আসেন আমরা কোলাকুলি করে আলমদিনাতুল বাংলাস্থানের পথে এগিয়ে যাই।

হুমম এদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে,ভাই আপনার সমস্যা কি?দু একটা বিছিন্ন ঘটনা তো ঘটতেই পারে।আরে ভাই এদেশে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় টিএসসিতে বস্ত্রহরন হয়,আর মাননীয় আইজিপি বলে ছেলেরা একটু দুষ্টামী করেছে,ব্লগার হত্যা হলে বলা হয় তাদের লেখা খতিয়ে দেখা হবে।সংখ্যালঘু মরলে বলে বিচ্ছিন্ন ঘটনা।তনু হত্যা হলে পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে তালবাহানা করে।প্রকাশ্যে হজুরকূলের প্রধান বলে ধর্মনিয়ে কটুক্তি করলে সরকার দায়ভার নিবে না।ঘোষনা দিয়ে নাটক করতে না নাজিমুদ্দীন সামাদ হত্যার কোন খবরই থাকে না।আর সিদ্দিকী স্যারের হত্যার আসামীকে ক্রসফায়ারে দিয়ে হত্য রহস্য ধামাচাপা দেয়ার আয়োজন করে।ভাই আপনি সেখানে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে যে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন এটাই তো বড়।সেখানে পুলিশের বৌ হত্যা হলে তার সমাধান হয়না,আপনি কি চুল?

ভাই উন্নয়নের জোয়ার বইছে,সময় থাকতে ডুব দিয়ে গোসল করে নিন।মরে গেলে কিন্তু সেই সুযোগ পাইবেন না।
এরমাঝে ঘটে যায় সংখ্যালঘু হত্যা ও নির্যাতন।পাবনার আশ্রমকর্মী,ঝিনাইদহের পুরহিত ও নাটরের গোমেজ,কুষ্টিয়ার লালনভক্ত আর ঢাকার শিয়ারা।
আর আপনারা প্রতিদিন খতিয়ে দেখেন, সকালে ওই আশ্রমকর্মী কেন হাটতে যেতেন,খ্রিষ্টাান গোমেজ কখন টয়লেটে যেতেন,লালনভক্তরা কখন খাওজাাতেন ও শিয়ারা কখন চুল ছিড়তেন?

তারপর ঘটে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা আবারও খতিয়ে দেখা হয়।আবারও সেই নাটক তার মধ্যে পুরুষ মরলে বেহেস্তের টিকিট পায় আলহামদুলিল্লাহ্ আর যদি আল্লাহ্ না করুক মেয়েরা হ্যারাসমেন্ট হয় তো তার চরিত্র ও গুষ্টি উদ্ধার করা হয়,এই যেমন তার পোশাক ঠিক ছিল কিনা,চরিত্র ভাল ছিল কিনা বা বি এফ ছিল কিনা?

এর মাঝে নারীগনের বিচার চাওয়ার ইচ্ছে পালিয়ে যায় আর ১৬ কোটির ভিরে তারা হারিয়ে যায়।আর আমরা দেখি সব উন্নয়ন।এতই উন্নয়ন যে সিসিটিভি ক্যামেরাও দেখতে পারেনা ঘোলা হয়ে যায়।
বাইদ্যাওয়ে।এতযে ব্যায়োমেট্রিক উৎসব করলেন,বললেন হ্যান হবে ত্যান হবে তো অত্র টনা সংক্রান্ত এলাকায়,কয়টা ফোন চালুছিল আর তর কথোপকথন বেড় করে সিমের মালিক বের করতে পারলেন না,কি চুলের ব্যায়োমেট্রিক?
এরমাঝে মানুষ আসে মানুষ যায় হতে থাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা আষ বিচ্ছিন্ন মন্ত্রি সব খতিয়ে দেখে।

আর সংখ্যালঘুরা!!! আমিতো আগেই বলেছিলাম তারা গনিমতের মাল।যাইচ্ছা তাই করো রিস্ক কম।
গতবছর শুনেছিলাম নরেন্দ্র মোদী নাকি ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন ও ঢাকেশ্বরী মন্দির গিয়েছিলেন।এবং বিভিন্ন খ্রিষ্টান রাষ্ট্রদুত তাদের খ্রিষ্ট ধর্মালম্বীদের সাথে দেখা করতে যান মাঝে মাঝে। সেখানকার কর্তা ব্যক্তিদের তারা জিজ্ঞেস করেন বাংলাদেশে হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন কেমন আছে? উত্তরে তাঁরা বলেছে-
“সব ঠিক আছে। আমরা ভালো আছি।”

না, তাঁরা কেউ বলেনি- এই দেশে কেউকে চাঁদে দেখা গেলে আমাদের উপর হামলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে, আমাদের উপর হামলা হয়;খ্রিষ্টান মুরতাদ তাই কতল করা ওয়াজিব বলে ঘোষিত হয়, ভোট হচ্ছে তাই আমাদের উপর হামলা হয়; কারনে অকারনে আমাদের মালাউন বলা হয়; ভারতের ও আমেরিকার দালাল বলা হয়; রাজনৈতিক নেতারা শত্রু সম্পত্তি মনে করে,ব্রিটেনে বা ইউরোপে মুসলীম পীড়ন হলে এদেশের খ্রিষ্টানদের উপর নেমে নির্যাতন। যে যার মতো করে মাঝে মাঝেই আমাদের সম্পত্তি দখল করে!

না, এর কোন কিছুই তাঁরা নরেন্দ্র মোদীকে বা ইউরোপিয় কমিশনারদের বলেনি। বলেছে- “সব ঠিক আছে। আমরা ভালো আছি।” এটাই তো দেশের প্রতি ভালোবাসা। যত কষ্টেই থাকি, এর পরও তো নিজের দেশ। তাই অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর বা রাষ্ট্রদুতের কাছে নিজ দেশকে তাঁরা ছোট হতে দেননি। অথচ এই আমরাই উঠতে বসতে এদের মালাউন বলি খ্রিষ্টান মুরতাদ বলি, ভারতের দালাল ও আমেরিকা ব্রিটিশের দালাল বলে গালি দেই।

ভাই বাদ দেন ওদের তাড়িয়ে দেন আসেন আমরা কোলাকুলি করে আলমদিনাতুল বাংলাস্থানের পথে এগিয়ে যাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *