণ মঞ্চের সবাই যদি খুব সামান্য করে হলেও অর্থ দান করেন তবে এর পরিমাণ হবে বিশাল। যা আমার দেশের মর্যাদা রক্ষা করবে।

ওই প্রাণহীন নিথর দেহের মৃত্যুর আগ মুহূর্তের চিৎকার আজ অপমান হয়ে কানে বাজে, তাদের নির্মম হত্যা ধিক্কার হয়ে অভিশাপ দিচ্ছে , এর জন্যই কি স্বাধীন করেছিলো আমাদের দেশকে ওই ৩০ লাখ শহীদ?
অনেক ধাক্কায় পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আজ যদি ধাক্কাকেই ধাক্কা দিয়ে সামনে না যাই তবে শেষপর্যন্ত নিজেকেও দেয়ালের ভিতরে সঁপে দিতে হবে। কিন্তু না , আজ আমরা সামনে যাবো। মেরুদণ্ডকে সোজা করে ওই হাড্ডি ভেঙে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াবো। প্রমাণ করবো আমরা মানুষ , আমাদের বিবেক আছে, যা ওই নষ্ট ভ্রষ্ট অর্থলোভী হায়েনাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

১১ thoughts on “আর দেয়ালে পিঠ ঠেকাবো না, এবার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবো

  1. এই দেশে সবচেয়ে বড় তামাশা
    এই দেশে সবচেয়ে বড় তামাশা হচ্ছে- রাষ্ট্র আর কিছু না পারুক তদন্ত কমিটি তৈরি করতে সময় লাগে না। রেডিমেড তৈরিই থাকে। কারন দুইদিন বাদে সবাই সবকিছু ভুলে যাই। তদন্ত কমিটিও কর্পুরের মতন উবে যায়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এভাবে অপমৃত্যু যে কোন সময় আমার আপনারও হতে পারে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে।

  2. জাতীয় শোক চাই না , শোকের নাম
    জাতীয় শোক চাই না , শোকের নাম ভন্ডামিও চাইনা…চাই জাতীয় শুদ্ধি ,সুবিচার ! বাধ্য করার দিন এসে গেছে , হয় এখনি নয় কখনই না |

  3. স্বজনহারাদের আর্তনাদ আকাশে
    স্বজনহারাদের আর্তনাদ আকাশে বাতাসে বিলীন হয়ে যায়, শ্রমিক এর এহেন মুল্যায়ন সমগ্র জাতির জন্য অভিশাপ, এই দায় আমাদের সবার। আমাদের নিস্পৃহতাই বারবার পুজির দালাল দের সুযোগ করে দেয় মেহনতি মানুষদের ধংসস্তুপে পিষ্ট করার। ন্যায্য বিচার চাই।

  4. ” ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেট জুড়ে
    ” ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেট জুড়ে সারা বাংলাদেশে লাখো মানুষ যারা জড়ো হয়েছিলেন গণজাগরণ মঞ্চে তারা যদি কমপক্ষে সর্বনিম্ম আর্থিক সহযোগিতা করেন তবে এই নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবার গুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে। একবার এক প্যাকেট বেন্সেন না কিনে, মোবাইলে কিছু কম টাকা রিচার্জ করে, একটি জামা এই মাসে না কিনে, দামি রেস্তোরাঁয় এক বার না খেয়ে, প্রিয় মানুষটির জন্য এইবার উপহার না কিনে ওই নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষগুলোকে দিয়ে আসি। শরীরের রক্ত যদি দিতে পারি তবে পকেটের সামান্য কিছু টাকা দিয়ে আমরা রক্ষা করতে পারি হাজার পরিবারকে। গণজাগরণ মঞ্চের সবাই যদি খুব সামান্য করে হলেও অর্থ দান করেন তবে এর পরিমাণ হবে বিশাল। যা আমার দেশের মর্যাদা রক্ষা করবে। ”

    ———- আসুন সাহায্য ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসি ।
    ” প্রাণে প্রাণ মেলাবোই বলে রাখি ”

    1. সেই আবেদন জানাচ্ছি সবার কাছে।
      সেই আবেদন জানাচ্ছি সবার কাছে। যতগুলো গণজাগরণ মঞ্চ আছে ওখান থেকে এমন কোন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে অর্থসাহায্য সঠিক জায়গায় পৌঁছাবে।

  5. আতিক ভাই ঠিকই বলেছেন। এদেশের
    আতিক ভাই ঠিকই বলেছেন। এদেশের সরকার আর কিছু পারুক না পারুক তদন্ত কমিটি গঠনে ওস্তাদ। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত ভবন বিদ্ধস্তের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে গতকাল ২৪ এপ্রিলের ভবন বিদ্ধস্ত স্মরনকালের সেরা ভয়াবহ দূর্ঘটনার তালিকায় তার নামলেখা হয়ে গেছে। সাথে সাথে সেরা লাশের মিছিল। মনে হচ্ছে নদী থেকে জাল ফেলে টুকরি ভরে যেভাবে মাছ তুলে আনা হয় ঠিক সে রকম। ১৯৯৭ সাল ২০১০ সাল পর্যন্ত ভবন বিদ্ধস্তের যতগুলা ঘটনা ঘটেছে মামলা করা হলেও তার একটারও সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়নি। হয়েছে শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা।

    ঘটনাস্থল থেকে ভবনের মালিক স্থানীয় যুবলীগ নেতা রানা স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় কিভাবে পালিয়ে যায়? ভবনের মালিককে অনুমোদন না দেওয়া সত্ত্বেও কিভাবে সে অনুমোদন বিহীন অতিরিক্ত ফ্লোর তৈরি করে ? রাজউক কর্তৃপক্ষ কেন ভবন নির্মানের সময় তদারকী করেনি? আর যখন নির্মান হয়েই গেছে এরপর কেন রাজউক কর্তৃপক্ষ এটাকে অবৈধ ঘোষনা করে ভবনটি সীলগালা করেনি? কেন প্রশাসন ও বিজিএমইএ এই উক্ত ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বে সতর্কতামূলক ব্যভস্থা গ্রহন করেনি? কিভাবে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দিনের পর দিন এসব অবৈধ কার্যক্রম চলছে? ২৩ তারিখ ভবনে ফাটল দেখা দিলে সেখানে কর্মরত শ্রমীকরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করায় অসম্মতি জানালে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ তারপরও কেন ২৪ তারিখ শ্রমিকদের জোর পূর্বক কারাখানায় কাজ করাতে বাধ্য করে? এসব প্রশ্নের উত্তর কে দিবে ? দূর্ঘটনার কবলে পরে প্রান হারানো এবং আহত পরিবার গুলোর সামনের অবস্থা কি হবে ? এসবের উত্তর কি আছে নীতি নির্ধারকের কাছে ? নেই। পারবে শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করতে। আজ যদি সরকার মহলের বা সরকারের নীতি নির্ধারকদের পরিবারের কারো এ অবস্থা হতো তাহলে তারা বুঝতো এইরক ভাবে স্বজন হারানোর বেদনা কি।
    এই ঘটনায় দোষীদের বের করে উপযুক্ত শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

    1. এদের তো অনুভূতি শক্তি নেই।
      এদের তো অনুভূতি শক্তি নেই। এদের শুধু একটাই অনুভূতি টাকানুভূতি। টাকার জন্য এরা দেশকে বিক্রি করতে প্রস্তুত। টাকার নেশায়, মদের নেশায় এরা কি বলছে সেই বোধশক্তি পর্যন্ত নেই। “পিলার নিয়ে টানাটানি করার কারণে ভবন ধ্বস”। যদি ক্ষমতা থাকতো তবে এদেরকে এভাবে চাপা দিয়ে মারতাম।

  6. অনেক ধাক্কায় পিঠ আজ দেয়ালে

    অনেক ধাক্কায় পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আজ যদি ধাক্কাকেই ধাক্কা দিয়ে সামনে না যাই তবে শেষপর্যন্ত নিজেকেও দেয়ালের ভিতরে সঁপে দিতে হবে। কিন্তু না , আজ আমরা সামনে যাবো। মেরুদণ্ডকে সোজা করে ওই হাড্ডি ভেঙে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াবো। প্রমাণ করবো আমরা মানুষ , আমাদের বিবেক আছে, যা ওই নষ্ট ভ্রষ্ট অর্থলোভী হায়েনাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

    —- :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *