থ্যাংক ইউ মিস্টার আল্লাহ

আল্লাতালা, আফটার অল, মজলুমের পক্ষে!
মজলুম যদি ফ্যালে আঁখিজল
খোদার আরশ করে টলমল
কহিয়াছেন নজরুল।
আল্লাতালা তো আসলে নিপাট ভদ্রলোক। চিরকালই তিনি আমাদের পক্ষে ছিলেন, এখনও আছেন।
যদিও এতোদিন ধরে চাপাতি দিয়ে আমাদেরই কুপিয়ে কচুকাটা করা হচ্ছিলো। আল্লাতালা আর থাকতে না পারে অক্করে আসমানী চাপাতি লইয়া আগাইয়া আসিয়াছেন। আসমান থেকে বজ্ররূপে সেইগুলি আসসালামে’র শান্তিস্বরূপ বর্ষিত হয়েছে।
লেটেস্ট খবরঃ বজ্রাঘাতে ৪৭জন নিহত।
এই সাতচল্লিশজনের প্রত্যেকেই তো চাপাতিপ্রপাতে উল্লাসে মাতে! এরা হচ্ছে আমজনতা। চাপাতি ফেটিশে ভোগা ছাড়া এদের আর কোনও কাজ নেই। এইসব সোহাগ নূরুন্নাহার নাবিলা নমরূদেরা আছে বলেই এই দেশে এত রক্তপাত হয়! রক্তপাতের ফাঁকে ফাঁকে আকাশের এলসিডি মনিটর স্ক্রীনে আল্লাতালার খোয়াবে কেরামত ইয়া ঠাডাউল্লা বজ্রপাতে’র বিজ্ঞাপন বিরতি না আসলে তো নাটকই বোরিং হয়ে যায়!
চাপাতিপ্রেমীদের তাদের আল্লা বজ্রদড়িতে গিঁট মেরে চ্যাংদোলা করে বেহেশতে উঠিয়ে নিচ্ছেন – এতে সবারই মঙ্গল!
ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। চাপাতি চালালে আল্লার তরফ থেকে কিছু বজ্রনাদ এ-দেশে পড়তেই পারে! এতে করে আল্লাকেও বেকসুর খালাস দেয়া যায়। অন্তত আল্লা যে চাপাতিবাজি সমর্থন করে না, সেটার কিছু উটকো প্রমাণ তৈরি হয়, নিদেনপক্ষে। আল্লাতালার স্বহস্তে সাপ্লাইকৃত ইলেকট্রিক শক! ইসিটি থেরাপি!
মিকাইল ফেরেশতা হচ্ছেন আল্লাতালা’র বৃষ্টিপাতের ডিপার্টমেণ্টের অফিসার। এইটা আজরাইল আর মিকাঈলের যৌথ প্রযোজনা!
আল্লার রহমতে হাবুডুবু খাওয়া সাতচল্লিশ আল্লার বান্দা’র আত্মা শান্তি লাভ করুক!
কোনও আল্লার বান্দার এই নিয়ে কোনও নালিশ থাকলে আল্লার কাছে সে আকুল আবেদন করতেই পারে মিকাইল ফেরেশতাকে কান ধরে উঠবস করাবার। অবশ্য মিকাইলের যে হাবভাব, আজকাল সে মাইকেল হয়ে যাইতেছে। ডিজ্যুস পোলাপানের নইলে ধর্মে মতি হয় না!

অতএব, তোমরা তার আর কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করিবে?

ধর্মের কল তো বাতাসে নড়ে! আজকাল বজ্রপাতেও আকাশের চাপকল নড়ানড়ি করে।
কিন্তু, আল্লাতালার দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া। সাতচল্লিশটা পোটেনশিয়াল চাপাতিবাজ দুনিয়া থেকে বিদায় করার জন্য!
সেন্সিটিভিটি’র দায় শুধু আমাদের একার নয়। সেন্টিটিভির দায়, প্রতিবাদের দায়, পাবলিকেরও।
সেই পাবলিক বৈশাখের শুরু থেকেই দাবদাহে জেরবার হয়ে বৃষ্টির মুনাজাতে ব্যস্ত ছিলো। এই বৈশাখেই, যে বৈশাখে খুন হয়েছে জুলহাজ মান্নান, তনয় মাহবুব, রেজাউল করীম সিদ্দিকী। যে বৈশাখে জবাই হয়েছে এক হিন্দু দর্জি, বৌদ্ধ মঠের এক নিরীহ ভিক্ষু।
যতদিন না এই দেশের পাবলিক চাপাতি ছাড়তেছে, ততদিন আল্লাতালা তার শিলাবৃষ্টি অব্যাহত রাখিবেন, এইটাই প্রত্যাশা।

আল্লা ম্যাগি স্যুপ খাওয়াইয়া তুই
স্যালাইন পিলাই দে
ঘ্যাঙরঘ্যাঙর ঘ্যাঙরঘ্যাঙ সব বন্দ কইরা দে
ঠাডার কোপ দে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *