প্রেমপত্র-৭৪

প্রিয়ন্তীকা,
তপ্ত রোদে ভালবাসার সংযমে অপারগ আমি ঘুলঘুলিতে বাসা বাঁধা জোড়া চড়ুই এর মত ছোট্ট ছোট্ট সুখের সুখে এক বিশাল আকাশ পাড়ি দিতে চাই। সাথে ঐ সর্বনাশা চোখ আর ঠোঁটের হাসি আমার চোখে আলো হয়ে থাকুক মহাকাল অবধি ।
প্রিয়তা,তোমার চোখে সাক্ষাৎ মৃত্যু দেখে একদিন তোমাকে জয়করার রাজপথে নেমেছিলাম আমি,রক্তের ভেতর উন্মাদনা এতোটাই ছড়িয়ে পড়েছিলো যে,স্বয়ং ইশ্বরের কাছে তোমার চাহুনীতে মৃত্যু চেয়ে বসেছিলাম আমি। আজ বুঝতে পারি! ভয়ংকর যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমি,
ইশ্বর তোমাকেই আমার সকল ব্যাধি, বিষণ্ণতার অযুত-নিযুত কষ্টের এ্যান্টিবায়োটিক বানিয়ে দিলেন!
শুধু এতেই ক্ষান্ত হননি ইশ্বর,তোমাকে বানালেন আমার হৃদয়ের কান্ডারী,
ভীষন অসুখ আমার,পৃথিবীর যাবতীয় অসুখ আর তুমিহীনতার ব্যাধি।
আর তোমার কাছে না থাকাতেই করে দিয়েছেন আমার সমাধি।আমি বিক্ষোভের এই সমাধি শহরে আমার তোমার সাথে কখনো কখনো চার দেয়ালের বন্দী শিকলে, কখনো বা উত্তপ্ত কোন রাজপথে হাত রেখে হাতে হাঁটতে চাই।মিছিলে মিছিলে সঙ্গ দিও,মনখারাপের বিষণ্ণ প্রহরে জড়িয়ে ধরো আমাকে।একলা থাকার নীল দুপুরে সাহস দিও,দিও উত্তাপ, দিও সঙ্গমের ভূবন ভোলানো বেদনা, ভালবাসি তোমায়।চিন্তা করোনা, কারন ঘড়িটা ভুলে সময় দিতে ৫ মিনিট লেট করতে পারে,সূর্যচাও পাঁচ মিনিট লেটে অস্ত যেতে পারে।কিন্তু এই আমি দেহঘড়ি নিভে যাওয়ার আগ পর্য্যন্ত তোমায় ভালবেসে যাবো।আর পরের জন্মে মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে তোমার সামনে এসে দাড়াবো,বলতে তুমি হীনতায় আমি অক্সিজেনের অভাব বোধ করি।
বুঝলে প্রিয়ন্তীকা আমি লাল চিড়া আর গ্রিন চিলি খেয়ে জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো।যদি পারো খাওয়ার ফাকে মাঝে মাঝে এক টুকরা পিয়াজ কেটে দিও।তুমি চলে এসো!হঠাৎ বৃষ্টির রাতে আমায় কখনো তোমার মিষ্টি কন্ঠের গোল গোল কথায় গল্প শুনাতে হবে না।যদি পারো শুধু গায়ের উপর পাতলা কাঁথাটা টেনে দিও।তবু তুমি এসো!তোমার ভিতর-বাহির সব তালা মেরে রেখ।আমি বিরক্ত কিরবো না।যদি পারো শুধু খিড়কি থেকে আমার দিকে কিছু পবিত্র নিঃশ্বাস ছুঁড়ে দিও।তবু তুমি চলে এসো!’তুমি আছ’ এটাই যে আমার পরম শান্তি অনেক শক্তি।
আমি নিতে চাই খুব বেশি না,আর মোটে দুটো জন্ম।এক জনমে তোমার পাগল হবো আর এক জনমে তুমি আমার পাগল হবে।আসলে এক জনমে এত ভালবাসা কম হয়ে যায় তাই ভাগাভাগির হিসেব,দুই জনমে ঠিক মিটিয়ে নেবো।বেশি নাগো,আর হয়ত দুটো জন্মই নেবো।
একটা জন্মে পাগল করে ছাড়বো তোমায় আরএকটায় তুমি পাগল করবে হিসাব ঠিকই মিটে যাবে।
কিছু প্রশ্ন হয়তো মনে থাকতে পারে,তুমি বলতেই পারো
আমি যদি পড়ে যাই তুমি কি আমাকে তুলবে?
আমি যখন দুঃখ পাব তুমি কি আমার কান্না মুছিয়ে দেবে?
আমাকে দেখতে যদি কখনো খারাপ লাগে তখনোকি আমাকে ভালবাসবে?
এর প্রতিটি উত্তরেই আমি না বলব,তুমি হয়তো তাচ্ছিল্যে ধন্যবাদ দিবে।
আমি খুব দৃঢ় ভাবে প্রতি উত্তরে জানিয়ে দিব-
আমি তোমাকে পড়ার পর তুলবো না! কারন, আমি তোমাকে পড়ার আগেই ধরে ফেলব!
আমি তোমার দুঃখের কান্না মুছে দিবো না! কারন, আমি তোমার কাছে কোন দুঃখকে আসতে দেবো না!
যখন তোমাকে দেখতে খারাপ লাগে তোমাকে সে সময় ভালবাসব না কারন ওই সময় আমার কখনোই আসবে না,তুমি সব সময় আমার কাছে সুন্দর!
আমি তোমাকে অন্য সব কিছুর চেয়ে ভালোবাসি সবসময় এবং সর্বদা!
ইতি
অনিরুদ্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *