বর্বর দেশে শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো থেকে মানুষ খুন

পিয়ার সাত্তার লতিফ জামান উচ্চ বিদ্যালয় নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অবস্থিত। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি দাস। ১৭ বছর ধরে এই স্কুলকে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন শামল, টিনশেড ভবন থেকে পাকা ভবন তৈরি হয়েছে তার চেষ্টাতেই। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ শিক্ষিত জনই তার ছাত্র। নিজ হাতে এদের মানুষ করেছেন।

দিনরাত পরিশ্রম করেন। স্কুলের উন্নতির জন্য নিজেই সবাইকে পরামর্শ দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করিয়েছেন। তার নিজের হাতে গড়া সেই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম গত কয়েক মাস ধরেই অন্যায়ভাবে শ্যামল কান্তি ভক্তের জায়গায় তার বোন পারভীন আক্তারকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে বসানোর জন্য চেষ্টা করে আসছিলেন।
কিন্তু শ্যামল তার নিজের হাতে গড়া স্কুলটার বিন্দুমাত্র ক্ষতির আশংকায় কোন ছাড় দিতে রাজি হননি। ফলে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির তিনজন সদস্য মতিউর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসের পিয়ন মতিউর রহমান ও মোবারক হোসেন তাকে সরানোর জন্য তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

সম্প্রতি তার স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র রিফাত ক্লাসে বসে কোকিলের ডাক, কাকের ডাক দিয়ে দুষ্টুমি করছিল। তিনি নিষেধ করলেও ওই ছাত্র শোনেনি। এতে তিনি রিফাতকে শাসন করেন। আর এই ঘটনাকে পুঁজি করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, কমিটির সদস্য ইউএনও অফিসের পিয়ন মিজানুর রহমান, মতিউর রহমান মিজু, মোবারক মিলে গুজব রটায় যে রিফাতকে মারার সময় তিনি ইসলাম ধর্মবিরোধী কথা বলেছেন।
তারা রিফাতের মা রিনা বেগমকে দিয়ে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেওয়ায়। শুক্রবার তাকে স্কুলে ডেকে আনা হয় এ বলে যে, স্কুলে এমপি সাহেবের দেওয়া পঞ্চাশ লাখ টাকা উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের ব্যাপারে মিটিং হবে। বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে স্কুলের একজন ছাত্রকে মারধর ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি জানানো হয়। একথা শুনে শ্যামল তাজ্জব বনে যান।

তাকে বিস্মিত হবারও সময় না দিয়ে পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে তিনি ধর্মীয় অবমাননা করেছেন বলে প্রচার করে জনসাধারণকে স্কুলে আসতে আহ্বান জানানো হয়। জনতা স্কুলে এসে ম্যানেজিং কমিটির লোকজনের সহায়তায় এই মানুষটাকে গণপিটুনি দেয়।

বিস্ময়ের তখনো বাকি ছিল। উত্তেজিত ধর্মান্ধ জনতা তাকে হয়তো সেখানেই মেরে ফেলতো। কিন্তু পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। তবুও ধর্মানুভূতি রোগে আক্রান্ত অন্ধ নিকৃষ্ট পশুগুলো তাকে সেখান থেকে বেরোতে দিচ্ছিল না। বিশ্বাসের ভাইরাস যে বড় ভয়াবহ জিনিস! এমতাবস্থায় মুশকিল আসান বাবা হিসেবে আবির্ভাব স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের।

ওসমান পরিবারের এই সদস্য চাইলেই তার প্রভাব খাটিয়ে শ্যামল কান্তিকে ওখান থেকে বের করে আনতে পারতেন। একটা শুয়োরেরও ক্ষমতা ছিল না তার বিরুদ্ধে কিছু বলার। কিন্তু জাতীয় পার্টির এই জনপ্রতিনিধি চাইলেন শিক্ষাজীবনে তাকে যে শিক্ষকেরা শিক্ষা দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাসরূপ তিনি শ্যামল কান্তিকে সম্মানিত করবেন। এতে শুধু তারই মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে না, উপস্থিত ধর্মান্ধ শুয়োরগুলোও “মালুডার উচিত শিক্ষা হইছে” ভেবে হৃষ্টচিত্তে ঘরে ফিরতে পারবে। সুতরাং তিনি সকলের মনোবাঞ্ছা পূরনের সার্থে শিক্ষকজাতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তার বাবার বয়েসী শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কানে ধরে উঠবস করার অনুরোধ করেন।
বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ শিক্ষক শ্যামল তার ১৭ বছরের শিক্ষার আলো জ্বালানোর পুরস্কারসরূপ তার স্কুলের উঠোনে উপস্থিত জনতার সামনে কানে ধরে উঠা বসা শুরু করেন। এতোদিনের পরিচিত মুখগুলো হঠাৎ অচেনা হয়ে যাওয়া মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে প্রাণপণে কান ধরে উপস্থিত শুয়োরেরা তার প্রতি উঠবসকে “জয় বাঙলা” স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। মাননিয় এমপি শিক্ষকজাতির প্রতি তার শ্রদ্ধা জানাবার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে শ্যামল কান্তিকে উপস্থিত শুয়োরদের মাঝ থেকে জীবিত বের করে আনেন ।

প্লিজ, কেউ আমাকে বলেন উপরে এতোক্ষন যা পড়লেন, সেইটা একটা দুঃস্বপ্ন। এইটা একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। প্লিজ কেউ আমাকে বলেন এই ঘটনাটা ঘটে নাই। আমরা একজন শিক্ষককে গনপিটুনি দিয়ে কানে ধরে উঠবস করাই নাই। সে সময় আমরা জয় বাঙলা বলে বিমলানন্দে হাত তালি দেই নাই। একাত্তরের ৫ই আগস্ট আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামী কোরআনের সূরা হজের ২৬ নম্বর আয়াত বিকৃত করে সংগ্রাম পত্রিকায় কলাম লিখছিল, “পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। আল্লাহ একে বারবার রক্ষা করেছেন। ভবিষ্যতেও রক্ষা করবেন” পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় সে মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারন মানুষদের হিন্দুস্তানের দালাল, কাফের, মালাউন, ইসলামের শত্রু হিসেবে প্রচার করে গনহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষন, বুদ্ধিজীবি হত্যা চালাইছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে ইসলামের এমন ভয়ংকরতম অবমাননা হয় নাই আর কোনদিন। তাঁর আলবদরবাহিনীকে দিয়ে প্লিজ কেউ আমারে বলেন এইটা ঘটে নাই। এইটা ঘটতে পারে না। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে গড়া এই জমিন এইভাবে পালে পালে শুয়োরের দখলে চলে যাইতে পারে না… কখনো না… প্লিজ কেউ বলেন এইটা অসম্ভব, এইটা অবিশ্বাস্য, এইটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন… প্লিজ…

৩ thoughts on “বর্বর দেশে শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো থেকে মানুষ খুন

  1. ইসলাম যে কত বড় ভাইরাস , এটা
    ইসলাম যে কত বড় ভাইরাস , এটা তারই প্রমান। ইসলাম একটা সভ্য সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে মুহুর্তেই। তাই ইসলাম নামক এ ভাইরাসকে যে কোন মূল্যে ধ্বংস করতেই হবে। এটা দরকার আমাদের জাতির স্বার্থে, মানজাতির স্বার্তে।

  2. বিশ্বাসের ভাইরাস তথা ইসলাম
    বিশ্বাসের ভাইরাস তথা ইসলাম নামক ধর্মের ভাইরাস কতটা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে উপলব্দি করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *