প্রসঙ্গঃ পুলিশসুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী’র হত্যাকান্ড

পুলিশসুপার বাবুল আক্তার পত্নী মিতু হত্যাকান্ডের পর জঙ্গি নিয়ে সরকার,প্রশাসনের টনক নড়েছে বলে মনে হচ্ছে।অথচ এতদিন নাস্তিক,ব্লগার,শিক্ষক,পুরোহিত,দর্জি এসব হত্যাকান্ডে প্রশাসন ও সরকারের তেমন একটা মাথাব্যথা ছিল না।
পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু নিহত হওয়ার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র বিরুদ্ধে ‘ক্র্যাকডাউন’ শুরু করেছে পুলিশ। প্রথম রাতের অভিযানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঢাকা ও রাজশাহীতে তিন জেএমবি সদস্য নিহত হয়েছে।

মিতু হত্যা নিয়ে অনেকগুলা নিউজ পড়লাম, পড়ে খুবই অবাক হলাম যে একটি খুন কত নিখুঁত পরিকল্পনা করে করে থাকে খুনিরা।যদি সুক্ষ্ম পরিকল্পনামাফিক না হতো তাহলে হাজার হাজার মানুষের ভিতরে বইমেলা প্রাঙ্গণে অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে কীভাবে পালিয়ে গেলো খুনিরা? মিতু হত্যাকান্ড যে কত নিখুঁত পরিকল্পিত তা এগুলো দিয়েই আন্দাজ করা যায়।

১. মিতুর মোবাইল ফোনে এসএমএস দেয়া হয়েছিল তার ছেলের স্কুল কর্তৃপক্ষের নাম করে।এসএমএস-এ উল্লেখ ছিলো বিশেষ এসেম্বলির জন্য স্কুলের সময় পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগে করা হয়েছে এবং স্কুল বাসও নির্দিষ্ট সময়ের আগে আসবে।
২. মিতুরা যে বাড়ীতে থাকে সেখানে আরো কয়েকজন ‘ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল’- এর শিক্ষার্থী থাকে।সেই শিক্ষার্থীদের অভিবাবকের মোবাইলেও একই এসএমএস পাঠানো হয়েছিলো যাতে ক্ষুদেবার্তাটি সঠিক বলে ধরে নেয়া হয়।অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে তারা এমন কোনো এসএমএস পাঠায়নি,স্কুলের সময়ও পরিবর্তিত হয়নি।
৩. মিতু তার ছেলেকে কখনও স্কুল বাসে তুলে দিতে বের হন না। শুধুমাত্র সেদিনই বের হয়েছিলেন এবং সেদিনই তিনি খুন হয়েছেন।
৪. বড় পুলিশ কর্মকর্তাদের বাসভবনে সর্বদা পুলিশের হপাহারা থাকে তেমন মিতুদের বাসায়ও পুলিশ পাহারা ছিলো সাদ্দাম নামক এক কনেষ্টেবল।সাদ্দামই মিতুর ছেলেকে স্কুলবাসে উঠিয়ে দিতো কিন্তু সেদিন সাদ্দাম ছিলোনা পাহারায় তাই মিতু নিজেই গিয়েছিলো ছেলেকে বাসে তুলে দিতে।
৫. খুনিরা এটাও নিশ্চিত হয়েছিলো বাবুল আক্তার পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা চলে গিয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগেই।
৬. হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলে নাম্বার প্লেটটিও ছিলো ভুয়া, একই নাম্বারের আরেকটি মোটর সাইকেল আছে।তাদের প্ল্যান ছিলো যাতে করে কেউ নাম্বার দেখে ফেললেও সন্দেহের তীর অন্য একজনের দিকেই যায়।
৭. ঘটনাস্থলের উভয় পাশে অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও একটি ছাড়া কোনো সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি হত্যাকান্ডের দৃশ্য। রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে একটি মন্দিরে ধারণ করা দৃশ্যও। পুলিশের কাছে থাকা ফুটেজও অস্পষ্ট তাই বেগ পেতে হচ্ছে খুনিদের শনাক্ত করতে।নগরির জিএসসি মোড়ে ওয়েল ফুডের ঠিক পাশেই খুন হয় মাহমুদা আক্তার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সিসি ক্যামেরা ছিলো ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীতমুখী। পাশে সাইনবোর্ড ছিলো তাই ধরা পড়েনি হত্যাকান্ডের দৃশ্য। ঘটনা স্থানের একটু দূরে কালিমন্দিরের সিসিটিভির ফুটেজে থাকার কথা ছিলো খুনিদের পালিয়ে যাওয়ারি দৃশ্য তবে রহস্যজনকভাবে ঐদিন সকাল ৯টা ২২ মিনিটের আগ পর্যন্ত ধারণ করা সব ফুটেজ মুছে দিয়েছে কে বা কারা।

পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রীর হত্যাকান্ড সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত। এমনি সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করে প্রতিটি খুন করে জঙ্গিরা যার বেশিরভাগ অপ্রকাশিত রয়ে যায়।পুলিশের পরিবারের উপর আক্রমন হওয়াতে আজ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে,অন্তত এই কারণ হলেও দেশ থেকে জঙ্গি মুক্ত হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *