হতাশার আশা…

মেয়েটার গোঁফের মত একটু গাড় পশম
গজিয়েছে বা দাঁত গুলি একটু
উচু,দেখতে খারাপ লাগে।এর জন্যে ওর
বিরক্তির শেষ নেই।কথা বলার সময়
প্রায়ই মুখে হাত দেয় জিনিসটা
লুকাতে।
গলার স্বরটা মোটামোটা,কেমন যেন
একটু আলাদা।এটার চিন্তায় ও সবার
সাথে কথা বলাই কমিয়ে দিয়েছে!
চেহারাটা নজরকারা কিন্তু বেশ শর্ট।
আক্ষেপ করে বলে,”ইশ,আর দু’ইঞ্চি লম্বা
হলে…।”কিংবা সব দিকেই ফিট,শুধু
গায়ের চামড়া কালো, এর জন্যে
দুঃখে সে দিন কাটায়।

অন্যদিকে হ্যাংলা কালো
লিকলিকে দেখতে মেধাবী
ছেলেটি যখন ফর্মাল ড্রেস পড়ে
আয়নার সামনে দাড়ায় তখন নিজের
অজান্তেই মন খারাপ করে বলে
উঠে,”আরেকটু স্বাস্থ্য হলে…!”
নায়কের মত ছেলেটার দিনদিন চুল
পড়ে মাথা প্রায় স্টেডিয়াম হয়ে
যাচ্ছে কিংবা ভুড়ি যাচ্ছে বেড়ে।
ইত্যাদি ইত্যাদি…।

এ তো গেলো বিয়ের আগের হতাশা।
বিয়ের পর?
“ইশ,পাশের বাসার ভাবির ঘর বোঝাই
ফার্নিচার বা বান্ধুবী/সমবয়সীর কত্ত
ভালো জাগায় বিয়ে হয়েছে আর
আমার!”
“একই সাথে পাশ করেছি কিন্তু বন্ধু কত
বড় চাকরি করে আর আমার ঘর ভাড়া
দিতেই টাকা শেষ।”
থামেন…….!
আগে একটু ভেবে দেখেন তো আপনি
সম্পুর্ন সুস্থ কি না।থাকলে
আলহামদুলিল্লাহ্।না থাকলে?
সামান্য জ্বর হলেই দিন দুনিয়া অন্ধকার
আর যদি অসুস্থ হয়ে ঘরে বসে থাকতেন?
পাহাড়সম ধন সম্পদ দিলেই বা আপনি
সেগুলি দিয়ে কি করতেন?
,
একা থাকলে বা নিজের থেকে বড়
কারো সাথে তুলনা করলেই এসব
হতাশা মাথায় ভর করে।
কিন্তু আমরা যখন রিক্সায় উঠি,ভিক্ষুক
কে দান করি,প্রতিবন্ধী কে সাহায্য
করি তখন কি একটুও চিন্তা করতে পারি
না আল্লাহ্ আমাকে অনেক ভালো
রেখেছে অন্তত কিছু মানুষের থেকে।।
,
চাওয়ার লিস্ট টা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপূর্নই
থাকবে কিন্তু কি কি পেলাম তার
হিসাব টা খুব কমই স্বীকার করি আমরা।
,
নিজেকে নিজের নিজস্ব দিয়ে
বিচার করি,সুস্থতাকে পরম নেয়ামত
হিসেবে মেনে নেই।
দেখা যাবে নগন্য দুর্বাঘাসের মত
আমাদের জীবন হলেও, একদিন বৃহত নিম
গাছের মত ছায়া দিব আমরা প্রত্যকে
প্রত্যককে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *