একটি বায়োমেট্রিক প্রেম কাহিনী

দুপুর একটা,মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে সূর্য মাথার দুই হাত উপরে চলে আসছে। ছাতার ডান্ডাও হাত দিয়ে ধরে রাখা দায়,কারন গরমে ছাতার মেটালিক ডান্ডায়ও প্রায় ১১৫ ডিগ্রির মত জ্বর উঠে গেছে,তাই মোকছেদ ছাতাটা ব্যাগের মধ্য ঢুকিয়ে ছায়ায় হাঁটার চেষ্টা করছে। রাস্তার পাশে নানারকম ফলের জুস উইদ বরফ কুচি দেখে মোকছেদের জিবে জল এসে গেছে,সময় পরিবর্তন হইছে,এখন তেতুলের বদলে ঠান্ডা জাতীয় কোন পানীয় দেখলেই পুরো শরীরে একটা শিহরন জাগে,মনে হয় ঠান্ডা কোন কিছুর দিকে তাকায়া থাকলেও শরীরে একটু আরাম লাগে। মোকছেদ মানিব্যাগ বের করে দেখে কয়েকটা পাঁচ টাকার সিকি আছে,সে কোনকিছুর চিন্তা না করেই পরপর দুই গ্লাস শরবত খেয়ে ফেলে। খাওয়ার পর মোকছেদ কিছুটা অস্বস্থি মিশ্রিত শান্তি লাভ করে। অস্বস্থি মিশ্রিত শান্তি মানে হল মোকছেদের শূচিবায়ু আছে,তাই সে কখনো বাইরের কোন কিছু খায় না,আর ঢাকাশহরের বুড়িগঙ্গার পানির শরবত সেটাতো কল্পনাই করা যায় না,আবার গরমে এই ঠান্ডা পানির শরবত খেয়েও শরীরে কিছুটা আরাম অনুভব হয়,তাই অস্বস্থি মিশ্রিত শান্তি। যাইহোক,মোকছেদ গুটি গুটি পায়ে বড় বড় দালানের ছায়ায় ছায়ায় মেসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। প্রচলিত আছে ভক্তিতে মুক্তি মিলে,মোকছেদের শরবতের প্রতি খুব একটা ভক্তি ছিল না, তাই মেসের কাছাকাছি আসতেই মোকছেদের পেট মোচড় দিয়ে উঠে। কোন মতে সে তিনতলায় উঠে সরাসরি বাথরুমে। এরপর মোকছেদের সাথে বাথরুমের সুপার এফ এন এফ হয়ে যায়। একদিক দিয়ে অবিরত ওরস্যালাইন চলছে আর তা কিছুক্ষনের মধ্যই অন্যদিক দিয়ে ওরস্যালাইন রুপেই বের হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক,ঘন্টা তিনেক পর কোন মন্ত্রী-মিনিস্টার বা প্রশাসন বা পুলিশের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অবস্থা কিছুটা অনুকূলে চলে আসে,যা বাংলাদেশে বিরল। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মোকছেদ বেলকুনিতে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সারাদিনের ধকল দখিনা বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে। ঠিক এই সময়ই জরিনার ফোন কল। মোকছেদের এবার পেটের বদলে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। ইদানিং জরিনার কল মানেই আতঙ্ক,হয় সে বলবে চল ফুঁচকা খাই নাহয় বলবে চল গাউছিয়া যাই কিছু কেনাকাটা দরকার আর সবচেয়ে বড় আতংকের ব্যাপার যেটা সেটা হল ওকে আজ কোন এক পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে এই কথা বলা। মোকছেদ ভীরু ভীরু আঙ্গুলে সবুজ বাটন টিপে আর ওপাশ থেকে কান্নার সুর। মেয়ে মানুষের এই এক সমস্যা,কথা বলার আগেই ভ্যঁ ভ্যঁ নাহয় কথা বলা উইদ ভ্যঁ ভ্যঁ। যেদিনই পাত্রপক্ষ জরিনাকে দেখতে আসবে সেদিনই সে ফোন দিয়ে নাক -চোখ- জ্বিহ্বার অসাধারণ সংমিশ্রনে দারুন এক সুরের ঝংকার তুলে কথা বলবে আর কাঁদবে। এতে করে কথাও ঠিকমত বোঝা যায় না আবার কান্নাটাও ঠিক মন থেকে অনুভব করা যায় না,ফলে মেজাজের টেম্পারেচার বাড়তে থাকে। কিন্তু আজ পুরাই ব্যতিক্রম,জরিনা একনাগাড়ে কেঁদেই চলছে,মোকছেদেরও কেমন যেন কান্না চলে আসে। মোকছেদ জিঙ্গেস করে কি হয়েছে। জরিনা কোনমতে কান্না থামিয়ে বলে,আজ সন্ধ্যায় তাকে পাত্রপক্ষ দেখবে এবং সাথে সাথে বিয়েও হবে। এমনিতেই শরীরে লবন-পানির ঘাটতি তার উপর আবার মস্তিষ্কে চাপ,সব মিলিয়ে মোকছেদের মূর্ছা যাওয়ার মত অবস্থা,তবে আশার বাণী হচ্ছে জরিনা মোকছেদের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সব ব্যবস্থাই করে রাখছে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার মা-বাবা দুজনই আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে,হঠাৎ করেই বিয়ে তাই অাত্নীয়-স্বজনের উপস্থিতিও খুব একটা থাকবে না,যারা আসবে তারা সাড়ে সাতটার আগে আসবে না। তাই সাতটার সময় মোকছেদ জরিনার বাসার সামনে এসে ফোন দিলেই সে বেরিয়ে আসবে। মোকছেদও তার এক আত্নীয়ের বাড়ি ঠিক করে রাখে যেখানে সে জরিনাকে নিয়ে আপাতত কিছুদিনের জন্য উঠবে। সন্ধ্য সাতটা। মোকছেদ জরিনার বাসার সামনে। তার বুকের ভিতর টিপ টিপ করতেছে,মোকছেদ অনুভব করে বুকের সাথে সাথে পেটের ভিতরেও টিপ টিপ করতেছে। অতি টেনশনে মোকছেদের পেটের টিপ টিপ বুকের টেনশনমিশ্রিত টিপ টিপের সাথে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে। একটা সময় পেটের ব্যাথা ইজ গ্রেটার দ্যান বুকের ব্যাথা হয়ে যায়,মোকছেদের মনে হয় একবার বাথরুম থেকে ছোট একটা ট্যুর দিয়ে আসলে হয়ত ভালো লাগত। কিন্তু এই মুহুর্তে এটা সম্ভব না,আগে জরিনাকে নিয়ে আসতে হবে তারপর পৃথিবীর যে কোন রুমেই ট্যুর দেয়া যাবে।মোকছেদ মোবাইলটা হাতে নেয়। তার পেট,বুক,হাত সমানতালে কাঁপতে থাকে। কাঁপা কাঁপা হাতেই সে জরিনার নাম্বারে ডায়াল করে। ওপাশ থেকে একটি নারী কন্ঠ ভেসে আসে,” আপনার সিমটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিষ্ট্রেশন করে না থাকলে…… “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *