হাইমেন (সতীপর্দা)

দ্যা টপিক ইজ হাইমেন অর্থ্যাৎ যেটাকে কিছু আবাল জনগোষ্ঠী ‘সতীপর্দা’ নাম দিয়ে থাকে।
.
আসি ভুমিকায়। প্রশ্ন যদি থাকে,
*হাইমেন বা সতীপর্দা কি?
তাহলে বলা হবে, কিছু সুক্ষ্ণ তন্তুর ন্যায় টিস্যু দিয়ে তৈরী এক ধরনের পর্দা।
*এর কাজ কি?
উঃ এর কাজ হলো পিরিওডের প্রবাহ কে মেইন্টেইন করা। এর ফলে মেয়েদের পিরিওড শুরু হওয়ার সময় ই অর্ধেক পর্দা ফেটে যায় (যাতে পিরিওডের রক্ত টা ঠিক ভাবে বেরুতে পারে) আর কিছু অংশ থেকে যায় ফ্লেক্সিবিলিটি কেমন তার উপর নির্ভর করে।
*এটা না থাকলে কি একটা মেয়ে সতী নয়?
উঃ এটা নির্ভর করছে আপনি সতীত্ব কে কিভাবে দেখছেন। যদি হাইমেন না থাকাকেই আপনি অসতীত্বের লক্ষণ হিসেবে ধরেন,তাহলে ১৮-১৯বছর বয়সী শতকরা প্রায় ৮৮% মেয়েই অসতী। কারণ টা আগেই বলেছি। পিরিওডের সময় অর্ধেকের বেশি অংশ ফেটে যায়। আর বাকি অংশ টা অনেক সুক্ষ্ম ভাবে লেগে থাকে।। তখন একটু দৌড় ঝাপের মাধ্যমেই সেটা ছুটে যেতে পারে। এটার উপর কখনোই ভার্জিনিটি নির্ভর করেনা।
আর এসব কারণেই আই মিন সতীপর্দার জন্যেই আগে মেয়েদের পিরিওড শুরুর আগেই বিয়ে দেয়া হতো। এবং তা হতো সতীত্বের লক্ষণ। কিন্তু এ যুগে এসে যখন কারো মুখে শুনি,মেয়েটা নিজের ভার্জিনিটি হারিয়েছে সাইকেল চালিয়ে, সাতার কেটে, হাই জাম্প-লং জাম্প খেলে,তখন কষ্টে হাসি পায়!
জানিয়ে রাখি,প্রতি ১০০০ জন মেয়ের ভেতর ১ জন মেয়ে হাইমেন ছাড়াই জন্ম নেয়, তো একর্ডিং টু সতীপর্দা লজিক একটা মেয়ে অসতী ভূমিষ্ঠ হয়!

এখন আসি সতীপর্দা আর যৌনমিলন প্রসঙ্গে- গ্রামের অনেক বাড়িতেই বিয়ের রাতে সাদা চাদর দেখা যায়। যাতে মেয়ের যৌনমিলনে সতীত্ব ছেদ হলে সেখানে রক্ত লেগে থাকে। কিন্তু শতকরা ৪৪ ভাগ মেয়ের সতীপর্দা ছেদ হলে রক্ত বেরোয় না। এমনকি হাইমেনের ইলাস্টিসিটি বেশি হলে যৌনমিলন অথবা বাচ্চা প্রসব করার পরেও সেটা ফাঁটে না।

এ শিক্ষিত জাতি এখন ও সতীপর্দা নামক একটা আননেসেসারি বালের জন্যে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে ফেলে। একটা মেয়ে যখন বুঝতে পারে তার হাইমেন পর্দা টা ফেটে গ্যাছে,তখন সে কি পরিমাণ ফ্রাস্টেটেড হতে পারে ভেবে দেখেছেন! সে নিজেকেও অসতী ভাবতে শুরু করবে! তার ফল কিন্তু ভয়ানক রূপ নিতে পারে। হাইমেন পর্দা ফেটে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছুনা। বরং ১৮-১৯বছর বয়স অব্দি এটা ঠিকঠাক থাকবে,সেটাই অস্বাভাবিক। আপনি যদি এই পর্দা নিয়ে কাউকে অসতী বলে বিবেচনা করেন,তাহলে আপনার মানতে হবে এই বয়সের প্রায় সব কটা মেয়েই অসতী! আর সিরিয়াসলি! অসতী! ব্যাপারটা শুধু যৌনতার দিকে গিয়ে ঠেকলো না?
এসব কুসংস্কার গুলো থেকে বেরিয়ে আসুন। তারপর আধুনিক হবেন 🙂 একটা মেয়েকে হাইমেন বা সতীপর্দার মধ্যে আটকে রাখবেন না। উড়তে দিন। একদিন এরাই একটা শিক্ষিত জাতির হাতে দেশ দিবে। আপনি আমি তাকিয়ে থাকবো।
গো এহেড গার্লস। 🙂 দ্যা ব্রাইটনেস ইজ ওয়েটিং 🙂

২ thoughts on “হাইমেন (সতীপর্দা)

  1. সতীপর্দা ফেঠে গেলে অসতী হবে
    সতীপর্দা ফেঠে গেলে অসতী হবে কেন?এটা যে কোন কারনে ফেঠে
    যায় ,বেশির ভাগ মানুষ এ কথা জানে

  2. অনেকেই জানেনা ভাই। আপনি আমি
    অনেকেই জানেনা ভাই। আপনি আমি জানি। কিন্তু এই হাইমেন দিয়েই অনেক মানুষ এখন ও মেয়েদের সতীত্ব নির্ধারণ করে 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *