শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে

মূলধারার রাজনীতিতে শিশু রাজনীতি নামে কিছু না থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতের অঙ্গ- সংগঠন ছাত্রশিবির স্কুল পর্যায় থেকে শিশুদের রাজনীতিতে রিক্রুট করছে। নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও সহিংস কর্মসূচিতেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

মন্ত্রীদের সংবর্ধনা দেয়ার জন্য যখন শিশুরা পথে দাঁড়িয়ে থাকে তখন আমরা সবাই প্রতিবাদ করি। পত্রিকার লীড নিউজ হয় সেই খবর। মাদ্রাসার শিশুদের দিয়ে যখন মিছিল করানো হয় তখন আমাদের সেই বিবেক কোথায় থাকে!

ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে শিশুদের সাহায্য দেয়া হয়েছিল। ভাল উদ্যোগ। কিন্তু এ সাহায্য/সহযোগিতা যে রাজনৈতিক স্বার্থে করা হয়েছিল তা দেখে অবাক হয়েছি! সহায়তার নামে মিছিলে আনা মানবতা নয়, পশুত্ব।

জামায়াতে ইসলামী জানে, যেকোনো সচেতন ব্যক্তি জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না। এ কারণে ছাত্রশিবির নামের সংগঠনটির মাধ্যমে তারা স্কুল/মাদ্রাসার শিশুদের দলে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে। মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে এসব কোমলমতি শিশুদের মস্তিষ্ক ধোলাই করে তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করছে।

সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে জামায়াত-শিবির যখন সহিংসতা ও নৈরাজ্য চালায় সেসব কর্মসূচিতেও শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি, চাঁদপুর ও সাতক্ষীরায় ৬ষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণীর দুজন ছাত্র নিহত হয়েছিল।

আমাদের দেশে শিশুশ্রম নিয়ে মিডিয়া, সুশীল, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং মানবাধিকার কর্মীদের যথেষ্ট সচেতনতা দেখা যায় কিন্তু শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে নীরব কেন? বিশ্বাস করতে চাই না যে, আন্তর্জাতিক মহলের কারণে তারা শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার। শিশুদের যখন মিছিলে আনা হয়, তখন কি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের কিছু করার নেই?

ছাত্রশিবির সারাদেশে যেভাবে শিশুদের তাদের অপ-রাজনীতিতে যুক্ত করছে তার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে, সকলের সচেতনতা এবং প্রতিবাদ করা একান্ত আবশ্যক।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

২ thoughts on “শিশুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *