স্যার ফান না ভাবলে কিন্তু মাইন্ড করবো।

শ্যামলকান্তি স্যার,
আপনাকে একটা চিঠি দিচ্ছি, ওই ব্যাকরন ট্যাকরনে বা বানানে ভুল ধরতে যেয়েন না কিন্তু। ফিল গুড করেন স্যার কেউ আপনাকে চিঠি দিল, কি রোম্যান্টিক! পেন্নাম হই, আসল কথাই আসি দাদা, উফ দেখলেন দাদা বলে ফেল্ললাম স্যার। কি যে ভুল মন আমাদের জানেন তো, ভুলে যায় আপনি আমি এক দেশের নাগরিক, সমান সব অধিকার। যাক বলছি কি আপনার জন্য আর দুঃখ করছি না। বরং ভাবছি ধর্মীয় পরিচয় হিন্দু বা সংখ্যালঘু হবার পর বেশ অনেকদিন আরামসে প্রধান শিক্ষকের গদী গরম করে বসে ছিলেন। উরিব্বাস কি দুঃসাহস! কি করে স্কুল প্রধান হন আপনি? আপনি সংখ্যালঘু হয়েও কেন হবেন প্রধান??? ভুলে গেলেন দাদা না মানে স্যার জানেন না আমরা সংখ্যাগুরু। বাপ রে বাপ! আমাদের মাথার উপর থাকার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে?

আরে আপানার তো অনেক আগেই ঘটিবাটি, বস্তা-বাক্স নিয়ে চলে যাবার কথা এই দেশ ছেড়ে ( জানিনা কোথায় যাবেন? কেন দেশ ছেড়ে যাবেন? আপনার দেশ, মাটি কেন ছাড়বেন? এ কথা আমরা কেন ভাববো)। খান, ঘুমান, হাগেন এই দেশে টাকা জমান ভারতে (জন্মের পর থেকে শুনে আসছেন এই কথা, আপনাদের অনেকেই আবার কোন দিন ভারতে যায়নি। খেলার মাঠে, স্কুলে, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাজারে, আড্ডায়, কর্মস্থলে কত লক্ষবার শুনেছেন তার ঠিক নেয়। বাকি জীবন যদি স্বাভাবিকভাবে বাঁচেন!!! তাহলে শুনবেন আরো অযুত নিযুত কোটিবার।) তো স্যার মাসুল দেবেন না, সাসংদ একটু ফান করেছে, কষ্ট মনে নিলে কিন্তু ভারী মাইন্ড করবো। বলুন স্যার এটা কি শিক্ষক হয়ে আপনাকে মানায় আমাদের কষ্ট দেয়া, একটু দুষ্টুমি ভেবে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। বাবা-মার পর যে মানুষটির কাছ থেকে জীবনের সঠিক পথে চলার শিক্ষা পায় তা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে। বাবা-মায়ের থেকেও যার স্থান বড় করে দেখা হয় তা একজন শিক্ষকের। কিন্তু স্যার আপনি তো হিন্দু, মুসলিম দেশে হিন্দু হবার কি জ্বালা তা মর্মে মর্মে জানলেন তো স্যার। হিন্দু স্যার এই দেশে আপনার বাঁচার কোন অধিকার নাই। এই নিদারুণ সত্যা আপনি জানেন না স্যার তাহলে আপনি কিসের শিক্ষক??? স্যার আপনার শিক্ষাই গলদ আছে। ইউ নিড মোর লার্নিং।

২৩ বছর শিক্ষা দিলেন আর আসল শিক্ষায় নাই স্যার আপনার, আরে দাদা সাধারন জ্ঞান আন্ডা বাচ্চা জানে আর আপনি জানেন না! কি মুশকিল এই দেশের বিষাক্ত রাজনীতির ছোবলে আপনি শুধুই একজন হিন্দু, একজন সংখ্যালঘু।কোন নাগরিক ফাগরিক না। এই দেশে আপনার মাথা নিচু করে চোরের মত বাঁচতে হবে শিক্ষক তুমি শ্রেষ্ঠ সবার ভেবেছো কি মরেছো, শিক্ষকের মর্যাদা শুধু বইয়ের পাতায়। ওই বই পড়া বিদ্যে দিয়ে কি চলে দাদা । সৎভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাইলে দাদা চলবে কেন? পলিটিক্সে নামুন দাদা, এমপি, মন্ত্রীদের পদলেহন করুন তেল ঘি নাইলে পামওয়েল দিন, নাইলে এই একটু আধটু ফান উপভোগ করুন। স্যার পদলেহনে কি পরিমাণ উন্নতি দেখুন একজন অফিস পিওন আপনার স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি। হু হু স্যার এই জলজ্যান্ত উদাহরনের পর কি করা উচিত। উচিত হল ভুলে যান এই দেশ আমজনতার বা সৎভাবে বাঁচতে চাই তাঁদের। জাস্ট মনে রাখুন এই দেশ হেফাজতের দেশ, আসন্ন জঙ্গীদের দেশ, এই দেশ জামাত ইস্লামীদের দেশ, এই দেশ দুর্নীতিবাজদের, এই দেশ দালালদের দেশ, লুটপাটকারীর দেশ, সন্ত্রাসীদের দেশ, মাস্তানদের দেশ, এই দেশ ধর্ষকের দেশ, চাপাতিওয়ালাদের দেশ, মদীনা সনদের দেশ, মাদ্রাসার দেশ, মসজিদের দেশ, এই দেশ সবধর্মের মানুষের জন্য না। এই শিক্ষাই আপনার আসল শিক্ষা। না হলে তো এমন একটু ফান বা দুষ্টুমি মেনে নিতেই হবে স্যার। শিক্ষা তবে স্যার জানেন তো আপনার শিক্ষা – যোগ্যতা, শিক্ষকতা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নাই, আপনার ধর্ম আমাদের মাথা ব্যথা।

স্যার একটা ব্যাপারে কিন্তু আবার বলছি। এই ফানে আপনার মনে কিন্তু চোট নেবেন না, বললে চলবে না যে আপনার মন মরে গ্যাছে। আপনার এ কষ্টের কেউ ভাগিদার নাই, আপনার পরিবার ছাড়া। আপনার কষ্টের একফোঁটা কেউ লাঘব করতে পারবে না। আপনার পরিবার হয়ে পড়েছে ভীত সন্ত্রস্ত। আগামীর নিরাপদ জীবন মিলবে কিনা চিন্তায় অসুস্থ্য প্রায়। আপনার কান্না কেউ দেখবে না, আপনার বুকচিরে যাওয়া হাহাকার কাউকে ছুঁয়ে যাবে না। আ হা স্যার আপনার ধর্ম আপনার জন্য বড় বাঁধা বুঝতে হবে।

আরে স্যার খুশি থাকেন, যে অনেক দেরীতে ওদের নজর পরেছে আপনার উপর। মাঝ রাতে আপনার বস্তভিটায় হামলা করেনি, আপনার বউ মেয়েকে ধর্ষণ করেনি, আপনাকে উলঙ্গ করে রাস্তায় হাটায়নি, মাত্র কান ধরে উঠবস, হিন্দু হয়ে মুসলিম দেশে আরামসে থাকবেন একটু ফান করবে না, একটু দুষ্টুমি করবো না তাইকি হয়?! আর এই সব বিছিন্ন ঘটনা স্যার, মনে কষ্ট পাবেন না, সংখ্যাগুরুদের একটু দাদাগীরি মনে করুন না দাদা, না মানে স্যার। আরে স্যার চাপাতি দিয়ে তো কল্লা নামায়নি, বা তনুর মত আপনার কন্যা বা বোন বা মেয়ে কে ধর্ষণ করে ফেলে দেয়নি, সম্পত্তি নাম মাত্র মুল্য লিখে নেয়নি। স্যার একটু মজাকি করল, দিলে চোট নিলে মাইন্ড করবো স্যার। রোজ খবরের কাগজে পড়ছেন সংখ্যালঘুদের সাত মাসের পোয়াতি বউকে লাথি মেরে বাচ্চা পইয়দা করে দেয়, ইয়া বাচ্চাটা মরা গেল মাইরি, দেখুন স্যার বেঁচে থাকলে কি বিরাট নাম ফাটতো নো খর্চা ফর ডাক্তার হস্পিটাল জাস্ট অ্যা লাথি, বাচ্চা দিল পোয়াতি। রোজই দেখুন কেউ জবাই হচ্ছে, দু দশটা পরিবার দেশ ছাড়ছে, ভিটে মাটি দখল নিচ্ছে, চাপাতির নিচে জান যাচ্ছে কত জনের, আর ধর্ষণের কথা নাই বা বললাম, সন্তান বা স্বামীকে বেঁধে রেখে তাঁদের চোখের সামনে ধর্ষণ, এর জমি ওর বাড়ি কেয়ে নিয়া, জালিয়ে দেয়া কি না হচ্ছে। স্যার আপনার ঘর বাড়ী, টাকা-সোনা, মাল-কড়ি কি কেড়ে নিয়েছি, নিইনি না জাস্ট একটু কানধরে উঠবস। স্যার ছোট বেলায় কতবার করেছেন বলেন তো আর স্কুলে হরহামেশা ছাত্রদের দিয়ে থাকেন এই শাস্তি। ভুলে গিয়েছেন কিনা স্যার একটু টেস্ট করলাম, দেখেন স্যার উঠবস খুব ভাল ব্যায়াম। ইয়ে মানে কান ধরাটা একটা ফান। ওটা নিয়ে আবার প্রেসার হাই করে ফেলবেন না। আমাদের সাংসদের কলিজা কত বড় দেখুন আপনাকে কিন্তু স্যার নিজ বুদ্ধিতে বাঁচিয়ে দিল না হলে তো এলাকার দলীয় খচ্চর কর্মীগুলো দিয়ে এমন মার দিতে যে পোড়ানোর জন্য কিছু বাকি থাকতো না। দেখুন দাদা মানুষের জীবনে কত ধরনের অভিজ্ঞতা হয়, এখন থেকে এটা শেখাবেন স্যার।

ওহ আবার ভুল করে ভাব্বেন না যেন, সরকার প্রধানের কানে এই দুস্টুমির খবর যাবে। হে হে হে স্যার তাহলেই বিলা, আমাদের সাংসদ সেলিম ওসমান কিন্তু শামীম ওসমানের ভাই। শামীম ওসমান কে জানেন তো? আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ছোটভাই। তো কি দাঁড়ালো ব্যাপারটা। এই সরল অংক না বুঝলে স্যার আপনার মাস্টারি থাকা কি উচিত! শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে এমন সাহসি কেউ নাই ক্যা, উনি তাইলে কিন্তু মারতে ছুটে যাবে, কিয়ের ক্যামেরা আর সাংবাদিক। কি ফান্ডা হু হু বাবা উনি সাংবাদিকদের তার পায়ের কাছে বসে থাকা সারমেয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবেন না। তাই কেউ মুখ খুলেই উনি তার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলে দেবে। নারায়নগঞ্জে সেভেন মাডার ভোলেননি তো, কি খেল দেখালেন শামীম বস, শুধু পাটি ক্ষমতায় না থাকলে উনিও থাকে না দেশে এই যা। পারলে স্যার সাংসদ সাহেব কে একটা থ্যাঙ্কফুল ধন্যবাদ দিয়েন, কি বুদ্ধি দিয়ে আপনার জানটা বাঁচালো। কি ব্রেন রে মাইরি। একটা থ্যাংক ইউ তো সে পাবেই। স্যার মানে মানে করে এই দুষ্টুমি কে একটু মিস্টি চোখে দেখুন, ফান মনে করুন না হলে কিন্তু খুব মাইন্ড করবো দাদা।

বিনীত
আপনার স্টুডেন্ট
গোধূলি খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *