টার্গেট হত্যা চালিয়ে, কলম যোদ্ধাদের দাবিয়ে রাখা যাবে না

জাতীয় ঐক্য যদি লেখক হত্যা হয়, প্রকাশক হত্যা হয়, ব্লগার হত্যা হয়, গুপ্ত হত্যা হয়, বিদেশী হত্যা হয়, পুলিশ হত্যা হয়, আস্তিক-নাস্তিকের ফতুয়া হয় আর সর্বোপরি, ‘ক্ষমতার পালা বদলই যদি সব সমস্যার সমাধান হয়’ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায় বর্তমান অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য দায়ী কে? ব্যক্তিগত ধারনা থেকে বলছি, মৌলবাদী ধর্মান্ধ উগ্রপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠি বলেন, চাপাতি জঙ্গি বাহিনী বলেন, আইএস বলেন, আনসারউল্ল্যা বাংলা টিম বলেন, জামায়াত-বিএনপির ইশারায় গড়া ভিন্ন ভিন্ন নামে বিশ দলের বিষের দংশনে বিবর্ন আজ সোনার বাংলাদেশ।

লেখক ও গবেষক ড. শফিকের ভাষায়, আনসারউল্ল্যা, গাইরুল্ল্যা, শয়তানুল্ল্যা, শুকরউল্ল্যা আর আমার ব্যক্তিগত মতে জামায়াতউল্ল্যা, খালেদুল্ল্যা, তারেকুল্ল্যা, মাফিউল্ল্যা গুপের প্রধান দাউদউল্ল্যার সমন্ময়ে গঠিত বিদেশী খবিশউল্ল্যা ও বেজালউল্ল্যারাই একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন নাম করনে ‘টার্গেট হত্যা’ চালিয়ে শান্তির জনপদকে অশান্তির জনপদে পরিনত করতে চাচ্ছে। জনমনে আতংঙ্ক সৃষ্টি করে মুলত যাহা অর্জন করতে চায় তাহা আজ দেশবাসীর কাছে দিবা লোকের মত পরিস্কার হয়ে গেছে।

দেশীয় কিছু জ্ঞানপাপী, বুদ্ধিজীবী দালাল সংলাপ আর জাতীয় ঐক্যের সমর্থন আদায়ের হীন চেষ্টায় মেতে উঠেছে। তারা মুলত শান্তির কথা বলে অশান্তিকে বেশী আলিঙ্গন করতে চায়। তারা নাকি শান্তির দূত হয়ে বাংলার আকাশে রাজাকারের জ্যোস্নালোকিত তীর্থ স্থান করতে চায়। যেমনঃ সাইদীকে একবার তারা চাঁদে দেখতে পায়।সেই সময় ধর্মান্ধতার গুজব ছড়িয়ে শত শত নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে কাবাব বানিয়ে প্রেরন করতে চেয়েছিলেন সুদুর লন্ডনে বসে থাকা দুর্নীতির বরপুত্র তারেকের জন্য। সেই দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বাংলার বিরুদ্ধে, অগ্রগতির বিরুদ্ধ, লবিষ্ট নিয়োগ করে মাসিক ৪০ হাজার ডলার খরচ করে দীক্ষা নিচ্ছেন টার্গেট হত্যা চালিয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার করে,দেশের বাহিরে থেকে চাপ প্রয়োগ করে অভিষ্ট লক্ষে পৌছতে হবে। তাহারই ধারাবাহিকতায় জাতিকে মেধাশুন্য করার নীল নক্সার ছক মোতাবেক কেউ বাদ পড়ছেন না বর্বোরচিত, নিশংস হত্যাকান্ড থেকে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অপপ্রচারে লিপ্ত দলসমুহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দিন দিন জন-বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রুরা যেমন কিছুদিনের মধ্যেই চান্দে পৌঁছে যাবে তেমনি আজকের টার্গেট হত্যাকারীরা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে নিজেরাই নিজেদের চান্দে যাবার পথ নির্মান করছেন।

বিদ্যানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে দামী, আজ সেই দামী লোকদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে মাতৃভুমি। চাপাতির আঘাতে লন্ড-ভন্ড লেখকের লেখনি, সংকোচিত মুক্তবুদ্ধির চর্চা। নিরাপত্তাহীনতা সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠার যে ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে ভবিষৎ জাতিকে অন্ধকারে নিপতিত করার সামিল। সৈয়দ ওয়ালি উল্ল্যাহ’র লাল সালু উপন্যাস লেখা-পড়া না জানা ভন্ডপীর মজিজ যেমন আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্দোগকে যড়যন্ত্র করে বন্ধ করে দেয় তাহার ধর্ম ব্যবসার জন্য তেমনি বিংশ শতাব্দিতে পা দিয়ে বাংলাদেশ প্রযুক্তির দিক দিয়ে সারা বিশ্বে যখন প্রশংসিত তখন অক্ষর জ্ঞানহীন দল নেত্রী ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশকে মুর্খের স্বর্গরাজ্য বানাতে নির্লজ্জ ঘৃনিত হত্যাকান্ড চালিয়ে মেধাশুন্য বাংলাদেশ গড়ার অশুভ চিন্তায় মেতে উঠেছে। মনে করছে জ্ঞানশুন্য জাতি তৈরি করা গেলে তাদের হীন স্বার্থের বা অপকর্মের কেউ আর প্রতিবাদ করার থাকবে না। দেশ বিরোধী অপকর্ম নির্বিগ্নে চালিয়ে যেতে তাদের আর কোন বাঁধা থাকবে না। তাই তাদের টার্গেট হত্যা।

টার্গেট হত্যা মুলত শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। কাদের মোল্লা তথা কসাই কাদিরার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে বিক্ষুপে ফেটে পড়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সমমনা ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে মুক্তির চেতনা ধারনকারী অবাল বৃদ্ধ বনিতারা। জনতার স্রোত নেমে আসে শাহবাগ স্কয়ারে যাহা গণজাগরণ মঞ্চ হিসাবে খ্যত। গণজাগরণ মঞ্চ যখন তৈরি করা হয় গোটা দেশে তখনি প্রথম টার্গেট হত্যার স্বীকার হয় রাজীব হায়দার ওরফে থাবা বাবা। তারপর প্রতিটি যুদ্ধাপরাধের রায়ে বিরুদ্ধে পুলিশকে টার্গেট করে আক্রমন, বোমা হামলা, অস্ত্র কেরে নেওয়াসহ নানান অপ্রীতিকর ঘটনা দেশের মানুষকে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছিল। নির্বচন বানচালেও একই ঘটনার পুনঃরাবৃত্তি ঘটতে দেখেছে সাধারন মানুষ। ক্রমাগত জ্বালাও পোড়া ও হত্যাকান্ড একই সুত্রে গাঁথা, এক সন্ত্রাসী অভিযাত্রী জামায়াত-শিবির বিএনপি বর্তমান আনসারউল্লা বাংলা টিমের কান্ডারী।

গুণীজনরা জ্ঞানের কদর করে। জ্ঞানী জাতি আগামী সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে কলম নামক ধারাল অস্ত্র দিয়ে রাষ্ট্রকে সহায়তা করে থাক। তাই কলম যোদ্ধাদের রক্ষা করা, নিরাপত্তা প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রতিক্রিয়াশীলরা যতই চেষ্টা করুক কলম যোদ্ধাদের দাবীয়ে রাখতে পারবে না। গুপ্তহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ সফল হতে পারেনি, এখনও পারবে না।

টার্গেট হত্যাকারীদের জানাতে চাই, চাপাতির জবাব কলমে প্রকাশ সে যে পরমানুবিক অস্ত্রের চেয়ে ভয়াবহ। মানুষ মারা গেলেও, আদর্শের কিন্তু কোন মৃত্যু নেই। সাবধান! আর বিপদগামী হইও না।

শান্তির সপথে তোমারও অংশ নাও।
অগ্রগতির পথে তোমরাও একাত্ব হও
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নাও
গুপ্তহত্যা ছেড়ে দাও,জনগনের পাশে দাড়াও।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *