প্রচন্ড দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন

প্রকৃতির খাম-খেয়ালী আচরণে ওষ্ঠাগত প্রাণী জীবন। কোথাও টানা বৃষ্টি তো কোথাও পানির জন্য চরম হাহাকার। কোথাও শীত, আবার কোথাও তীব্র গরম। কড়া তাপে পুড়ছে আফ্রিকা, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ। ইতিমধ্যে ভারতে তীব্র তাপদাহে মারা গেছে ১৬০ জনের বেশি লোক। গরমের রেকর্ড ভেঙেছে থাইল্যান্ডে। গত ৬৫ বছরের মধ্যে দীর্ঘ তাপদাহ চলছে দেশটিতে। তীব্র পানি সংকটে রয়েছে ইথিওপিয়া। বাংলাদেশেও বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। প্রচন্ড দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এল নিনোর প্রভাবে জলবায়ুর মারাত্মক পরিস্থিতির শিকার বিশ্বের প্রায় ছয় কোটি মানুষের। এল নিনো হচ্ছে বায়ুমন্ডলীয় এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের সমুদ্রগুলোর মাঝে একটি পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তন। এর প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার লক্ষণ দেখা দেয় এবং আবহাওয়ার নিয়মিত ধরণগুলোতে পরিবর্তন দেখা দেয়। এল নিনো হচ্ছে পর্যায়বৃত্তের উষ্ণ পর্যায়, আর লা নিনা হচ্ছে শীতল পর্যায়। পর্যায়বৃত্ত এই পরিবর্তনের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই, তবে প্রতি ৩ থেকে ৮ বছরের মাঝে দেখা যায়। এল নিনো বন্যা, খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এল নিনো ২০১৬ সালেও থাকবে বলে মতামত দিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ এবং ভারতের বিশাল এলাকাজুড়ে এল নিনোর প্রভাবে এই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে না। এই সময়ে বঙ্গোপসাগর থেকে দখিনা বাতাস দেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে বজ বৃষ্টি সৃষ্টি করে। এবার হঠাৎ করে পশ্চিমা বায়ু এই সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ওই দখিনা বায়ুকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজারসহ কয়েকটি জেলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে আর সারা দেশ শুষ্ক খটখটে আবহাওয়া বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *