মুহাম্মদের চলাচলের রাস্তায় ইহুদি বুড়ির কাটা বিছানোর গল্প: কোরান বা হাদিসে কোথায় আছে ?

আমাদের জ্ঞান হওয়ার আগেই , একটা গল্প দিয়ে আমাদের জীবন শুরু করান হয়েছে যার মাধ্যমে আমাদের জ্ঞান হওয়ার আগেই আমাদেরকে বুঝান হয়েছে মুহাম্মদের মত মহৎ ব্যাক্তি দুনিয়াতে আর কেউ নাই ছিল না। সেই বিখ্যাত গল্প যাতে বলা আছে – মুহাম্মদের চলাচলের রাস্তায় এক ইহুদি বুড়ি কাটা বিছিয়ে রাখত যাতে মুহাম্মদ সেই পথে চলাচলের সময় কষ্ট পায়। একদিন হঠাৎ মুহাম্মদ লক্ষ্য করল পথে কাটা নেই। তখন মুহাম্মদ খোজ নিয়ে জানল , বুড়ি নাকি অসুস্থ। তখন , মুহাম্মদ সেই বুড়ির বাড়ীতে গেল। গিয়ে তার সেবা যত্ন করল। মুহাম্মদের মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে বুড়ি ইসলাম গ্রহন করল। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই গল্পের সূত্র কি ? এই গল্প কোথায় আছে – কোরানে ? হাদিসে ? সিরাতে ? তাফসিরে ? কোথায় ?

আমি বহু খোজ করেছি , কোথাও এই গল্প পাই নি। কেউ কি এই গল্পের সূত্রের সন্ধান দিতে পারেন ?

ইসলাম হলো দলিল ভিত্তিক। প্রতিটা গল্প বা বিধি বিধানের দলিল থাকতে হবে। হয় কোরানে , না হয় হাদিসে আর তা না হলে অন্তত: তাফসির বা সিরাতে। এখন এমন কোন গল্প যদি মুহাম্মদ সম্পর্কে বলা হয় যার কোন দলিল নেই , তাহলে সেই গল্প কি মিথ্যা গল্প হয় না ? সেটা কি মিথ্যাচার হয় না ? মুহাম্মদ সম্পর্কে এই ধরনের মিথ্যাচার সম্পর্কে কঠিন নিষেধাজ্ঞা জারী করা আছে। যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদিস ১০৮
আলী ইবনুল জা‘দ (র)… ‘আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদিস ১০৯
আবুল ওয়ালীদ (র)… আবদুল্লাহ ইবনু’য-যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা যুবায়রকে বললামঃ আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের ন্যায় রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) –এর হাদীস বর্ননা করতে শুনি না। তিনি বললেনঃ ‘জেনে রাখ, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু (হাদীস বর্ণনা করি না এজন্য যে,) আমি বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদিস ১১০
আবূ মা‘মার (র)… আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এ কথাটি তোমাদেরকে বহু হাদীস বর্ণনা করতে আমাকে বাধা দেয় যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদিস ১১১
মাক্কী ইবন ইবরাহীম (র)… সালমা ইবনে আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) – কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদিস ১১২
মূসা (র)… আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনামে রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় রুপ ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’

সুতরাং কেউ যদি মুহাম্মদ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে , অথবা কেউ যদি মুহাম্মদ যা বলে নি সেটা মুহাম্মদের নামে বলে , সে হলো জঘণ্য পাপি আর তার স্থান জাহান্নাম। আর এই জগতে সেই মুনাফিকের শাস্তি সোজা কল্লা কাটা।

এই মত অবস্থায় , যারা মুহাম্মদের নামে ইহুদি বুড়ির এই মিথ্যা কাহিনী দুনিয়ার সকল ইসলামী শিক্ষার বইতে প্রকাশ করেছে , যারা জেনে শুনে বুঝে সেই মিথ্যা কাহিনী প্রচার করছে নানা ওয়াজ মাহফিল অথবা ইসলামী জলসায় আর মানুষকে ধোকা দিচ্ছে , তাদেরকে কেন মুনাফিক হিসাবে শিরোশ্ছেদ করা হবে না ? আর কেনই বা আমাদের শৈশবেই , এই ধরনের মিথ্যা গল্প বলে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে ? কেন আমাদের জীবনটাকেই বিনষ্ট করা হয়েছে ? যে লোক আসলে মহৎ না , সেই লোককে কেন মহৎ বলে প্রচার করে , আমাদের জীবন দর্শনটাই মিথ্যাচারের দর্শনে পর্যবশিত করা হয়েছে ?

একই সাথে , প্রশ্ন হলো: ইসলাম কি আসলে মিথ্যার ওপর দাড়িয়ে আছে ?

৫ thoughts on “মুহাম্মদের চলাচলের রাস্তায় ইহুদি বুড়ির কাটা বিছানোর গল্প: কোরান বা হাদিসে কোথায় আছে ?

  1. ইসলামের শুরুতে এই পর্যন্ত এই
    ইসলামের শুরু থেকে এই পর্যন্ত এই ধরনের মিথ্যা গালগল্পের উপর দাঁড়িয়ে টিকে আছে। সবগুলো ধর্মে এমন মিথ্যা গল্প দিয়ে ভরপুর।

  2. ধর্ম নিজেই যেখানে মিথ্যার
    ধর্ম নিজেই যেখানে মিথ্যার উপরে ভিত্তি সেখানে এসব মিথ্যাকে কে গুনবে ? ইসলাম ও নবীর সপক্ষে সকল মিথ্যাই জায়েজ ।

  3. কাঁটা বিছানো বুড়ির গল্প’
    কাঁটা বিছানো বুড়ির গল্প’ হাদিসে আছে। ইবন জারীর ও বাইহাকী আদ-দালায়েলে উল্লেখ করেন এবং ইবন আসাকির ‘وامرأته حمالة الحطب‏’ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবন আব্বাস থেকে উল্লেখ করেন যে ‘এই মহিলা (উম্মু জামিল) কাঁটা-কণ্ঠক বহন করে নবীর আসা-যাওয়ার পথে ছড়িয়ে রাখত যাতে তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা কাঁটাবিদ্ধ হন’ (wiki-link)। এখন একটি ঘটনা যদি হাদিসে থাকে কিন্তু যদি তা বুখারি/মুসলিমে না থাকে, তাহলে নাস্তিকের ঘটনা কী হল? নাস্তিকের কাছে যদি ‘সহিস হাদিস’ –এর গ্রন্থ “অথোরিটি” হয়ে পড়ে, তবে তাকে তো প্রথমে মুসলমান হতে হবে। কেননা, তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত –এসব তো সহিস হাদিসে প্রতিষ্ঠিত। সহিহ হাদিসে নবীর অনেক মহৎ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, কোরানে নবীর আচরণকে ‘উসওয়াতে হাসানা’ বলা হয়েছে, নবীর চরিত্রের প্রশংসা এসেছে।
    https://ar.wikipedia.org/wiki/%D8%A3%D9%85_%D8%AC%D9%85%D9%8A%D9%84

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *