প্রেমপত্র-৭৫

মেঘলা মেয়ে,
দখিনা আকাশে কালো মেঘ ছড়িয়ে অঝর ধারায় বৃষ্টি আসবে এক সন্ধ্যায় ।আমি রিক্সায়,বৃষ্টির ছাট এসে পড়ছে চোখে মুখে রিক্সার হুট তুলিনি ।
টি এস সির পাশ দিয়ে যখন রিক্সা যাবে তখন গাছের পাতা আর বৃষ্টির শব্দ মিলে অপরূপ সুরের ঝঙ্কার সৃষ্টি করবে সেই সুরে তাল মিলিয়ে
তোমার কন্ঠের গান হবে।আমাদের মাঝে শত অমিল হতে পারে,সব কিছুই পন্ড সহস্র গড়মিল তোমার প্রিয় শুভ্র পাহাড় উচ্চ শিলার আস্তরণ,
আমার প্রিয় সবুজ সৈকত অশ্রুর লবনাক্ত জল।কত সহস্র দুরত্ব কিমবা হতে পারে কত শত ঝগড়া আর কত বিবাদ।শুধু মিল ছিল এটুকুই না হয় হবে খোলা রিক্সায় ভ্রমন প্রিয় বৃষ্টি আর বেসুরো গান ।
সন্ধ্যায় বৃষ্টি এলে খোলা রিক্সায় বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে তোমার কন্ঠের গান‍‍”ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসিএই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাঁজায় বাঁশি”পাগলী চলো ঠোঁটে ঠোঁট রেখে শীতলতা খুঁজি,বৃষ্টির জলে দুজনে ভিজি।তুমিতো জানোনা তুমি আমার মতো পাগল জীবনেও দেখনি।
বিশুদ্ধ ফরমালিন ছাড়া নিভেজাল পাগল আমি তোমার ভীত চাহুনী এই দুচোখে গেঁথে রাখব,যেখানে ছিলাম আমি সেখানে দাড়িয়েই তোমার জন্য অপেক্ষা করবো,আজীবন……….শুধু শুদ্ধ বৃষ্টিতে ভেজার জন্যে।
বুঝলে,তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠিকতোবার দ্বারস্ত হয়েছি আমি
গীতিকবিতার,কতোদিন মুখস্ত করেছি এই নদীর কল্লোল।কান পেতে শুনেছি ঝর্ণার গান,বনে বনে ঘুরে আহরণ করেছি পাখির শিস্। উদ্ভিদের কাছে নিয়েছি শব্দের পাঠ;তোমাকে লিখবো বলে একখানি চিঠি সংগ্রহ করেছি আমি ভোরের শিশির,তোমাকে লেখার মতো প্রাঞ্জল ভাষার জন্য
সবুজ বৃক্ষের কাছে জোড়হাতে দাঁড়িয়েছি আমি-ঘুরে ঘুরে গুহাগাত্র থেকে নিবিড় উদ্ধৃতি সব করেছি চয়ন;তোমাকে লিখবো বলে জীবনের গূঢ়তম চিঠি হাজার বছর দেখো কেমন রেখেছি খুলে বুক।
ঠিক এমন একটা বৃষ্টি ভেজা পরী দরকার । যার সাথে ভিজতে ভিজতে জ্বর বাঁধায় ফেলব কিন্তু তবুও মানুষটা পাশে থাকবে পারাসিটামল হাতে।যেমনটা চাই ঠিক তেমনটাই তুমি।কারন তোমাকে যতবার দেখি-তার চেয়েও বেশি দেখি,যখন তোমায় না দেখি মনের অগোচরে করে যাই আঁকাআঁকি,অসাড় হয়ে পড়ে থাকি-একাকি।শুধু তুমি ছুঁয়ে থাকো আলতো করে,ভুলে যাওয়া আমার আমিকে কত সহজেইমস্তিষ্কের অনুরণে, ক্ষণে ক্ষণে লাগে দোলা,নিশ্চুপ অনলে পুড়ে যাওয়া কত সহজেই।
পাগলী পরী,এমন অনেক সকাল আছে,যে সকালে সূর্য ঢাকা পড়ে মেঘের আড়ালে,পাখি ডাকে না,রোদের হাসি মুছে দেয় না শিশিরের অশ্রুকে,
এমন অনেক রাত আছে,যে রাতে চাঁদ এ গ্রহণ লাগে, তারারা লুকিয়ে থাকে,কিন্তু এমন কোন সকাল এখনও আসে নি,যে সকাল তোমাকে পাওয়ার প্রার্থণা ছাড়া শুরু হয়,আর এমন কোন রাতের সমাপ্তি ঘটেনি,
“তোমাকে ভালবাসি” না বলে।
পরিশেষে একটা কথাই বলি, ব্যাপার টা কখনও এমন হবেনা কবে কিভাবে শুরু হয়েছিল?বা এমনও না কে কার প্রথমছিল। কবে কিভাবে হৃদয় জ্বলেছিল?ব্যাপারটা সেটাও না আর কি কি ভাল লাগে,ব্যাপার টা আসলে এমন হওয়া উচিৎ শেষ পর্য্যন্ত যেতে চাই তোমার সাথে,ভীষণ খরাতেও আমি ভিজে যাই অধিকারের বৃষ্টিতে আমার বেঁচে থাকার প্রার্থনাতে বৃদ্ধ হতে চাই তোমার সাথে।
ইতি
অনিরুদ্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *