সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গেঃ

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ এবং বাতিল ঘোষনা করেছে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। আদালত এই সংশোধনীকে ‘ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই আদেশকে সাধুবাদ জানাই।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেয়া হয়। যেটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে। সাংসদরা চাইলে যেকোন সময় যেকোন বিচারপতিকে অভিশংসন বা অপসারন করতে পারতেন।

বর্তমান সংসদের সাংসদরা যেভাবে বিচার বিভাগ এবং বিচারকদের সমালোচনা করেন তাতে এই সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার সন্দেহ অমূলক নয়। সংসদে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সাংসদরা প্রতিনিয়ত বক্তব্য রাখছেন। আজ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর আইনমন্ত্রী সহ অন্যান্য সাংসদরা যেভাবে রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেটা স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি অবজ্ঞা করা ছাড়া আর কিছু নয়। আইনমন্ত্রী শতভাগ নিশ্চিয়তার সাথে বলেছেন, এই আদেশ আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যাবে। এতে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি, বিচার বিভাগ কি সরকার দ্বারা প্রভাবিত হয় কিনা।

বানিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘হাইকোর্ট সংসদ প্রণীত আইন বাতিল করলে এটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে।’ এছাড়া তিনি আরও বলেছেন, ‘ ‘যাঁরা বিচারক, তাঁদের আমরা চিনি, জানি। আমরা ক্ষমতায় বলেই তাঁরা বিচারক হয়েছেন।’ তোফায়েল আহমেদ অনেক অভিজ্ঞ সাংসদ। আমার প্রশ্ন তার কানে পৌঁছাবে না। তবু আমি জানতে চাই, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীও কিন্তু সংসদ থেকে পাস হয়েছিলো, যা আদালত বাতিল করেছে। তখন তো আপনি এমন কথা বের করেননি। বিচারদের আপনারা নিয়োগ দিয়েছেন বলে কি তারা আপনাদের মনের মতো করে রায় দিবে??

স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকবে বলে আমার প্রত্যাশা। আর আপিল বিভাগ যদি এই সংশোধনীকে বৈধতা দেয়, তাহলে সেটা হবে জাতির সাথে, ষোল কোটি মানুষের সাথে ‘ঐতিহাসিক প্রতারণা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *