কেন এই নৃশংসতা!

মেরুদণ্ড ছাড়া যেমন মানুষ চলতে পারে না, ঠিক তেমনি শিক্ষিত, পণ্ডিত, জ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী ছাড়া দেশ ও জাতি চলতে পারে না। এমন ব্যক্তিরা হলেন দেশ ও জাতির মাথাস্বরূপ। এমনই চিন্তা করেছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদাররা। তাই তারা যখন দেখলো যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত, তখনই তারা ভাবলো, এদেশকে পঙ্গু করতে হবে। এদেশকে পঙ্গু করতে হলে এদেশের বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানীদের শেষ করতে হবে। কারণ তারা জানতো বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানীরাই একটি দেশকে বলিষ্ঠ ও সুষ্ঠু নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যায়। তাই তারা অনেক শিক্ষক, ডাক্তার ও বুদ্ধিজীবীকে গোপনে গুম ও হত্যা করে। এদেশের বিবেকবানদের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, সেই হানাদারদের একটি চক্র এখনো কি বাংলাদেশে বিরাজমান? এদেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৪ বছর আগে। আজো কি আমরা স্বাধীন? যদি আমরা স্বাধীনই হয়ে থাকি, তবে কেন স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দেশে গুম-খুন-ধর্ষণ সমানতালে চলছে? কেন দেশের কোনো শ্রেণির মানুষের নিরাপত্তা নাই? কেন ধনী থেকে গরীব, শিশু থেকে বৃদ্ধ, ছাত্র থেকে শিক্ষক, তরুণী থেকে যুবতী—সবাই অনিরাপত্তায় ভুগছে? কেন সবার মধ্যে গুম-খুন-ধর্ষণের আতঙ্ক বিরাজমান? যে চক্র কেড়ে নিচ্ছে দেশের কাণ্ডারিকে, জাতির জনককে, স্বাধীনতার ঘোষককে, আমাদের আপনজনকে? তাঁরা কি এদেশের বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় পড়েন না? তাঁরা বেঁচে থাকলে এদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতো। তা অস্বীকার করার উপায় আছে কি? দেশ ভালো থাকুক ঐ সকল দেশ বিরোধী চক্র তা চায় না। আমরা ধর্মীয়ভাবে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাপা প্রভৃতি যা-ই হই না কেন আমরা একই পরিবারের, একই সমাজের, একই দেশের। এদেশের জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা এক মন, এক প্রাণ, এক শক্তি হয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। তারা তো নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য যুদ্ধ করেননি। তারা ছিল একমন, একপ্রাণ, একশক্তি এবং এক উক্তি— বাংলাদেশের চাই মুক্তি। তাই বলতে চাই-আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা বাঙালি। আমরা একে অপরের সহযোগী, প্রতিযোগী নই। সবশেষে আহ্বান এই যে— আসুন, আমরা সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিহার করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের মত নিঃস্বার্থ, একমন, একপ্রাণ, এক শক্তি এবং এক উক্তি হয়ে সম্ভাবনার বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *