সন্ত্রাস দমনে একাত্বতা

সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা এখন বিষফোড়া হয়ে দাড়িয়েছে বিশ্ববাসির কাছে। ভারতীয় উপমহাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এমনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যে, তা এই অঞ্চলের প্রায় দেড়শ’ কোটি মানুষের জন্য ভীষণ উদ্বেগের কারণ হয়েছে। এটা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এটা দেশের সাধারণ মানুষ শুধু নয়, পেশাজীবীরাও এই হামলার শিকার। বাংলাদেশ-ভারত জঙ্গীবাদ নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে এবং তা বানচাল করার লক্ষ্য থেকেই বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যা চালানো হচ্ছে। এমনকি পেট্রোলবোমাসহ নাশকতামূলক তৎপরতাও চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গীগোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে নাশকতা চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধেও স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে জোরালো রাষ্ট্রীয় অবস্থান নিয়েছে। আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীপনা বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ের প্রতি ভারতের রয়েছে জোরালো সমর্থন। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মূলত প্রতিবেশী দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের। দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনের জন্য উভয় দেশের মধ্যে যে কাঠামো রয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা দরকার। এমনিতেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে বলে আশা করা যায় সম্পর্কের গভীরতায়। একবিংশ শতকের বাস্তবতা সামনে রেখে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে দু’দেশকে একসঙ্গে চলতে হবে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দুটি দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা আমাদের। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *